ভ্রমণ কাহিনী : “নরসিংদীর অপরূপ জমিদার বাড়ীতে একদিন সাথে মেঘনায় নৌকা ভ্রমন”

ফরহাদ মিয়া

সবজি, লেবু, লটকন, কলা; প্রাচীন ঐতিহ্য, আর তাত শিল্পের জেলা!
এই আমাদের নরসিংদী!
প্রিয় নরসিংদী

ব্যাস্ত ঢাকায় সপ্তাহজুরে কাজের চাপে যখন মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যায় তখন সময় করে স্বপরিবারে বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কোথায় ঘুরে আসলে মন্দ কি! এতে সিংহভাগ মানুষেরই প্রধান বাধা হলো সময়, যাদেরকে সময়ের ফ্রেমে বন্ধী থাকতে হয় তাদের জন্য ঢাকার অদুরে একদিনের ট্যুরের জন্য নরসিংদী আদর্শ পর্যটন এলাকা!

বালাপুর নবীন চন্দ্র সাহার বাড়ী
ছবি: মামুন খান

অনেকেই ইচ্ছে থাকা সত্বেও সঙ্গীর অভাবে বের হতে পারেন না। সেক্ষেত্রে একমাত্র উপায় হল ফেসবুকে গ্রুপ করে কোথাও বেড়িয়ে পরা। সে চিন্তা থেকেই নরসিংদীর স্থানীয় কয়েকজন ট্রাভেলার মিলে নরসিংদীকে ট্রাভেল কমিউনিটিতে পরিচিত করার প্রয়াসে “ট্রাভেলারস অফ নরসিংদী’র” যাত্রা শুরু করি। এরই ধারাবাহিকতায় বিগত মার্চের ৩১ তারিখে নরসিংদীর একাংশে (পলাশের ডাংগা এবং মাধবদির বালাপুর) অবস্থিত কয়েকটি পুরাতন জমিদার বাড়ীর সাথে বিকালে মেঘনা নদীতে নৌকা ভ্রমনের একটা ইভেন্ট তৈরি করি যা ফেসবুকে ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয়। যার মুল উদ্দেশ্য ছিলো নরসিংদীর প্রাচীন ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে লোক সম্মুখে তুলে ধরা।

ছবি: মামুন খান

ইভেন্টের দিন যত ঘনিয়ে আসছিলো ভ্রমন প্রিয় মানুষের আগ্রহ তত বাড়ছিলো, কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কেউ আবার একাই আমাদের সাথে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী হয়। নারী-পুরুষ মিলে আমরা ৯১ জন যাত্রা সঙ্গী পেয়ে যাই। আসন সল্পতার কারনে ব্যাপক আগ্রহ থাকা সত্বেও আমাদের সাথী হতে না পারার দুঃখও ছিলো বেশ কয়েক জনের মনে!

ট্যুরের রেজিস্ট্রেশন শেষ! এবার দিনক্ষন গোনার পালা, কারোই যেন তর সইছিলোনা! কেউ বলে শুক্রবার আসেনা কেন? আবার কেউ বলে মনে হচ্ছে আজকেই শুক্রবার! বাস মিস হয়ে যেতে পারে সেই ভয়ে বৃহস্পতিবার রাতে আবার অনেকের নাকি ঠিকমত ঘুমই হয়নাই!

বালাপুর নবীন চন্দ্র সাহার বাড়ী…
ছবি: মামুন খান

এলো সেই কাংক্ষিত ৩১ মার্চ, সকালে ঘুম থেকে উঠে ফেসবুকে লগইন করতেই দেখি সবাই যে যার মত করে নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে মহাখালী বাস স্ট্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে গিয়েছে! কেউ কেউ আবার নির্ধারিত সময়ের এক ঘন্টা আগেই এসে হাজির! সবার একান্ত সহযোগীতায় আমরা নির্ধারিত সময়ে দুটি বাসে করে নরসিংদীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই।
ব্যাস্ত শহরের কোলাহল পিছনে ফেলে গ্রামের সবুজ মাঠের মাঝ খান দিয়ে ছুটে চলছি আমরা…

গানে, গল্পে আর উল্লাসে ফেটে পরছিলো সবাই! কালকেও যে সবাই সবাইকে চিনতাম না আজকে মনে হচ্ছে সবাই কত জনমের আপনজন। নিজেরা নিজের মধ্যে পরিচিত হতে খুব বেশী সময় লাগেনি কারো।
বাস চলছে, চলছে অদম্য কিছু তরুন-তরুনীর উচ্ছাস! দেখতে দেখতে গন্তব্যের কাছাকাছি চলে এসেছি আমরা।
আমাদের প্রথম গন্তব্য “জমিদার লক্ষন সাহার বাড়ী”।

লক্ষন সাহার বাড়ীর পুকুর
ছবি: মামুন খান

তৎকালীন ভারতবর্ষে এই এলাকাটি ছিল দেবোত্তর হিসেবে। মূলত দেবোত্তর বলতে বুঝায় ওয়াকফাহ্ জমি। ঐ সময়ে দেবোত্তর জমি হলে জামিদারকে খাজনা দেওয়া লাগতোনা। এই জমিদার বাড়িটি তৈরি করেছিলেন জমিদার লক্ষণ সাহা। মূলত তিনি ছিলেন প্রধান জমিদারের অধিনস্থ সাব-জমিদার। জমিদার লক্ষণ সাহার ছিল তিন ছেলে (নিকুঞ্জ সাহা, পেরিমোহন সাহা ও বঙ্কু সাহা)। বঙ্কু সাহা ভারত ভাগের সময় এখান থেকে ভারতে চলে যান। থেকে যায় দুই ভাই। পাকিস্থান থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হওয়ার কিছু পূর্বে নিকুঞ্জ সাহাও ভারতে চলে য়ায়। তখন থেকে যায় পেরিমোহন সাহা। এই পেরিমোহন সাহার ছিল এক ছেলে, তার নাম ছিলো বৌদ্ধ নারায়ন সাহা। বৌদ্ধ নারায়ন সাহার কাছ থেকে বাড়িটি ক্রয় করেন আহম্মদ আলী (উকিল)। মূলত আহম্মদ আলী সাহেব উকালতি পেশার সাথে সংযুক্ত ছিলেন বিধায় বর্তমানে এই জমিদার বাড়িটি উকিলের বাড়ি হিসেবেই বেশি পরিচিত।

বালাপুর নবীন চন্দ্র সাহার বাড়ীর একাংশ
ছবি: মামুন খান

একটি পূর্ণাঙ্গ শৈল্পিক জমিদার বাড়ি, এর পাশেই ছোট্ট আরেকটি কারুকার্য খচিত ঘর, একটি অর্ধনির্মিত প্রাচীন বাড়ি। জমিদার বাড়ির পেছনে রয়েছে গাছগাছালি যুক্ত বাগান। জমিদার বাড়ি সহ এই বাগানের চারিদিকটা উঁচু প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত। রয়েছে সেই সময়ই তৈরি করা জমিদার বাড়ির সুন্দর একটি পুকুর আর সান বাধানো পুকুর ঘাট। তাছাড়া পুকুর ঘাটে ঢুকার সময় নিচে তাকালে দেখতে পাবেন তৎকালীন আমলের মূল্যবান কষ্টি পাথরের ঢালাই। পুকুরের চারপাশে পূঁজা করার জন্যে চারটি মঠ ছিলো। ২-৩ টা নষ্ট হয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে। একটা অবশিষ্ট আছে যা পুকুর ঘাটেই দেখা মিলবে।

সকাল ১১ টা নাগাদ আমরা জমিদার লক্ষণ সাহার বাড়ীতে পৌছে যাই। বাড়ীর সৌন্দর্য আর শৈল্পিক কারুকার্জ দেখে কেউ কোন বাধা মানছিলোনা! যে যার যার মত খুটেখুটে বাড়ীর সমস্ত সৌন্দর্য অবলোকন করছিলো।

লক্ষন সাহার বাড়ী
ছবি: মামুন খান

বাড়ীর দুইটি বারান্দা ছিলো আকর্ষণের মূল কেন্দবিন্দু। চারদিকে সুনসান নিরবতা! মাথার উপরে ভড়া পুর্ণিমার জোয়ার! হুহু করে বয়ে যাওয়া দক্ষিনা বাতাস! বেলকনিতে বসে কফির মগ হাতে পিদিমের আলোয় প্রেয়সীর রুপের সুধা পান! মনে হচ্ছিলো ১০০+ বছর আগের জমিদারদের রোমান্টিকতার মাত্রাটা বোঝার চেষ্টা করছিলো সবাই!

পাশেই আরো দুইটি পুরাতন বাড়ী দেখে এসে লক্ষন সাহার বাড়ীর সামনের সবুজ গালিচার উপরে দুপুরের খাবার (মোরগ পোলাও) বিতরন! সবাই যে যার যার মত করে মাটিতে লেটিয়ে বসে পরলো! শহুরে জীবনে যাদের ডাইনিং টেবিলে খাবার অভ্যাস তারা কিনা কোন কিছু চিন্তা না করে সবুজ ঘাসের গালিচায় বসে আপন মনে খাবার খাচ্ছিলো! গ্রামের ক্লান্ত ও ক্ষুদার্ত কৃষক যেভাবে ফসলের মাঠে বসে কৃষাণীর হাতে বয়ে নিয়ে আসা খাবার পরম তৃপ্তি ভরে খায় সে দৃশ্য বারবার আমার চোখে ভাসছিলো!

বালাপুর নবীন চন্দ্র সাহার বাড়ী..
ছবি: মামুন খান

এবার আমাদের যাত্রা পাঁচদোনায় অবস্থিত পবিত্র কোরান শরীফের অনুবাদক “ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাস্তুভিটার” উদ্দেশ্যে। বাড়ীটির সংস্কার কাজ চলছে বিধায় এর ভিতরে প্রবেশ করতে পারিনি। বাইরে থেকে সংস্কার কাজ এবং বাড়ীর ইতিহাস দেখা শেষে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য মাধবদীর “বালাপুর নবীন চন্দ্র সাহার বাড়ী”।

নরসিংদীর সদর উপজেলার পাইকারচর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর তীরে বালাপুর গ্রামে জমিদার নবীন চন্দ্র সাহা প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বালাপুর জমিদারবাড়ি। জমিদার নবীন চন্দ্র সাহা সেই সময় প্রায় ৩২০ বিঘা জায়গার ওপর অত্র অঞ্চলের সবচেয়ে বড় এবং বিলাসবহুল জমিদার বাড়িটি নির্মান করেছিলেন। বালাপুর জমিদারবাড়ির ভবন গুলোর চমৎকার কারুকাজ অত্যন্ত সুনিপুণ নির্মাণশৈলীতে তৈরি যা শত শত বছর পরও ঐতিহ্যপ্রেমী এবং ভ্রমণপিপাসু পর্যটককে মুগ্ধ করে। স্থাপত্যকলার দৃষ্টিনন্দন এক নিদর্শন ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সৌন্দর্যমণ্ডিত বালাপুরের জমিদার নবীন চন্দ্র সাহার বাড়ী। বালাপুর জমিদারবাড়ির এই প্রাচীন ঐতিহ্য এক গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন।

বালাপুর নবীন চন্দ্র সাহার বাড়ী.
ছবি: মামুন খান

ইতিহাস থেকে যতটুকু জানা যায় জমিদার নবীন চন্দ্র সাহা ছিলেন ঐতিহ্যবাহী বালাপুর জমিদারবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা এবং অত্র অঞ্চলের প্রধান জমিদার। নবীন চন্দ্র সাহার ছিল ৩ ছেলে। তাদের নাম কালীমোহন সাহা (জমিদার কালীবাবু), আশুতোষ সাহা, মনোরঞ্জন সাহা এদের মধ্যে জমিদার কালীমোহন সাহা ছিল পরিবারের প্রধান। জমিদার নবীন চন্দ্র সাহা মারা যাওয়ার পর কালীমোহন সাহা (কালীবাবু) জমিদার হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহন করেন। জমিদার নবীন চন্দ্র সাহা সেই সময় একটি বিলাসবহুল ভবন নির্মাণ করেন এ বাড়িতে। এই বিলাসবহুল নান্দনিক কারুকাজ সমৃদ্ধ ভবনটিতে ১০৩ টি কক্ষ ছিল। সেই সময় যার প্রতিটি কক্ষেই মোজাইক করা ছিল । দরজা, জানালা গুলো ছিল ফুল লতাপাতা সহ বিভিন্ন মনোমুগ্ধকর কারুকার্যে খচিত। জমিদার বাড়ির পশ্চিমে রয়েছে পুকুর, সান বাঁধানো পুকুর ঘাট, রয়েছে কারুকার্য সমৃদ্ধ দুর্গাপূজার মন্ডপ যেই কারুকাজ দেখে জমিদারবাড়ির অতীত ইতিহাস চোখের সামনে ভেসে উঠে, সেই সময় অতিথিদের থাকা-খাওয়া ও ঘুমানোর জন্য ছিল আরও একটি সুন্দর ভবন। তার পাশেই রয়েছে ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী বালাপুর নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় এবং স্কুলের সামনে রয়েছে একটি বিশাল আকারের খেলার মাঠ। এ বাড়ি থেকে কিছু দূরে মেঘনা নদীর তীরে এ আরো একটি কারুকার্য খচিত একতলা বিশিষ্ট একটি বিশাল দালান ছিল বলে জানা যায়। এলাকাবাসীর মুখে শুনা যায় ভারতের কলকাতা থেকে ষ্টিমার এসে এখানে মালামাল খালাস করত। এই জায়গাকে বর্তমানে বলা হয় স্টিমারঘাট।

লক্ষন সাহার বাড়ীর একাংশ .
ছবি: মামুন খান

মাধবদীর বালাপুরের পথে আমরা! মাধবদী বাজার পার হলেই দুই পাশে সবুজ ধান ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে রানওয়ে সমেত রাস্তা যেকোন মানুষের মন জয় করে নিবে। বিস্তর সবুজ প্রান্তরের দিকে ছুটে চলছি, যত যাচ্ছি মাঠ আরো বড় মনে হচ্ছে। এ ভালোলাগার শেষ কোথায়? বালাপুর স্কুলের সামনে চলে এলাম! হেটে বাড়ীতে প্রবেশ করে বাড়ীর আনাচে কানাচে যতদুর সম্ভব ঘুরে দেখলাম। কয়েকজন আবার পুকুর ঘাটে আড্ডায় মেতে উঠলো! এবার গন্তব্য বাসে করে নদীর ঘাট… কিন্তু একি? আমাদের বহনকারী দুইটি বাসে একটি বাস কিঞ্চিত দুর্ঘটনার শীকার!
বাসের চাকা বালিতে আটকে গিয়েছে!

সময় সল্পতার কারনে কষ্ট করে এক বাসে করেই খুব অল্প সময়ে আমরা নদীর ঘাটের দিকে রওয়ানা হয়ে গেলাম। এবারের উদ্দেশ্য মেঘনা নদীতে নৌকা ভ্রমন…

লক্ষন সাহার বাড়ীর একাংশ..
ছবি: মামুন খান

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে! সবার তাড়া কখন সেই বহুল প্রতিক্ষিত নৌকায় চড়ে বসবে! নৌকার আকার বেশ বড় হওয়া সত্বেও নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা দুইটি নৌকা ভাড়া করি। নৌকা চলছে প্রমত্তা মেঘনার স্বচ্ছ পানির কলকল ধ্বনিতে সবাই মাতোয়ারা!

আমায় ভাসাইলিরে… আমায় ডুবাইলিরে…
ভাইয়া আপুদের রোমান্টিকতা লক্ষণীয় ছিলো…

তীর হারা ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিচ্ছি… প্রবল ঢেউয়ের তালে ভেসে চলছি আমরা। কারো মাঝে কোন ভয় নেই…

সবাই কৌতহলী চোখে অথৈ জলরাশির পানে চেয়ে আছে! আমার ৪ বছরেরও কম বয়সী মেয়েটির উচ্ছাসে বাবা-মেয়ে দুইজন কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে গিয়েছিলাম! প্রিয় মানুষটিরে পাশে বসে গোধুলী বেলায় অথৈ জলের উপর ভেসে চলার সেই মুহুর্তটিকে কোটি টাকার বিনিময়েও কেনা যাবে কিনা সে প্রশ্নটি বারবার আমার মনে উকি দিচ্ছিলো!

লক্ষন সাহার বাড়ীর মন্দির
ছবি: মামুন খান

সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নেমে আসতে থাকলো কিন্তু কারো মনে ফেরার কোন বাসনা নেই! সবাই যেনো এক কল্পনার রাজ্যে আবিষ্ট হয়ে আছে আর মনে মনে বলছে……..
আজ ফিরে না গেলেই কি নয়… সন্ধ্যা নামুক না… জোনাকী জ্বলুক না… নিরজনে বসি আরো কিছুটা সময়…

এবার ফেরার পালা… হাজার চেস্টা করেও বালিতে আটকে যাওয়া বাসটিকে যথা সময়ে তুলে আনতে ব্যার্থ হলাম আমরা! আমরা কয়েজন বাসটিকে তোলার অপেক্ষায় রয়ে গেলাম! আর বাকিদের সবাই একটু কষ্ট করে দাঁড়িয়ে-বসে এক বাসে করেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলো!

বালাপুর নবীন চন্দ্র সাহার বাড়ীর মন্দির
ছবি: মামুন খান

দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি তোলার জন্য বারবার ব্যার্থ চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছি আমরা! সার্বক্ষণিক পাশে থেকে এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠ; অত্যন্ত সম্মানী ব্যাক্তি “বাতেন” কাকা মানুষরূপী ফেরেশতার ন্যায় আমাদের সাহস এবং সহযোগীতা সবই করে যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত গভীর হতে থাকলো! আমরা ছেলে মানুষ, ব্যার্থ হয়ে বিচলিত হচ্ছি! উনি সাহস এবং শক্তি সবকিছু যোগান দিয়ে যাচ্ছেন অনবরত। রাত ১১ টা! সবাই মিলে বাতেন কাকাকে বাসায় গিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার অনুরোধ করি। উনার ভাষ্য: আমার ছেলেদের বিপদে রেখে আমি কি করে বাসায় যাই? তারচেয়ে সবাই আমার বাসায় চলো, বিশ্রাম নাও; সকালে আমি তোমাদের যাওয়ার ব্যাবস্থা করে দিবো। অবশেষে রাত ১১:৩০ উনি নিজ ব্যাবস্থাপনায় আমাদের রাতের খাবার খাইয়ে ফেরার গাড়ীর ব্যাবস্থা করে বাসায় যান। কিছু কিছু মানুষ চিরদিনের জন্য অন্তরের অন্তস্তলে জায়গা করে নেয়! “বাতেন” কাকা আপনি তেমন একজন হয়ে থাকবেন আমাদের মনে। হাজার বছর বেচে থাকেন আপনি সেই প্রার্থনা রইলো!

লক্ষন সাহার বাড়ীর একাংশ
ছবি: মামুন খান

লেখকঃ ফরহাদ মিয়া, ট্রাভেলার ।  ছবি তুলেছেন মামুন খান
এই লিখাটি ফেইসবুক গ্রুপ ট্রাভেলার্স অফ নরসিংদীতে পোস্ট করেছেন ফরহাদ মিয়া। তার অনুমতিক্রমে লিখাটি হুবহু প্রকাশ করা হল।

লক্ষন সাহার বাড়ীর মঠ
ছবি: মামুন খান
লক্ষন সাহার বাড়ীর একাংশ.
ছবি: মামুন খান
লক্ষন সাহার বাড়ী…
ছবি: মামুন খান
লক্ষন সাহার বাড়ীর একাংশ…
ছবি: মামুন খান
লক্ষন সাহার বাড়ীর ঝুল বারান্দা
ছবি: মামুন খান