শিবপুরের অপহরণ ও গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী জাকির গ্রেফতার

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:৪৩ পিএম | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:২১ পিএম


শিবপুরের অপহরণ ও গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী জাকির গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর শিবপুর থানার চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও গণধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী জাকির হোসেন (৩৭) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ১১। সোমবার (০৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত নয়টায় নরসিংদী সদর থানাধীন সাহেপ্রতাপ মোড়স্থ ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত জাকির জেলার শিবপুর থানার জয়মঙ্গল গ্রামের মো: সিরাজ উদ্দিনের ছেলে।
র‌্যাব-১১ এর অপারেশন অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‌্যাব জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল সোমবার রাতে সাহেপ্রতাপ মোড়স্থ ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় সেখান থেকে নরসিংদী জেলার শিবপুর মডেল থানার বহুল আলোচিত, চাঞ্চল্যকর অপহরণ ও গণধর্ষণ মামলার এজাহার নামীয় প্রধান আসামী মোঃ জাকির হোসেনকে (৩৭) গ্রেফতার করা হয়।
এর আগে গত ০২ আগস্ট ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে গ্রেফতারকৃত জাকিরের বিরুদ্ধে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে শিবপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধনী-২০০৩) ধারা ৭/৯(৩)/৩০ মোতাবেক একটি মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-০৩ তারিখ ০২/০৮/২০১৯।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, ভিকটিম ১৩ বছরের একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক বালিকা। সে তার পরিবারের সাথে শিবপুর থানাধীন বিরাজনগর এলাকায় বসবাস করে আসছে। ভিকটিমের বাবা একজন অটোরিক্সা চালক। গত ২৫ জুলাই ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে রাত নয়টার সময় ভিকটিম প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য ঘর থেকে বাইরে বের হয়। এসময় পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা আসামী ১। মোঃ জাকির হোসেন ২। মোঃ হযরত আলী, ৩। মোঃ কাজল মিয়া, ৪। মোঃ সেলিম মিয়া ও ৫। মোঃ মনির হোসেন মিলে ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক সিএনজি যোগে শিবপুর থানার জয়মঙ্গল গ্রামে ৩নং আসামী কাজল মিয়ার নির্জন বাড়ীতে নিয়ে যায়।
সেখানে নিয়ে আসামীরা মিলে ওই বালিকাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর আসামীরা এ ব্যাপারে কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি দিয়ে বিবস্ত্র, রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় মোঃ জাকির হোসেনের বাড়ীতে নিয়ে যায়। সেখানে তার বাড়ীর রান্না ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে আসামীরা পালিয়ে যায়।


সংবাদ পেয়ে ভিকটিমের মা-বাবা ও চাচা অভিযুক্ত জাকির হোসেনের বাড়ীর রান্নার ঘর থেকে অচেতন অবস্থায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে। লোকলজ্জার ভয়ে এবং মেয়ের ভবিষ্যতে বিবাহের কথা চিন্তা করে ভিকটিমের পরিবার বিষয়টি গোপন রাখে। কিন্তু পরবর্তীতে আসামীগণ কর্তৃক উক্ত ঘটনা লোকমুখে জানাজানি হলে বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে অবহিত করে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাটি মীমাংসার আশ¡াস দিয়ে বেশ কয়েকদিন কালক্ষেপন করে। অন্যদিকে আসামীরা ভিকটিমের পরিবারকে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান অপারগতা প্রকাশ করায় ভিকটিমের পিতা শিবপুর থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন।