৯৬ ঘন্টা পর ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুটমিলের উৎপাদন শুরু

১৮ মে ২০১৯, ০৪:৫৩ পিএম | আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৫:৪১ পিএম


৯৬ ঘন্টা পর ঘোড়াশালে বাংলাদেশ জুটমিলের উৎপাদন শুরু

পলাশ প্রতিনিধি ॥
৯৬ ঘন্টা উৎপাদন বন্ধের পর শনিবার (১৮ মে) ভোর ৬ টা থেকে ঘোড়াশালস্থ বাংলাদেশ জুটমিলের উৎপাদন শুরু হয়েছে। এর আগে সোমবার (১৩ মে) থেকে মজুরী কমিশনসহ ৯ দফা দাবীতে অর্নিদিষ্টকালের ধর্মঘটের ফলে জুটমিলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষরিত টানানো এক নোটিশে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল শিল্প এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ জুট মিলের উৎপাদন বন্ধ করে দেয় শ্রমিকরা।


নোটিশে ঘোষণা করা হয়েছিলো, সরকার কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ এর রোয়েদাদ বাস্তবায়ন, সকল বকেয়া মজুরি, বেতন প্রদানসহ ৯ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে সোমবার (১৩ মে) ভোর ৬ টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মিলের উৎপাদন বন্ধ থাকবে এবং ধর্মঘট পালনসহ প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে সন্ধা ৭টা পর্যন্ত রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচী পালন করা হবে।


এ ধর্মঘটে টানা ৯৬ ঘন্টা উৎপাদন বন্ধ থাকার পর শনিবার ভোর থেকে মিলের উৎপাদন শুরু হয়েছে। মিলের সিবিএর পক্ষ থেকে শুক্রবার ঘোড়াশাল পৌর এলাকায় মাইকিং কওে শনিবার কাজে যোগ দেয়ার আহবান জানানো হলে শ্রমিকরা ভোর থেকে পুণরায় উৎপাদন শুরু করে।
বাংলাদেশ জুটমিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান জানান, মিল কর্তৃপক্ষ ও বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মজুরিসহ বিভিন্ন দাবী দাওয়া পর্ষায়ক্রমে চলতি সপ্তাহ থেকে পরিশোধ করার আশ্বাস দিলে ভোর থেকে আমরা উৎপাদন শুরু করেছি।

এদিকে মিলের সিবিএ সভাপতি ইউসুফ সরদার জানান, ১১ সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে শ্রমিকদের মজুরি এবং তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন। এতে মিলের প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিকÑকর্মচারী ও কর্মকর্তাগণ মানবেতর জীবন যাপন করছেন।


তিনি আরো বলেন, ৫২০ তাঁতের এই জুট মিলটিতে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এক সময় বাংলাদেশ জুট মিলটি দেশের অন্যতম লাভজনক জুট মিল ছিল। কিন্তু বিজেএমসি কর্তৃপরে অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে মিলটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। বিজেএমসি টাকা না দেয়ায় মিল কর্তৃপ ১১ সপ্তাহ যাবত শ্রমিকদের মজুরি ও তিন মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি দিতে পারছেন না।
এসব বিষয়ে বাংলাদেশ জুটমিলের মহাব্যবস্থাপক মোঃ গোলাম রব্বানীর সাথে কথা বললে, তিনি ৯৬ ঘন্টা পর মিলের উৎপাদন শুরুর কথা স্বীকার করে বলেন বিজেএমসির সাথে কথা বলে শ্রমিকদের মজুরিসহ সকল পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।