বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে নিহত ২

০৮ জুলাই ২০১৯, ০৫:০১ পিএম | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৪:১৫ পিএম


বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে নিহত ২

টাইমস ডেস্ক:

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে এক শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কলা বাগানের মালি কলোনি এলাকায় এ ঘটনায় আহত হয়েছে দুইজন। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ দুজন নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন— উজ্জ্বল মল্লিক (৩) ও তাহমিনা বেগম (২৫)।

এলাকাবাসী জানায়, রোববার (৭ জুলাই) রাত থেকে রাঙামাটিতে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। সোমবার সকাল ১২টার দিকে কাপ্তাই উপজেলার কলাবাগানের মালি কলোনির পাহাড়ের মাটি ধসে নিচের থাকা দুইটি ঘরের উপর পড়ে। এসময় ঘরের ভেতর থাকা সুনীল মল্লিকের পরিবারের উজ্জ্বল মল্লিক (৩) ও গফুর মিয়ার পরিবারের তাহমিনা বেগম ছাড়া বাকী সবাই বের হতে আসতে সক্ষম হয়। পরে এলাকাবাসী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে উজ্জ্বল মল্লিক ও তাহমিনা বেগমের মৃতদেহ উদ্ধার করে।

কাপ্তাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাক্তার এ কে এম কামরুল হাসান বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ২৫ বছরের এক মহিলাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে অসে। কিন্তু হাসাপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।’

অন্যদিকে বান্দরবানের চিম্বুক সড়কের ৯ মাইল এলাকায় পাহাড় ধসের কারণে রুমা ও থানচি উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সোমবার প্রবল বর্ষণের সময় ওই এলাকায় সড়কের ওপর একটি বিশাল পাহাড় ধসে পড়লে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে এরইমধ্যে নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সাতটি উপজেলায় ১২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এছাড়া ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও পাহাড় ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই এসব পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে মাইকিং করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সোমবার দুপুর ১২টা থেকেই ক্যাম্পাসে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দুটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তবে ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চাকসুতে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হলেও বেলা ২টা পর্যন্ত কাউকে সেখানে আশ্রয় নিতে দেখা যায়নি। এদিন ভোর থেকেই অব্যাহত রয়েছে ভারী বৃষ্টিপাত।

উল্লেখ্য, বর্ষাকালে টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন সময় চবিতে ঘটেছে পাহাড় ধসের ঘটনা। গত ১৫ বছরে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকেই। সর্বশেষ ২০০৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার এলাকায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের পাঁচজন মারা যান।


বিভাগ : বাংলাদেশ


Regent