আবারও মালয়েশিয়ায় বন্ধ শ্রমবাজার খোলার আশাবাদ

১৪ মে ২০১৯, ১২:৫৭ পিএম | আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২০, ১১:২০ এএম


আবারও মালয়েশিয়ায় বন্ধ শ্রমবাজার খোলার আশাবাদ

টাইমস ডেস্ক:

মালয়েশিয়ার বন্ধ হয়ে যাওয়া বাংলাদেশী শ্রমবাজার খোলাসহ প্রবাসীদের নানা সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনার জন্য দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী কুলাসেগারনের সঙ্গে আজ মঙ্গলবার (১৪ মে) এ বৈঠক করার কথা। এ সময় দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

গত সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার আগে বিটুবি প্লাস চুক্তির আওতায় বাংলাদেশী কর্মী পাঠানো হতো। এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করত দেশের ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি। তাদের বাইরে অন্য কোনো এজেন্সি সরাসরি লোক পাঠাতে পারত না। এই প্রক্রিয়ায় দেশে এবং মালয়েশিয়ায় নানামুখী অনিয়মের অভিযোগে মালয়েশীয় সরকার কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে দেয়। পরে কর্মী নিয়োগের আর কোনো নতুন পদ্ধতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়নি মালয়েশিয়া।

জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রা মনে করে, মালয়েশিয়ায় বন্ধ শ্রমবাজার খুলতে আরও আগেই সরকারের কোনো পদস্থ ব্যক্তির মালয়েশিয়া সফরে যাওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে দেরিতে হলেও প্রতিমন্ত্রীর এই সফর জনশক্তি রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।   

বায়রার সদস্যকল্যাণ সচিব কফিল উদ্দিন মজুমদার বলেন, ‘মন্ত্রী পর্যায়ের এই বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়া আমাদের দেশের জন্য অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। আমরা আশা করি খুব কম সময়ের মধ্যে আবার মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশী কর্মী পাঠাতে পারব। পাশাপাশি বাজারটি বায়রার প্রত্যেক সদস্যের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলেও প্রত্যাশা করছি।’      

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৭ মে পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমেদ মালয়েশিয়াতে থাকবেন। এর আগে ১৫ মে তিনি সারাওয়াক প্রদেশ সফর করবেন। পরদিন তিনি প্রদেশটির গভর্নরের সঙ্গে দেখা করবেন।

এদিকে অনিয়মের কারণে বন্ধ হওয়ার আগ পর্যন্ত গত বছর মালয়েশিয়াতে জনশক্তি রপ্তানি হয় ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯২৭ জন। গত সেপ্টেম্বরের পর থেকে নতুন করে আর কোন ভিসা দেয়নি মালয়েশিয়া। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে জনশক্তি রপ্তানি হয় ৩৮ হাজার ৮৬৫ জন। আর এ বছর ওই সময়ে গেছেন ৫০ জনেরও কম।

এর আগে গত পরশু রবিবার স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় মালয়েশিয়ার সেলানগরে একটি কারখানায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ। রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে সেলানগরে ‘সেঙ ইপ ফার্নিচার বিএসডিএন’ নামের একটি চীনা কারখানা পরিদর্শনে যান তিনি। ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১২০০ শ্রমিকের মধ্যে ৭০০ জনই বাংলাদেশি।  

পরিদর্শনে গেলে কারখানার পরিচালক লিম এবং কর্মীরা প্রতিমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। কর্মীরা প্রতিমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। এ সময় তারা নিজেদের নানা অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির কথা প্রতিমন্ত্রীকে ব্যক্ত করেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন-কানুন ও রীতিনীতি মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সরকার প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে সব ধরনের সহযোগিতা করবে। আপনারা দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হবে।’

এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ মনিরুছ সালেহীন ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের শ্রম কাউন্সিলর মো. জহিরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

দেশের জনশক্তি রপ্তানির ৮০ শতাংশ যায় মধ্যপ্রাচ্যে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য অন্যতম বড় শ্রমবাজার। কিন্তু সৌদিতে বেকারত্বের হার বৃদ্ধি, আরব আমিরাতে সীমাবদ্ধতা, মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানিতে অনিয়মসহ নানা কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি অনেকাংশ কমে এসেছে।

বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে ৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৮১ জন কর্মী কাজ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন। আগের বছর যার সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫ জন। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে(জানুয়ারি-মার্চ) জনশক্তি রপ্তানি হয়েছিল ২ লাখ ৪ হাজার ২০১ জন। এ বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৯৯ জনে।


বিভাগ : অর্থনীতি