পলাশে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

০২ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:২৪ পিএম | আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:১৯ পিএম


পলাশে যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে এলপি গ্যাস, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

আল-আমিন মিয়া, পলাশ:
নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নরসিংদীর পলাশ উপজেলাজুড়ে বিক্রি করা হচ্ছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভাসহ ছোট-বড় বিভিন্ন দোকানে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা ছাড়াই বিক্রি হচ্ছে তরলকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি সিলিন্ডার। শুধমাত্রু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ঝুঁঁকিপূর্ণ এ জ্বালানির ব্যবসা চালানো হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা।


স্থানীয়রা জানান, পলাশ উপজেলা ও ঘোড়াশাল পৌর এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজার, পাড়া-মহল্লার মুদি দোকান, ফার্নিচারের দোকান, ইলেকট্রনিক্সের দোকান, রিকশার গ্যারেজ, এমনকি ফ্লেক্সিলোডের দোকানেও বিক্রি করা হয় এসব গ্যাস সিলিন্ডার। এসব গ্যাস সিলিন্ডারগুলোর বেশির ভাগই ব্যবহার হচ্ছে চায়ের দোকান ও হোটেলগুলোতে। এর মধ্যে অধিকাংশ দোকানে নেই কোনো আগুন নির্বাপক ব্যবস্থা। জনবহুল কিংবা আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এ সিলিন্ডার ব্যবসার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁঁকি বাড়ছে প্রতিনিয়ত।
জ্বালানি অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান এলপি গ্যাস বিক্রি করবে, তাদের বিক্রির স্থান সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালাতে হবে। গ্যাস বিক্রির স্থানে কমপক্ষে পাকা ফ্লোরসহ আধপাকা ঘর, অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার মজবুত ও ঝুঁঁকিমুক্ত সংরক্ষণাগারে থাকতে হবে। এ ছাড়া থাকতে হয় জ্বালানি অধিদপ্তরের অনুমোদন।


সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হাতেগোনা দু-একজন ব্যবসায়ী ছাড়া অন্য কারও নেই সুরক্ষা ব্যবস্থা। এসব ব্যবসায়ী ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়ন, গজারিয়া ইউনিয়ন, জিনারদী ইউনিয়ন ও ডাঙ্গা ইউনিয়নসহ ঘোড়াশাল পৌর এলাকায় প্রায় প্রতিটি বাজারের দোকানগুলোতে দেখা যায়, বাড়তি লাভের আশায় দোকানের বাইরে ফুটপাতে রোদে ফেলে রাখা হয়েছে এসব সিলিন্ডার। রাস্তার কিনারে রাখা এসব সিলিন্ডারের পাশ ঘেঁষেই চলছে দ্রুতগামী যানবাহন। ছোটবড় প্রায় সব দোকানে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করছেন দোকানিরা। স্থানীয় ডিলারদের থেকে দোকানিরা এসব সংগ্রহ করে বিক্রি করেন।


ঘোড়াশাল পৌর এলাকার দোকানী আমির হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও জিনারদী ইউনিয়নের পারুলিয়া মোড়ের মুদি দোকানি সালামসহ একাধিক দোকানী জানান, গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য কোন অনুমতিপত্র বা আগুন নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা তাদের দোকানে নেই। তারা জানান, ডিলাররা এসব সিলিন্ডার দিয়ে যায় আর তারা বিক্রি করেন।
ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী জয় মিয়া বলেন, তিনি ফেক্সিলোডের পাশাপাশি দোকানে বিভিন্ন কোম্পানির এলপি গ্যাস বিক্রি করেন। বাজারের প্রায় সব দোকানেই এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। অন্যদের দেখাদেখি তিনিও এসব বিক্রি করছেন।


এদিকে দোকানিদের পাশাপাশি গ্রাহকদের মাঝেও গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহনে উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই সিলিন্ডার কেনার পর রাস্তায় গড়িয়ে, মোটরসাইকেল কিংবা বাইসাইকেলে করে গ্যাস সিলিন্ডার পরিবহন করেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকলেও সচেতনতা নেই গ্রাহকদেরও।

এসব বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা ইয়াসমিন বলেন, যত্রতত্র এলপি গ্যাসের ব্যবসার কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় ডিলাররা বাড়তি লাভের আশায় খোলাবাজারের বিভিন্ন দোকানে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন। আমরা ইতোমধ্যে উপজেলা ফায়ার সার্ভিস থেকে বৈধ দোকানীদের তালিকা চেয়েছি এবং যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রিরোধে অভিযান শুরু করেছি।