নরসিংদীতে ঢাকাগামী চট্ট্রগ্রাম মেইল ট্রেনে তরুণী লাঞ্ছিত

অনলাইন ডেস্ক

ছবিঃ সংগৃহীত

নরসিংদীতে ট্রেনে উঠতে গিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে এক তরুণী লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে।  শুক্রবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকা মেইল ট্রেন-১ এ এমন ঘটনা ঘটে।

এ ছাড়া নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনটি আসামাত্রই ট্রেনের চারটি বগি ভেতর থেকে দরজা আটকিয়ে দেওয়া হয়। এতে স্থানীয় যাত্রীরা কেউ উঠতে না পেরে ট্রেনটি প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে চারটি বগি ভাঙচুর করেছে স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার নাইয়ুম মিয়া।

প্রত্যক্ষদর্শী, রেলওয়ে পুলিশ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকার পরও রাজধানী ঢাকায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বহু প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পরীক্ষা ছিল। এতে নরসিংদীর প্রায় ৩০০-৪০০ চাকরিপ্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে ট্রেনে করে ঢাকা যেতে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে আসেন। সকাল ৫টা ৪১ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা মেইল ১ ট্রেনটি নরসিংদী স্টেশনে পৌঁছামাত্র ট্রেনের ৭৪৪, ৮৬৮, ১৯০৫, ১৯৩৩ নম্বর বগি ভেতর থেকে দরজা আটকিয়ে দেওয়া হয়। এই চারটি বগিতে চট্টগ্রাম থেকে আসা ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বলে জানায় উপস্থিত লোকজন। এ সময় চাকরিপ্রার্থী এক তরুণী একটি বগিতে উঠতে চাইলে প্রথমে দরজা খুলে ওই তরুণীকে প্রবেশ করতে দিলেও পরে তাকে ভেতরে লাঞ্চিত করে মারধোর করা হয়। পরে তরুণী চিৎকার করে বগি থেকে নেমে যান।

উপস্থিত জনতা এ ঘটনা জেনে এবং ওই বগিতে উঠতে না পেরে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। তারা বগিগুলোর জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। এ সময় রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জহির আলী ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরই মধ্যে উত্তেজিতরা ট্রেনটি অবরোধ করে রাখে। এতে প্রায় এক ঘণ্টা পরে সকাল ৬টা ৩৭ মিনিটে ট্রেনটি নরসিংদী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

ঢাকা মেইল ট্রেনের চালক মো. ফখরুল ইসলাম বলেন , পাঁচ মিনিটের বিরতি নিয়ে নরসিংদী স্টেশনে ঢোকার পর ট্রেন ছাড়তে যাবো, তখন আমাকে লোকজন অবরোধ করে রেখেছে। পরে শুনেছি ট্রেনের পিছন দিকে নাকি মারামারি হচ্ছে।

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনের কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টার নাইয়ুম মিয়া বলেন, ট্রেনের বগিগুলো ভেতর থেকে আটকে দেওয়ায় যাত্রীরা উঠতে পারছিলেন না। আর এ সময় অনেকে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে শুনেছি। এ দুই ঘটনা মিলে যাত্রীরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। উত্তেজিতরা ট্রেনের ব্রেকের ভ্যাকুয়ামের খুলে দেওয়ায় অটো ট্রেন থেমে যায়। পরে তারা চারটি বগির জানালার কাচ ভাংচুর করেন। পরে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করলে ৫৫ মিনিট পর ট্রেন ছেড়ে যায়।

রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. জহির আলী ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ছাত্রলীগের সম্মেলন আর বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা একদিনে হওয়ায় হঠাৎ যাত্রীর চাপ অনেক বেড়ে যায়। ফলে এমন অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেছে। আসলে নরসিংদীতে যে পরিমাণ যাত্রী হয়, তাতে আরো দুটি বগি লাগবে। এ বিষয়ে আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।