২৫ লাখ পিস চামড়া কম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

১০ আগস্ট ২০১৯, ০২:১৯ পিএম | আপডেট: ২১ আগস্ট ২০১৯, ১১:০৮ পিএম


২৫ লাখ পিস চামড়া কম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
পুরনো ছবি

টাইমস ডেস্ক:

কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা এ বছর গত বছরের তুলনায় অন্তত ২৫ লাখ পিস চামড়া কম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। এতে এবার চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়তে পারেন মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। সেই সঙ্গে কমবে চামড়ার দামও। তবে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বলছে, বাজারে কোনো চামড়াই অবিক্রিত থাকে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কুরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা গত বছরের চেয়ে বেশি। তাদের দেয়া তথ্যমতে, দেশে এ বছর কুরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ১ কোটি ১৮ লাখ। এর মধ্যে অন্তত ১ কোটি ১০ লাখ পশু কুরবানি হতে পারে। অন্যদিকে, গত বছর ঈদে কুরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৫ লাখ। এর মধ্যে ১ কোটি ৫ লাখের মতো পশু কোরবানি হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের এমন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের ফলে চামড়ার দাম নিয়ে এখনই শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও বরাবরের মতোই সরকার এ বছরও কুরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। এ বছর কুরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা বাড়লেও কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা ১ কোটি পিস পশুর চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন। গত বছর এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ পিস।

এ প্রসঙ্গে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ বছর আমরা এক কোটি পিস চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছি। গত বছরের চেয়ে এবার আমাদের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কম।

বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনে তথ্য অনুযায়ী, দেশে সারাবছর ৬০ থেকে ৭০ লাখ গরু জবাই হয়। ছাগল ও ভেড়া জবাই হয় ৮০ থেকে ২ কোটি। অন্যদিকে, ঈদুল আজহায় গরু-মহিষ জবাই হয় প্রায় ৩০ লাখ, ছাগল ও ভেড়া ৭০ থেকে ৮০ লাখ। কোনো না কোনো প্রক্রিয়ায় এসব পশুর সবগুলোর চামড়াই তারা সংগ্রহ করে থাকেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, দেশে প্রতিবছরই কুরবানি করা পশুর সংখ্যা বাড়ে। একইসঙ্গে চামড়া সংগ্রহও বাড়ে ৫ থেকে ৭ শতাংশ। ট্যানারি মালিকেরা বলছেন, তারা গত বছর ৯৫ লাখ পিস চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। এ বছর বন্যার কারণে এই সংখ্যা ৫ থেকে ৭ লাখ কম হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেন, মূলত বন্যার কারণেই চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা কম ধরা হয়েছে। আমরা মনে করছি, এবার কুরবানি কম হবে। এছাড়া আমাদের হাতে তেমন টাকা নেই। আন্তর্জাতিক বাজারেও চামড়ার দাম কমেছে। আমরা চামড়ার দাম কমাতে বলেছিলাম। গত বছরের মতো দাম অপরিবর্তিত রাখার প্রভাব বাজারে পড়বেই।

প্রসঙ্গত, এ বছর চামড়ার দাম গতবছরের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে গত সাত বছরে চামড়ার দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। গেল কোরবানি ঈদে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন সব পক্ষ। এবারো কাঁচা চামড়ার দাম নিয়ে শঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে মনেই করছেন অনেকে। ফলে বিপাকে পড়তে পারেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা।


বিভাগ : অর্থনীতি