বাংলাদেশ থেকে এখন ল্যাপটপ রপ্তানি করা হচ্ছে

এখন বাংলাদেশে তৈরি ল্যাপটপ কম্পিউটার রপ্তানি হবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জল করতে বিশ্ববাজারে প্রবেশ করলো ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত ওয়ালটন ল্যাপটপ। শুরুতেই এই ল্যাপটপ রপ্তানি হচ্ছে নাইজেরিয়ায়। পর্যায়ক্রমে যাবে নেপাল, ভূটান এবং পূর্ব তিমুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

গত মার্চ মাসে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘ইনগরেশন সেরিমনি অব ওয়ালটন ল্যাপটপ এক্সপোর্টেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নাইজেরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ওয়ালটনের আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

ওয়ালটনের পক্ষে রপ্তানি চুক্তিতে সই করেন ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম। নাইজেরিয়ার পক্ষে ছিলেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ওয়েস্টার্ন বেজ নাইজেরিয়া লিমিটেডের পরিচালক ডেভিড নোনে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম।

ওয়ালটনকে অভিনন্দন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের নীতি-সহায়তা কাজে লাগিয়ে ওয়ালটন এগিয়ে যাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে তারা প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন করে দেশ-বিদেশে সুনাম কুড়িয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে রপ্তানিকারক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কম্প্রেসার এবং ল্যাপটপের মতো মানসম্পন্ন নতুন প্রযুক্তির বৃহৎ পণ্য উৎপাদনের তারা সফল হয়েছে। ওয়ালটনের উত্তরোত্তর সাফল্যও কামনা করেন মন্ত্রী।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ওয়ালটন ল্যাপটপ রপ্তানির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি স্বপ্ন পূরণ হলো। তিনি চেয়েছিলেন দেশেই ল্যাপটপ কম্পিউটারের মতো প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন হবে এবং মেড ইন বাংলাদেশ লেখা নিয়ে তা রপ্তানি হবে। ওয়ালটন আজ তা সফল করলো।

ওয়ালটন প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনে যে সাফল্য দেখিয়েছে তা অন্যান্য দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকরণীয় বলে মন্তব্য করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।
এ বছরের ১৮ জানুয়ারি গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ড্রাস্ট্রিজে চালু হয়েছে দেশের প্রথম কম্পিউটার উৎপাদন কারখানা। যেখানে উৎপাদিত হচ্ছে উচ্চমানসম্পন্ন ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও মনিটরসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য। এই কারখানার মাসিক উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ হাজার ইউনিট ল্যাপটপ, ৩০ হাজার ইউনিট ডেস্কটপ এবং আরো ৩০ হাজার ইউনিট মনিটর। এর অর্থ বর্তমানে দেশের ল্যাপটপের চাহিদার পুরোটাই পূরণে সক্ষম ওয়ালটন।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানায়, ইন্টেল- মাইক্রোসফট এবং বিজয় বাংলার সম্বন্বয়ে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ল্যাপটপ কম্পিউটার উৎপাদন করছে ওয়ালটন। যার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রপ্তানি আদেশ আসছে। প্রথম রপ্তানি আদেশ এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকার অন্যতম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ নাইজেরিয়া থেকে। শুরুতে ৫০০ ইউনিট ল্যাপটপ নাইজেরিয়া যাচ্ছে। প্রতিবেশি দেশ নেপাল থেকেও ল্যাপটপ রপ্তানির আদেশ পেয়েছে ওয়ালটন। ভূটান এবং পূর্ব তিমুরেও ওয়ালটন ল্যাপটপ রপ্তানির বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। সব মিলিয়ে প্রযুক্তিপণ্যের জগতে ‘সময় এখন বাংলাদেশের’।