প্রতিষ্ঠার ৩৪ বছরেও বেহাল নরসিংদীর বিসিক শিল্পনগরী

০৩ জানুয়ারি ২০২২, ০৮:৪০ পিএম | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২২, ০৫:২১ পিএম


প্রতিষ্ঠার ৩৪ বছরেও বেহাল নরসিংদীর বিসিক শিল্পনগরী

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রতিষ্ঠার ৩৪ বছরেও পূর্ণতা পায়নি নরসিংদীর বিসিক শিল্পনগরী। উন্নয়নের ছোয়া না লাগার পাশাপাশি নানা সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে এই নগরী। এতে অনুকূল পরিবেশ না থাকায় আগ্রহ হারাচ্ছেন ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তারা। তবে বিসিক কর্তৃপক্ষ বলছে চলমান উন্নয়ন কাজ শেষ হলে এসব সমস্যার সমাধান হবে।

বিসিক কর্তৃপক্ষ ও উদ্যোক্তারা জানান, শিল্পের অধিকতর প্রসারে সরকারী সহায়তায় উদ্যোক্তা তৈরী এবং সহায়তার লক্ষ্যে কাজ করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)। এ লক্ষে শিল্পসমৃদ্ধ নরসিংদীতে উদ্যোক্তা তৈরীর পাশাপাশি পৃষ্টপোষকতার অংশ হিসেবে শিবপুর উপজেলার কারারচরে স্থাপন করা হয় বিসিক শিল্পনগরী। ১৯৮৬ সালে শিবপুরের কারারচরে ১৫.৩৯ একর জমিতে গড়ে তোলা হয় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) শিল্পনগরী। তবে প্রতিষ্ঠার ৩৪ বছরেও উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি এই শিল্প নগরীতে। বর্জ্যশোধনাগারসহ, সীমানা প্রাচীর না থাকা, অনুন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি নানা কারণে অনেক বিনিয়োগকারীই এই নগরীতে ব্যবসা পরিচালনায় আগ্রহ হারাচ্ছেন।

কাজের পাশাপাশি বিদেশী বায়ারদের সুষ্ঠু কর্মের পরিবেশ নিশ্চিতে ব্যর্থতার দায়ে অনেক প্রতিষ্ঠানই অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন তাদের কারখানা। বিসিক নগরীর ৯৫ টি প্লটের সবকটি বরাদ্ধ থাকলেও চালু রয়েছে মাত্র ৩৫টি শিল্প ইউনিট। এদের মধ্যেও আবার ৫টি ব্যাংক ডিফল্ডার, ৪ টি রুগ্ন এবং ব্যক্তিগত কারণে ২টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ফলে চালু কারখানার সংখ্যা মাত্র ২৪টি, যাদের উৎপাদিত ৮০ ভাগ পণ্যই রপ্তানী হয় বিদেশে। নানাবিধ সমস্যার কারণে এখানে গড়ে উঠছে না নতুন শিল্প। তবে সম্প্রতি বিসিকের নানামূখী উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হলে সমস্যার সমাধান হবে বলেও আশাবাদ উদ্যোক্তাদের।

বিসিক শিল্পনগরীর রাভিয়ান টেক্সটাইল বাংলাদেশ লি. এর ডিজিএম কামাল হোসেন বলেন, বিসিকের নিরপত্তা বেস্টনি (দেয়াল) না থাকাসহ রাস্তাঘাট ও ড্রেনেজ সমস্যার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আধুনিক সুযোগ সুবিধা থাকবে এমন প্রত্যাশা নিয়েই উদ্যোক্তারা বাইরে শিল্পপ্রতিষ্ঠান না করে বিসিকে করে থাকেন। দ্রুত রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ও সীমানা দেয়াল নির্মাণ কাজ শেষ হলে বিসিকের পরিবেশ উন্নত হবে।

ল্যুপ ইন্ডাষ্ট্রিজ এজিএম সুব্রত সাহা বলেন, বিসিকে উদ্যোক্তা ও শিল্পকারখানা বাড়াতে হলে চাহিদানুযায়ী বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ, রাস্তা, ড্রেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এসব সুযোগ সুবিধার অনেকটাই এখানে নেই। এতে উদ্যোক্তাদের নানামুখী সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

বিসিক নরসিংদীর শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ বলেন, বিসিকের রাস্তা, ড্রেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বেশকিছু সমস্যা রয়েছে। নগরীর চারপাশে নিরাপত্তা দেয়াল না থাকায় বহিরাগতদের আগমনসহ গরু, ছাগল চড়ানো এবং এলোপাতাড়ি গাড়ী চলাচলে বিশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করে। এছাড়া প্লটে বরাদ্ধকৃত জমি চাহিদার তুলনায় কম। কম জমিতে আধুনিক কারখানা গড়ে তোলা কঠিন। কারখানায় খালি জায়গা রাখাসহ ইটিপি নির্মাণ করা, গোডাউন করা, পার্কিং রাখার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা প্রয়োজন।

বিসিক শিল্পনগরী নরসিংদীর কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থাসহ বিসিকের চলমান উন্নয়ন কাজ শেষ হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের সম্প্রসারণে জেলায় বিভিন্ন বিষয়ের ৮টি ট্রেড চালু চলমান রয়েছে। এছাড়া শিল্প নগরী সম্প্রসারণে একই উপজেলার সৈয়দনগরে ৩০ একর জমিতে নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিক সুবিধা সমৃদ্ধ বিসিক শিল্পনগরী-২। সেখানে নতুন ১৬৮টি প্লটের বিপরিতে ১৫০টি শিল্প-কারখানা স্থাপনের সুযোগ তৈরী হবে।