পলাশে হাঁসের খামারে ঘুরছে যুবকের ভাগ্যের চাকা

২৩ নভেম্বর ২০১৯, ১১:৩৪ এএম | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:২৩ এএম


পলাশে হাঁসের খামারে ঘুরছে যুবকের ভাগ্যের চাকা

মো: আল আমিন মিয়া:
নরসিংদীর পলাশে হাঁসের খামার করে ভাগ্যের চাকা ঘুরানোর চেষ্টা করছেন রফিকুল ইসলাম ইফতি নামে এক যুবক। রফিকুল ইসলাম নরসিংদীর পলাশ উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ইছাখালি গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে ও স্থানীয় গজারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি হাঁসের খামার করে অল্পদিনেই সফলতার মুখ দেখা শুরু করেছেন। তার এ উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন গেলে ছাত্রলীগ নেতা ও হাঁসের খামারী রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে টাকা উপার্জন নয়, পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে গড়ে তোলা হয়েছে হাঁসের খামার। এতে খুব অল্প দিনেই অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার মুখ দেখতে পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে এই হাঁসের খামার থেকে প্রতি মাসে আয় করছেন লক্ষাধিক টাকা। তিনি তার খামারে কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন এলাকার কিছু বেকার যুবকদেরও।


দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রফিকুল ইসলামের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ছিল কম। ১ বছর আগে নিজের পৈতৃক জমিতে একটি হাঁসের খামার করার চিন্তা করেন তিনি। এরপর মাত্র ২’শত হাঁসের বাচ্চা দিয়ে ছোট পরিসরে গড়ে তোলা হয় হাঁসের খামার।

শুরু থেকেই এ খামারে লাভের মুখ দেখে ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়িয়ে নেন তিনি।
বর্তমানে রফিকুলের খামারে রয়েছে দুই হাজারের বেশি সংখ্যক হাঁস। এরমধ্যে ডিম পাড়া হাঁসের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। প্রতিদিন হাঁসের ডিম বিক্রি করে আয় করছেন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। এছাড়া মাংসের জন্য এক একটি হাঁস বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়। প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন পাইকাররা এসে রফিকুলের খামার থেকে হাঁস ও ডিম কিনে নিচ্ছেন।


রফিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে আরও বলেন, একটা সময় নিজের হাত খরচের জন্য মায়ের কাছ থেকে টাকা চেয়ে নিতে হতো। কিন্তু এখন হাঁসের খামার দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে আমি সফল হয়েছি। এখন আর টাকা আনতে হয় না, বরং প্রতিমাসে ভাল অঙ্কের টাকা মায়ের হাতে তুলে দিতে পারছি। এর চেয়ে বেশি আনন্দ আর হতে পারে না।


তিনি বলেন, হাঁসের খামারে ঝুঁকি ও ঝাঁমেলা অনেক কম, লাভও বেশি। বাজারে হাঁসের মাংস ও ডিমের অনেক চাহিদা রয়েছে। খামারের পাশে পুকুর ও বিল থাকায় হাঁসের খাবারের পরিমাণও কম লাগছে। দিনের অধিকাংশ সময় হাঁসগুলো পুকুর ও বিলে থাকে। সেখানে শামুক, পোকামাকড় খেয়ে হাঁসের খাবারের চাহিদা পুরণ হচ্ছে। নিয়মিত পরিচর্যা করলে হাঁসের তেমন রোগবালাইও দেখা যায় না।


ছাত্রলীগ নেতার হাঁসের খামারটির প্রশংসা করে পলাশ উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ জাবেদ হোসেন বলেন, অনেক নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক পদ-পদবীর পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করে থাকে। অথচ ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম ইফতি নিজেকে স্বাবলম্বী করতে সেই পথ অবলম্বন না করে খামার করে নিজের স্বচ্ছলতা আনছেন। এটি সত্যিই প্রশংসনীয়। তার মত অন্যান্য যুবকরাও এমন উদ্যোগ নিয়ে স্বাবলম্বী হবার চেষ্টা চালাতে পারে।