রোজায় নিরাপদ খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করতে বিএসটিআইকে শিল্পমন্ত্রীর নির্দেশ

২৩ এপ্রিল ২০২০, ০৪:৩৮ পিএম | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২০, ০৩:৩৭ পিএম


রোজায় নিরাপদ খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করতে বিএসটিআইকে শিল্পমন্ত্রীর নির্দেশ
বক্তব্য রাখছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। ছবি: সংগৃহিত

অর্থনীতি ডেস্ক:

পবিত্র রমজান উপলক্ষে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যপণ্য নিশ্চিতে বিএসটিআইয়ের সার্ভিলেন্স কার্যক্রম জোরদারে নির্দেশনা দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। পাশাপাশি যেকোনো পরিস্থিতিতে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মান পরীক্ষাসহ প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য জরুরি সেবা চালু রাখার নির্দেশ দেন তিনি। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ভোক্তা সাধারণের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যপণ্য নিশ্চিতকরণ, শিল্পখাতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ যথাযথ বাস্তবায়ন ও করোনা মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর কৌশল নির্ধারণ বিষয়ক সভায় শিল্পমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) শিল্প মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি), বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি), বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসসি) চেয়ারম্যান, বিএসটিআই ও বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) মহাপরিচালক, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, রমজানে বিভিন্ন সুপার শপ এবং চালু থাকা খাদ্যপণ্যের দোকানে সার্ভিলেন্স বাড়িয়ে নিরাপদ খাদ্যপণ্যের যোগান নিশ্চিত করতে হবে। পণ্যের উৎপাদক, ক্রেতা-ভোক্তা সবাইকে মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও ব্যবহারের বিষয়ে বিএসটিআই সম্প্রতি যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে তার আওতা বাড়াতে হবে।

তিনি খাদ্য উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে গুণগতমানের পণ্য উৎপাদন এবং বিপণনে বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক পত্র প্রেরণের ধারাবাহিকতা অব্যাহতের পাশাপাশি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার এবং এসএমএস দিয়ে সবাইকে সচেতন করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি রমজান উপলক্ষে ইফতার ও সেহরিতে অধিকহারে ব্যবহৃত যেসব পণ্যের নমুনা ইতিমধ্যে বাজার থেকে সংগ্রহ করে বিএসটিআইয়ের ল্যাবরেটরিতে টেস্টিং চলছে, সেগুলোর ফলাফল দ্রুত প্রকাশ করে গণমাধ্যমের সহায়তায় ভোক্তা সাধারণকে জানিয়ে দেয়ার নির্দেশনা দেন।

মন্ত্রী বলেন, পবিত্র রমজান উপলক্ষে ভোক্তা সাধারণের সুবিধার্থে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের সুপার শপে আখ থেকে উৎপাদিত দেশীয় গুণগতমানের চিনি সহজপ্রাপ্য করতে হবে। একই সঙ্গে এসব সুপার শপে চিনিকলগুলোয় উৎপাদিত মসুর ডাল, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ভিনেগার, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও 'সোনার দানা' জৈব সার বিপণনের জন্য তিনি বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের প্রতি নির্দেশনা দেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের প্রতি ইঞ্চি আবাদি জমিতে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। এর বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিসিআইসির আওতাধীন প্রতিটি সার কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন চালু রাখতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিরন্তর কাজ করতে হবে। তিনি কৃষক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিতে ইতিমধ্যে যেসব প্রয়াস নেয়া হয়েছে, তা অব্যাহত রাখার তাগিদ দেন ।

করোনায় কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় ও বাজারজাতকরণে সর্বাত্মক সহায়তা দেয়া হবে। তিনি এসএমই শিল্পোদ্যোক্তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ই-কমার্সের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ে সহযোগিতা বাড়াতে এসএমই ফাউন্ডেশনকে নির্দেশনা দেন।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের আওতাধীন ১৫ চিনিকলে ৬৫ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি চিনি মজুত রয়েছে। এছাড়া বিসিআইসির আওতাধীন সার কারখানা ও গোডাউনে মোট ৯ লাখ ৩৬ হাজার ২৭৩ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে। গত বছর একই সময়ে ইউরিয়া সারের মোট মজুতের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৬০ হাজার ৭৬৯ টন। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের মোট চাহিদা ২৫ লাখ ৫০ হাজার টন । ইতিমধ্যে প্রায় ২২ লাখ ৬৯ হাজার ৭১১ মেট্রিক টন সার কৃষকদের সরবরাহ করা হয়েছে।

দেশে লবণেরও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। করোনার প্রকোপের মাঝেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে লবণ মাঠ এবং লবণ মিলে উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। চলতি লবণ মৌসুমের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার লবণ চাষী ১২ লাখ ৮৩ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদন করেছে, যা গত মৌসুমের একই সময়ের চেয়ে ৭০ হাজার মেট্রিক টন বেশি। এ বছর লবণের মোট চাহিদা ছিল ১৮ লাখ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন। ২২ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় চাহিদা মিটিয়ে লবণ মাঠে উৎপাদন, লবণ মিলসহ সব উৎস মিলে বর্তমানে দেশে ১১ লাখ ৮৪ হাজার মেট্রিক টন লবণ মজুত রয়েছে। এছাড়াও দেশের সব জেলার ডিলার, পাইকারি ও খুরচা বিক্রেতা পর্যায়ে আয়োডিনযুক্ত ভোজ্য লবণ মজুত রয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে মজুতকৃত লবণ দিয়ে আগামী ১০ মাস পর্যন্ত অনায়াসে চাহিদা পূরণ করা যাবে।


বিভাগ : অর্থনীতি