দেশজুড়ে স্বাদের সুনাম থাকলেও কমছে রাবানের আনারস চাষ

২০ জুলাই ২০১৯, ০৫:০৫ পিএম | আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১২:৩৩ এএম


দেশজুড়ে স্বাদের সুনাম থাকলেও কমছে রাবানের আনারস চাষ

পলাশ প্রতিনিধি ॥
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বাদ ও গুণগত মানের যেসব ফল পাওয়া যায় তার মধ্যে অন্যতম ফল জিনারদী ইউনিয়নের রাবানের আনারস। এই আনারসের সুনাম ও সুখ্যাতি পলাশ ছাড়িয়ে এখন দেশজুড়ে। কিন্তু যতদিন যাচ্ছে ততই সময়রের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে এর স্বাদ ও সুখ্যাতি।


রাবান এলাকায় আনারসের চাষ প্রচুর পরিমানে হলেও ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ভাগদী, চামরাবো, টেঙ্গরপাড়াসহ আরো কিছু এলাকায় স্বল্প পরিসরে চাষ হচ্ছে আনারস। সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করায় ছোট হয়ে আসছে আকার, কমে যাচ্ছে ফলন। পোকামাকড়ের আক্রমনে নষ্ট হচ্ছে গুণগত মান। যার ফলে এ অঞ্চলের আনারসের ফলন কমে যাচ্ছে।
একসময় এখানকার আনারস জেলার চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবারহ করা হতো। বর্তমানে এ আনারস আগের মতো না থাকলেও তার স্বাদ ও চাহিদা এখনও রয়েছে।


রাবান এলাকার কৃষকরা জানান, এখানকার মাটি ঢালু হওয়ায় পানি ধারনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানির জন্য ভরসা করতে হয়। আনারস চাষে খরচ হয় প্রতি বিঘা ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা। পর্যাপ্ত সেচের অভাব ও সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করার কারণে আগের চেয়ে তুলনামূলক ফলন কম পাওয়া যাচ্ছে।

পাইকারি ফল ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়া জানান, এই এলাকার আনারস ক্রেতাদের কাছে সুপরিচিত থাকলেও আনারসের ফলন কম হওয়ায় বেশি দাম দিয়ে ক্রয় করতে হচ্ছে। তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
ঢাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম জানান, রাবান এলাকার লাল মাটির আনারস খেতে স্বাদে সুস্বাদু।ঢাকার বাজারে অনেক আনারস পাওয়া যায়। কিন্তু সেই আনারসের সাথে এই এলাকার আনারসের স্বাদের অনেক পার্থক্য আছে।


পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, পলাশ উপজেলার ১৪৫ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষাবাদ হয়। জলবায়ু পরিবর্তন এবং একই জমিতে একই ফসল নিয়মিত চাষ করায় মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে ফলন কম হচ্ছে। জৈব ও রাসয়নিক সার, পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা, বাগান পরিস্কার এবং প্রতিটি চারার নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চাষাবাদ করলে ফলন বেশি ও আনারসের আকার ও বড় হবে।