আম্ফান: নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশে ২২ লাখ মানুষকে

১৯ মে ২০২০, ০৫:৫৬ পিএম | আপডেট: ৩০ মে ২০২০, ০২:৫২ এএম


আম্ফান: নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশে ২২ লাখ মানুষকে
ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

প্রবল শক্তি নিয়ে ধেঁয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। সোমবারই সুপার সাইক্লোনে রূপ নিয়েছে এই ঝড়। বঙ্গোপসাগরে শতাব্দীর প্রথম সুপার সাইক্লোন হিসেবে আঘাত হানতে যাচ্ছে এটি। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আম্ফানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ ও ভারতে ২২ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

করোনাভাইরাস আতঙ্কের মধ্যেই ধেঁয়ে আসছে এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। ফলে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত করা এবং সেখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

ভারতের আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে যে, সোমবার রাত থেকে আম্ফানের প্রভাবে ঘণ্টায় ২৪০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যাচ্ছে। এ সময় ২৬৫ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে গেছে।

এদিকে, ভারতের ন্যাশনাল ডিজেস্টার রেসপন্স ফোর্সের (এনডিআরএফ) প্রধান এসএন প্রধান বলেছেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূল এবং ভারতের পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানার আগে কিছুটা দূর্বল হয়ে পড়বে আম্ফান। তবে শক্তি কমলেও ২শ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো বাতাস বয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের দীঘায় ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে ভূমিধসের ঘটনা ঘটতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। ভূমিধসের সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৯৫ থেকে ২শ কিলোমিটার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে সোমবার ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, আম্ফানের তাণ্ডবে সাইক্লোন ফনির মতোই ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।

এদিকে, সোমবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান মোকাবিলায় নেওয়া প্রস্তুতি ও লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ন্যাশনাল ডিজেস্টার রেসপন্স ফোর্সের (এনডিআরএফ) কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এদিকে বাংলাদেশের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে মঙ্গলবার (১৯ মে) শেষরাতেই আঘাত হানতে পারে সুপার সাইক্লোন আম্ফান। তারপর থেকে বুধবার বিকেল/সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে ভয়ঙ্কর শক্তিশালী এই ঘূর্ণিঝড়।

কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলছেন, ২০০৭ সালে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর এই অঞ্চলে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আঘাত হানতে যাচ্ছে। সিডরের সময় বাংলাদেশে তিন হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল বলেছেন, মঙ্গলবার থেকে নিচু এলাকার প্রায় ২০ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হবে।

তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৫০ লাখের বেশি মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। ১২ হাজার ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র এর মধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আশ্রয়কেন্দ্রে আসা লোকজনকে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং হ্যান্ড গ্লাভস পরতে উৎসাহিত করা হবে।

অপরদিকে, মঙ্গলবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২ লাখের বেশি মানুষকে নিচু এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


বিভাগ : বিশ্ব