আমাদের বিজয় আমাদের পরাজয়:  মহসিন খোন্দকার

১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৫৮ পিএম | আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২০, ১১:৫০ এএম


আমাদের বিজয় আমাদের পরাজয়:  মহসিন খোন্দকার

এক মায়াবী রূপটানের নাম বাংলাদেশ।এক দ্রোহী সত্ত্বার নাম বাংলাদেশ।এক সবুজ অবুঝ ভালোবাসার নাম বাংলাদেশ।


এর রূপে-গুণে,সৌরভ-শৌর্যে,লাস্য-লাবণ্যতায় মুগ্ধ হয়ে অতিতে বহু অতিথি-বেড়াল,পরিব্রাজক,ডাকাত, দস্যুদল, সান্ত্রি, সন্ন্যাসী,এদেশে ছুটে এসেছিলেন।প্রায় তিন হাজার বছর আগে এ মাটিতে পা রেখেছিলেন যাযাবর দুধর্ষ আর্যরা।সময়ান্তরে এ ভূ-খন্ডকে শাসন করেছেন মৌর্যরা, রাজা শশাঙ্ক,পাল রাজারা,সেন শাসকরা,তারপর মুসলিম শাসকরা,তারপর ইংরেজরা,তারপর পাকিস্তানের হাত ঘুরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা অর্জন করেছি এক স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র, বাংলাদেশে।এ ভূ-খন্ডে পা রেখেছিলেন,বিশিষ্ট বৌদ্ধশাস্ত্রজ্ঞ,আধ্যাত্মিক সাধক চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন-সাং,পৃথিবীর অন্যতম সমরবিদ,গ্রীকবীর আলেকজান্ডার দ্যা গ্রেট,বিখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ, মরক্কোর পন্ডিত ইবনে বতুতা,পর্তুগীজ ভ্রমণকারী,ভূতত্ত্ববিদ যিনি সর্বপ্রথম ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে সাগর পথ আবিস্কার করেছিলেন ভাস্কোদা গামা,এমন কী আমেরিকার মাটিতে পা রাখা প্রথম ইউরোপীয় ইটালির নাগরিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস ও আসতে চেয়েছিলেন এই উপ-মহাদেশে।


কেউ এসেছিলেন রূপে আকৃষ্ট হয়ে,কেউ এসেছিলেন বাণিজ্য করতে,কেউ এসেছিলেন সাম্রাজ্য দখলের উদ্দেশ্যে,কেউ এসেছিলেন শুধু দেখা,শেখাও উপভোগের জন্যে।ভারতীয় প্রকৃতি,জীব বৈচিত্র ও নানা মসলার ঘ্রাণে ভীড় জমাতেন অনেকে।তাই আরব বণিকরা,ইউরোপীয় বণিকরা কোলকাতার কালিঘাটে তাদের জাহাজ বেড়াত। মসলা সহ অন্যান্য পণ্য নেওয়ার প্রতিযোগিতায় নামত তারা।বিভিন্ন দেশের বণিকরা ভারত থেকে মসলা নিতে এসে অন্য বণিকদের সাথে যুদ্ধও করেছে। সে যুদ্ধের নাম "মসলার যুদ্ধ"।


ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ভারতীয় উপমহাদেশ চিরদিনই পরিচিতি ছিল স্বর্গ হিসাবে।বহুকাল ধরে এই এলাকার সম্পদের প্রাচুর্য, বিশেষ করে এখানে উৎপাদিত বিভিন্ন মসলা আকৃষ্ট করেছে ইউরোপীদেরকে।পনের শতকের দিকে এখানে আরব,ইরান ও চীনের সাথে এসে ব্যবসায় নাম লেখায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশ।এই উপমহাদেশে সবার আগে আসে পর্তুগীজরা,তাদের এক'শ বছর পর আসে ডাচ ব্যবসায়ীরা(ওলন্দাজ)।প্রথম ব্রিটিশ নাবিক ভারতে আসেন ১৫৮২ সালে।কিন্তু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্ম ১৬০০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। রাণী প্রথম এলিজাবেথ এই কোম্পানিকে ভারতে বাণিজ্য করার রাজকীয় সনদ প্রদান করেন।১৬০৮ সালে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসন আমলে ইংরেজরা ভারতের সুরাটে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্হাপন করে এই উপমহাদেশে ব্যবসা শুরু করে। ১৬০২ সালে কিছু ডাচ ব্যবসায়ী এদেশে এসে ইউরোপের সাথে তাদের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য পথ তৈরির স্বার্থে "ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি" প্রতিষ্ঠা করেন।মূলত তারা ওলন্দাজ।ওলন্দাজরা ১৬৩০ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় বসতি স্হাপন করে।১৬৩৩ থেকে ১৬৩৮ খ্রিস্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে তারা উড়িষ্যা ও পাটনায় বাণিজ্য কুঠি স্হাপন করে।সতের'শ শতকের পঞ্চাশের দশকের প্রথম দিকে ওলন্দাজরা ঢাকায় একটি বাণিজ্য কুঠি নির্মাণ করেছিল।বর্তমান মিটফোর্ড হাসপাতাল স্হলে তাদের ঢাকা বাণিজ্য কুঠি অবস্হিত ছিল এবং তেজগাঁয়ে তাদের একটি বাগান বাড়ি ছিল।১৬০৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট ৪র্থ হেনরি সর্বপ্রথম ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠনের অনুমিত দেন।১৬১৫ খ্রিস্টাব্দের পর ফ্রান্স থেকে আগত দুটো জাহাজ ভারতবর্ষের সমুদ্র সীমানায় নোঙ্গর করে।তারা মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের সময় ভারতের সুরাটে,পরবর্তীতে চন্দননগর, পডুচেরি,ইয়ানামে বাণিজ্য কুঠি স্হাপন করে ব্যবসা করে।


বিভিন্ন বণিকদল ব্যবসা করতে এসে রাজ্য দখল,রাজ্যশাসন, জোর-জবরধস্তি,শোষণ,নিপীড়ন করেছে।তাদের মধ্যে ইংরেজ,পর্তুগীজ,ফরাসি,ওলন্দাজ ও মগরা অন্যতম।পর্তুগীজরা বাংলায় প্রথম আসে ১৫১৬ সালে।ভাস্কোদা গামা তাদের আসার পথ সুগম করে দিয়েছিলেন।শেরশাহ তাদের বিতাড়ন করেছিলেন।কিন্তু মুঘল শাসন পুন:প্রতিষ্ঠার পর তারা আবার ফিরে আসে এই উপমহাদেশে।তারা প্রায় এক'শ বছরের বেশি বাংলায় ব্যবসা,বাণিজ্য,ধর্ম প্রচার,কৃষিকাজ ও দাস ব্যবসা করেছিল।সর্বশেষ ১৬৩২ সালে কাসিমখান যুদ্ধে পরাজিত করে তাদেরকে বাংলা ছাড়া করেন।তখন বার্মা থেকে বারবার মগ দস্যুরাও ছুটে এসেছিল এই বাংলায়।মগ,পর্তুগীজ ও ফিরিঙ্গীর দল ষোড়শ শতাব্দীর মধ্য ভাগে এমন দস্যুবৃত্তি আরম্ভ করেছিল যে,বঙ্গে তখন কোনো শাসনই ছিলনা।মগ ও ফিরিঙ্গী দস্যুরা বঙ্গের দক্ষিণ দিক হতে নদী পথে দেশের মধ্যে যেখানে সেখানে প্রবেশ করে লুন্ঠন,গৃহদাহ ও জাতিনাশে লিপ্ত হতো।বিভিন্ন ইতিহাস হতে জানা যায় চৌর্য আর দস্যুতাই ছিল তাদের প্রধান ব্যবসা।তারা এদেশ থেকে পুরুষদের ধরে নিয়ে নিয়ে দাস হিসাবে অন্যত্র বিক্রি করত।ইংরেজ,পর্তুগীজ, ওলন্দাজ(ডাচ) ফরাসি,মগ ও ফিরিঙ্গীরা দফায় দফায় ব্যবসার নামে বাংলাকে লুটপাট করেছে,শাসনের নামে শোষণ করেছে আমাদের।প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কারণে, চতুর ইংরেজ ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন এই দেশের কিছু লোভী,নীচ ও বেঈমান লোকের সহযোগিতায় বাংলার শেষ নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পলাশের যুদ্ধে পরাজিত করে আমাদের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে আমাদেরকে এক দু:সহ দীর্ঘশ্বাসের খাঁচায় নিক্ষেপ করে।আমাদের কিছু লোককে মিথ্যা প্ররোচনার ফাঁদে ফেলে,নানান লোভে আকৃষ্ট করে ব্যবসায়ী ইংরেজ হয়ে যায় আমাদের রাজাধিরাজ,মোড়ল, শাসক ও প্রভু।আমাদের দেশে আমরা হয়ে যায় পরাধীন,পরবাসী ও অদ্ভুত ক্রীতদাস। নানান কলা-কৌশল করে উড়ে এসে জোরে বসে বেনিয়ারা।শুরু হয় কালো কলোনিয়াল যুগ।দীর্ঘ পরাধীনতার কালো কুৎসিত অধ্যায়ের সূচনা থেকে শেষ পর্যস্ত বহু লড়াই,সংগ্রাম,আন্দোলন,আত্মাহুতির পর ১৯৪৭ সালে এ দেশ থেকে বিদায় নেয় ইংরেজ।ইংরেজরা প্রায় দুই'শ বছর শাসনের নামে শোষণ,লুটপাট,অত্যাচার, নিপীড়ন ও জুলুমবাজির ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত রেখে গেছে এ ভূ-খন্ডে।তাই এই দেশে সময়ে সময়ে ইংরেজ বিতাড়নের জন্যে হয়েছে লড়াই,সংগ্রাম, বিদ্রোহ, বিপ্লব ও রক্তাক্ত সংঘর্ষ। এ সবের মধ্যে ফকির মজনু শাহ-এর নেতৃত্বে ফকির ও সন্ন্যাসী বিদ্রোহ(১৭৬০-১৮০০সাল),হাজি শরিয়ত উল্লাহ ও দুদু মিয়ার নেতৃত্বে ফরায়েজি আন্দোলন(১৮১৯সালে),সিপাহী বিদ্রোহ (১৮৫৭সালে),মীর নিসার আলী তিতুমীরের নেতৃত্বে ওয়াহাবি আন্দোলন(১৮৩১সালে),চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন(১৭৯০সাল থেকে শুরু),সাঁওতাল বিদ্রোহ(১৮৫৫-১৮৫৬সাল),স্বদেশী আন্দোলন ও বর্জননীতি(১৯০৫-১৯০৮সাল),স্বরাজ দল গঠন ও আন্দোলন(১৯২২-১৯২৫সাল),গান্ধিজির নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন(১৯২০-১৯২২সাল) ও লবণ সত্যাগ্রহ(১৯৩০সালে),কমরেড মণি সিংহের নেতৃত্বে টঙ্ক আন্দোলন(১৯৩৭ সাল থেকে শুরু),অজিত বসু ও ইলামিত্রের নেতৃত্বে তেভাগা আন্দোলন(১৯৪৬-১৯৪৭সাল) ইত্যাদি উল্লেখ যোগ্য।তাছাড়া সৈয়দ আহম্মদের নেতৃত্বে সাহসী ওয়াহাবি আন্দোলন,বাঁশের কেল্লা তৈরি করে ইংরেজদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা চরম মানসিক শক্তিতে বলিয়ান মীর নিসার আলী তিতুমীরের আত্মদান আমাদেরকে সৎ ও সাহসী হতে শিক্ষা দিয়েছে।আমাদের সাহসী সূর্যসন্তানরা ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনে এক চির অহংকারের স্তম্ভ।তারা ইংরেজদের আজ্ঞা অনুগ্রহধন্য জমিদার,সুদখোর মহাজন, পুলিশ,ম্যাজিস্ট্রেট, পরিশেষে সমাজ সংস্কারক দালাল চরিত্রের বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই করেছে।নিপীড়িত কৃষক ও অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষ যারা ইংরেজদের দ্বারা চরম ভাবে লাঞ্চিত-বঞ্চিত হয়েছিল,যে সকল কৃষক চাষিদেরকে অত্যাচার নির্যাতন করে বাধ্য করেছিল নীলচাষের জন্যে তারাও ইংরেজদের পদলেহনকারি জমিদার ও জোতদারদের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে লাঠি ধরেছিল।

কবি,লেখক,সাংবাদিক,নায়ক,গায়ক,শিল্পী,বোদ্ধা, কমিউনিষ্ট বিপ্লবী,গোপন সংগঠন অনুশীলন, যুগান্তর,আজাদ হিন্দ ফৌজ,ইনকিলাব পার্টির দুরন্ত সাহসী অগ্নিআত্মারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে এককভাবে অথবা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মরণপণ লড়াই করেছে।ইংরেজ বিরোধী আন্দোলনে প্রথম শহীদ মীর নিসার আলী তিতুমীর,তারপর থেকে ইংরেজদের হত্যাকান্ড থেমে নেই,ব্রিগেডিয়ার ডায়ারের নেতৃত্বে জালিয়ানওয়ালাবাগে বদ্ধ উদ্যানে প্রায় চার শত নিরস্ত্র নিরিহ লোককে গুলি করে হত্যা করে এবং সহস্রাধিক লোককে গুরুতর আহত করে যারা সমবেত হয়েছিল কংগ্রেস নেতা সাইফুদ্দিন কিচলুর গ্রেফতারের প্রতিবাদে,সাঁওতাল বিদ্রোহে সাঁওতাল নেতা কানু,সিধু সহ হাজার হাজার সাঁওতাল কৃষকে হত্যা করে,নীল কুঠির শ্রমিককে নীলকুঠির চুল্লিতে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে,অগণিত সংগ্রামী ও বিপ্লবীদের অমানসিক নির্যাতন করে হত্যা করে।অগ্নিপুরুষ মাস্টার দ্যা সূর্যসেনের আত্মত্যাগ,ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকীর আত্মত্যাগ,প্রীতিলতা ওয়েদ্দেদার,ভগৎ সিং,পালোয়ান শিশু খান,শের আলী,বিনয়,বাদল ও দীনেশের আত্মত্যাগের পথ মাড়িয়ে, জীবন বাজি রেখে বিপ্লবের পথে পা বাড়ানো শত সহস্র স্বাধীনতাকামী যারা গ্রেফতার হয়ে গরাদের অন্তরালে দু:সহ যন্ত্রণায় পলে পলে দগ্ধ হয়েছিল,আর দ্বীপান্তরিত মুক্তিকামী অযুত-নিযুত সংগ্রামী অমর আত্মার প্রবল ইচ্ছার উচ্ছ্বাসে একদিন ভেসে গে'ল ইংরেজদের সকল নীলনকশা,সকল দূরভিসন্ধি। সে সময়টি হলো ১৯৪৭ সাল।সব পাঠ চুকিয়ে ইংরেজ বিদায় নেয়।এই উপমহাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট জন্ম হয় পাকিস্তান রাষ্টের আর ১৫ আগস্ট ভারতের।রাজা যায় রাজা আসে কিন্তু সহজে মুক্তি মিলেনা।১৯৪৭ সালে ভারত ভাগেও আমরা ঘৃণ্য প্রহসনের শিকার হয়েছি।জহরলাল নেহেরু,মাউন্ট ব্যাটেন ও এডুইনার ত্রিভুজ ষড়যন্ত্রে ১৯৪৭ সালে আমরা পেয়েছি এক ভাঙ্গা বাংলা।আস্ত বাংলা থেকে অনেক জেলা ভারতের পেটে ঢুকিয়ে দিয়ে নতুন মানচিত্র করা হয় বাংলার। সতের জেলার এক ভাঙ্গা বাংলা তোলে দেওয়া হয় জিন্নাহ সাহেবের হাতে।

কোলকাতা,হাওড়া,হুগলি,বীরভূম, বাঁকুড়া, বর্ধমান, মেদিনীপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম দিনাজপুর, পশ্চিম নদীয়া, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এসব জেলা ফেলে দেওয়া হয় ভারতের ভেতর।আর দিনাজপুর, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, পাবনা,ময়মনসিংহ, সিলেট, কুষ্টিয়া(নদীয়া),বরিশাল(বাকেরগঞ্জ),ঢাকা,যশোর,
খুলনা,ফরিদপুর,নোয়াখালি,চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম এই সতের জেলা নিয়ে ভাঙ্গা বাংলা বা পূর্ব পাকিস্তান গঠন করা হয়।বলা হয়েছে অপেক্ষাকৃত হিন্দু অধ্যুষিত জেলা গুলো হিন্দুস্হানে বা ভারতের অন্তরভুক্ত করা হয়েছে আর অপেক্ষাকৃত মুসলিম অধ্যুষিত জেলা গুলো পূর্ববঙ্গে বা পূর্বপাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সন্ধিতে বা যুক্তিতে আমরা চরম ভাবে ঠকেছি।সব কয়লার খনি,পাটকল,চা বাগান,নানান ফলের বাগান ও দর্শনীয় আকর্ষণীয় স্হান সব পশ্চিম বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে অর্থাৎ ভারতে ফেলা হয়েছে। আর যা বাকী থাকে তা বৃহৎ একটা জলাশয় মাত্র।এই জলাশয়টিই দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে তোলে দেওয়া হয়েছে কায়েদ-ই আজম জিন্নাহের হাতে ধর্মীয় খোল-নলচে লাগিয়ে সাম্প্রদায়িকতার দ্বান্দ্বিক ধোঁয়া টানার জন্যে।পাকিস্তান রাষ্ট্র জন্মের শুরুতেই শাসক গোষ্ঠী আমাদের সাথে বৈষম্য মূলক আচরণ শুরু করে।শিক্ষা,কৃষি,শিল্প,উন্নয়ন কর্মকান্ড,চিকিৎসা,কর্মসংস্থান সর্বক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানিদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হতো। তারা প্রথমে আমাদের মাতৃভাষার ওপর আঘাত হানে। ১৯৪৭সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের জন্মের মাত্র সাত মাস পরে অর্থাৎ ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদ-ই আজম জিন্নাহ পূর্ববঙ্গে এসে রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় খুব দাম্ভিক কন্ঠে ঘোষণা দেন--
"Let me make it very clear to you that the state language of Pakistan is going to be Urdu and no other language".এই ঘোষণার ঠিক তিন দিন পর ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে বিশেষ সমাবর্তনের ছাত্র সভায় বেশ জোরালো ভাষায় তিনি আবার উচ্চারণ করেণ "পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু,যারা এর বিরোধিতা করবে,তারা পাকিস্তানের দুশমন,তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।" ছাত্ররা তৎক্ষণাৎ জিন্নার এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথার প্রতিবাদ করেন।যাই হোক কায়েদ-ই আজম জিন্নাহ সাহেবের ভাগ্য ভালো এই ঘোষণার চরম পরিণতি দেখে যেতে পারেননি। এই ঘোষণার ছয় মাস পরেই অর্থাৎ ঐ বছরের সেপ্টেবরেই তিনি মৃুত্যুবরণ করেন।ভাষা আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয় ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি।

পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর সকল রক্তচক্ষুর শাসানি, ধমকানি উপেক্ষা করে ১৪৪ ধারা পায়ে পিছে মৃুত্যুকে হাতের মুঠোয় নিয়ে মায়ের ভাষাকে মুক্ত করতে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন সালাম, রফিক,শফিক,জব্বার ও বরকতেরা।টগবগে ছাত্র তরুণদের রক্তে হামাগুড়ি দিয়ে মায়ের ভাষা বাংলা রাষ্ট্র ভাষার মর্যাদা পায়। ভাষা আন্দোলন বাঙালির সবচেয়ে বড় এবং সফল অসাম্প্রদায়িক আন্দোলন।সবাইকে এক চেতনায় এক বিন্দুতে নিয়ে আসার আন্দোলন।

আমাদের ভাষা আন্দোলন শুধু ন্যায়ের পক্ষে লড়াই সংগ্রাম করে কোনো কিছু আদায় করাই শেখায়নি,শিখিয়েছে কীভাবে মৃত্যুর সামনে বুক চিতিয়ে লড়াই করতে হয়।ভাষা আন্দোলনে জয় আমাদেরকে শুধু ভাষার স্বাধীনতাই দেয়নি, দিয়েছে আমাদের নিজস্ব বোধ ভাবনার মুক্তি,আমাদের সংস্কৃতির মুক্তি,খুলে দিয়েছে হৃদয় আত্মার একান্ত দরজা-জানালা।দেখিয়েছে দূর স্বাধীনতার উজ্জ্বল চূড়া,সকল বাঙালির ভেতরের ভুবনে অঙ্কুরিত করেছে স্বাধীনতার সাহসী বীজ।পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী পাকিস্তানের জন্ম থেকেই পূর্ববাংলার মানুষের সাথে বৈষম্য মূলক আচরণ করে আসছিল।এর মধ্যে একটি হলো ক্ষমতা কুক্ষিগত করে পূর্ববাংলার নেতা কর্মীও সাধারণ জনগণকে দলিত করা। এই একচ্ছত্র প্রভুত্ববাদের বৃত্ত-বলয় ভাঙ্গার জন্যে বাংলার তিন অবিসংবাদিত নেতা শের-ই বাংলা এ.কে.ফজলুল হক,হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ১৯৫৪ সালে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন।কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিশেষ করে ভাসানীর আওয়ামী মুসলিমলীগ,হক সাহেবের কৃষক শ্রমিক পার্টি,পাকিস্তান গণতন্ত্রী পার্টি, নেজামে ইসলামি ও আরো ছোট ছোট রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে।এই যুক্তফ্রন্ট ২১ দফার একটি নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে।১৯৫৪ সালের ৮ থেকে ১২ মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান পরিষদের নির্বাচনে২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল মুসলিমলীগ এই নির্বাচনে সম্পূর্ণরূপে পরাভূত হয় তারা পায় মাত্র ৯টি আসন।১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল শের-ই বাংলা এ.কে.ফজলুল হক প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন কিন্তু ৩১মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনালের মালিক গোলাম মুহাম্মদ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী পরিষদ বাতিল করে দিয়ে প্রদেশে গভর্নরের শাসন প্রবর্তন করেন।১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেওয়ার পর জেনালের ইস্কান্দর মীর্জাকে পূর্ববাংলার গভর্নর নিয়োগ ছিল পূর্বপাকিস্তানে মার্শাল ল' বা সামরিক শাসন জারির রিহার্সাল। পাকিস্তানের পাঞ্জাবি ও উত্তর প্রদেশের সামরিক আমলা চক্র কোনো অবস্হাতেই পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ট বাঙালি নাগরিকদের নির্বাচিত সরকার বরদাশত করতে প্রস্তুত ছিলনা। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান প্রণয়নে পূর্ব পাকিস্তানের নেতাদের মতামতের তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।সেই সংবিধানে পাকিস্তানকে "ইসলামি প্রজাতন্ত্রী পাকিস্তান" নামকরণ করা হয় এবং উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। 214.(1)-The state language of Pakistan shall be Urdu and Bengali.

নানান কারণে ১৯৫৬ সালের মার্চ মাসে বলবৎ হওয়া নতুন সংবিধান ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা বাতিল করে দিয়ে মার্শাল ল' আরোপ করেন।পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইস্কান্দার মির্জা(মীরজাফরের বর্শধর) ১৯৫৮ সালের অক্টোবর মাসে জাতীয় ও প্রাদেশিক মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দেন,সংবিধান স্হগিত করেন,সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেন আর সেনা প্রধান আইয়ূব খানকে সামরিক আইন প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ করে দেশে সামরিক আইন বা মার্শাল ল' জারি করেন।যাই হোক,তিন সপ্তাহ পর ইস্কান্দর মির্জা আইয়ূব খানকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করেন।আর তিন দিন পর আইয়ূব খান প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিয়েই রাতের বেলায় ইস্কান্দার মির্জাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করেন।এরপর আইয়ূব খান নিজে নিজেই প্রেসিডেন্ট পদ দখল করে নেন।এভাবেই শুরু হয় পাকিস্তানে সামরিক শাসন যার পরিসমাপ্তি হয় ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর। ১৯৫৬ সালের শাসনতন্ত্র আন্দোলনের পর আমরা ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন করেছি।পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী কোনো অধিকারই আমাদেরকে খুব সহজে দেয়নি।আমাদের মৌলিক অধিকার গুলোর ওপর তারা একের পর এক আঘাত হানছিল।বাঙালিকে ধীরে ধীরে শিক্ষা বঞ্চিত করে এক অদ্ভুত অন্ধকারে নিক্ষেপ করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।১৯৬২ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন শিক্ষা সচিব ড.এস.এম শরীফ একটি রিপোর্ট দাখিল করেছিলেন যা শরীফ কমিশন রিপোর্ট নামে পরিচিত।এই রিপোর্টে শিক্ষাকে নিরেট পণ্য হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছে। গবীর ও শ্রমজীবী মানুষের সন্তানদের জন্যে শিক্ষাগ্রহণের পথ এক প্রকার রুদ্ধ করা হয়েছে।গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে উচ্চবিত্তকে এবং শিক্ষার খরচ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছিল।রিপোর্টের এক জায়গায় বলা হয়েছে "শিক্ষা সস্তায় পাওয়া সম্ভব নয়"।তাই এই শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টটি ছিল গণবিরোধী,প্রতিক্রিয়াশীল ও বৈষম্য মূলক। ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে আরবী ভাষাকে সর্বত্র প্রতিষ্ঠা করার গোপন ফন্দি ছিল এই রিপোর্ট। এই বৈষম্য মূলক শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে পূর্বপাকিস্তানে তুমুল আন্দোলন গড়ে ওঠে।১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেবর আইয়ূব খানের গণবিরোধী শিক্ষা নীতি বাতিলের দাবীতে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল থেকে বের হয়ে আব্দুল গণি রোড ধরে সামনে অগ্রসর হলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বাবুল, মোস্তফা ও ওয়াজিউল্লাহ।এই দিবস টিকে আমরা এখন "শিক্ষা দিবস" হিসাবে পালন করি। ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র জনতার ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে তথাকথিত "শিক্ষানীতি" স্হগিত করা হয়।সময়ান্তরে নানা সংকট আরো ঘনিভূত হচ্ছিল।তাই বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক ও প্রশাসৈনিক সংকট থেকে উত্তরণের পথ খু্ঁজছিলেন।তাই তার দূরদর্শী চিন্তা দিয়ে পাকিস্তানের সামরিক সরকারের জুলুম নির্যাতন ও বৈষম্য মূলক আচরণের হাত থেকে নিষ্কৃতি পেতে ১৯৬৬ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী রাজনৈতিক দল গুলোর এক সম্মেলনে পূর্বপাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে বঙ্গবন্ধু তার ঐতিহাসিক ছয় দফা পেশ করেন।বঙ্গবন্ধু ছয়দফা বাস্তবায়নের জন্যে সারা পূর্বপাকিস্তানে মিছিল, মিটিং ও জনসভা করে ছয়দফার পক্ষে ব্যাপক গণজোয়ার সৃস্টি করেন।বঙ্গবন্ধু জনসাধারণের কাছে ছয়দফাকে "আমাদের প্রাণের দাবী" বলে উল্লেখ করেন।ছয়দফার আন্দোলন ধীরে ধীরে প্রবল থেকে প্রবল রূপ নিচ্ছিল।পূর্বপাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী এই আন্দোলনের মতিগতি বোঝতে পেরে তা নসাৎ করার জন্যে ১৯৬৮ সালের প্রথমভাগে বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমান সহ ৩৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করে দেন।যা ইতিহাসে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা নামে খ্যাত।পাকিস্তানের শাসক গোষ্ঠী ঐ মামলায় অভিযোগ করেন তারা(পূর্বপাকিস্তানের নেতারা)পাকিস্তান ভাঙ্গার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।এই মামলায় ১৯৬৮ সালের ৬ জানুয়ারি ২ জন সিএসপি অফিসার সহ ২৮জন জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ১৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়।এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে সারা দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে।সারা দেশে বিক্ষোভের দাবানল পুড়তে থাকে সংগ্রামী জনতা।ঢাকা,রাজশাহী ও চট্টগ্রামে উত্তাল জনতা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে পুলিশ তাতে গুলি চালায়।এতে জনতা ক্ষিপ্ত হয়,ফুঁসে ওঠে।আন্দোলন রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে।পুলিশ মিছিলে গুলি চালালে ২০ জানুয়ারি ঢাকায় ছাত্রইউনিয়ন নেতা আসাদুজ্জান (আসাদ) নিহত।আসাদের রক্তাক্ত শার্ট নিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা আরো অগুন উতপ্ত মিছিল বের করে।পুলিশের গুলিতে নিহত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড.শামসুজ্জোহা,হত্যা করা হয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি সার্জেন্ট জহুরুল হককে।২৪ জানুয়ারি পুলিশের গুলিতে নিহত হয় নবকুমার ইন্সটিউটের দশম শ্রেণির ছাত্র মতিয়ূর।তুমুল তুখোড় উত্তাল আন্দোলনের সামনে মাথা নত করতে বাধ্য হয় স্বৈরাচার আইয়ূব খান।আসাদ-মতিয়ূর-মকবুল-রুস্তম-সাজের্ন্ট জহুরুল হক-ড.শামসুজ্জোহার রক্তে রঞ্জিত সেই '৬৯-এর ১১ দফা আন্দোলনে সবশেষে সফলতা আসে ১৯৬৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি আইয়ূব খানের এই মামলা প্রত্যাহার ও ২৫ মার্চ তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে।১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানের গদিতে বসেন(রাষ্ট্রপতি)আরেক কুখ্যাত সামরিক কর্মকর্তা ইয়াহিয়া খান।অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু মামলা ও কারাগার থেকে মুক্ত হলে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রমনা রেসকোর্স ময়দানে(বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) কেন্দ্রীয় সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাকে গণসংবর্ধনা দেয়।সেই গণসংবর্ধনায় তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে আনুষ্ঠানিক ভাবে "বঙ্গবন্ধু" উপাধিতে ভূষিত করেন।১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬ষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকীর আলোচনা অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবনায় পূর্বপাকিস্তানের নামকরণ করা হয় "বাংলাদেশ"।১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫৫ সাল পযর্ন্ত পূর্বপাকিস্তানেরর নাম ছিল পূর্ববঙ্গ। অনেক বাধানিষেধ, তর্কাতর্কি, রক্তাক্ত সংঘর্ষেরর পর ১৯৭০ সালের সাত ডিসেম্বর সামরিক সরকার ইয়াহিয়া নির্বাচন দিলেন।পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে আওয়ামীলীগ সর্বোচ্চ ১৬০টি আসনে জয় লাভ করে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে।এই নির্বাচন বাঙালির স্বাতন্ত্র্যবাদের বিজয়।এই নির্বাচনের ভেতর দিয়ে প্রতিবাদী বাঙালি পাকিস্তানিদের শোষণ পীড়ন থেকে মুক্তির চেতনায় আরো শাণিত হয় এবং পূর্বে ঘোষিত ৬ দফা যে ন্যায্য ও সঠিক ছিল তা প্রমাণিত হয়।আওয়ামীলীগ নির্বাচনের পর থেকেই গণ রায়ের ভিত্তিতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্যে বারবার দাবি জানায়।১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা রেসকোর্স ময়দানে প্রকাশ্যে শপথ গ্রহণ করেন।একদিকে আওয়ামীলীগ ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতি গ্রহণ করলে অন্যদিকে জুলফিকার আলী ভুট্টো শুরু থেকেই তা বানচালের জন্যে ইয়াহিয়া খানকে সাথে নিয়ে ষড়যন্ত্র করেন।ভুট্টোর চালে সাড়া দিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্হগিত করায় আওয়ামীলীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ব্যাহত হয়।পাকিস্তানের এহেন আচরণে আওয়ামীলীগ দেশ ব্যাপী আবার অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়।১৯৭১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি জয়বাংলা বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গার্ড অব অনার দিয়ে এক নতুন পতাকা তোলে দেয় তার হাতে।১৯৭১ সালের ২ মার্চ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশাল সমাবেশ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এই পতাকা সর্বসাধারণের সামনে আনুষ্ঠানিক ভাবে "স্বাধীন বাংলার পতাকা" রূপে উত্তোলণ করা হয়।৩ মার্চ থেকে শুরু হয় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলন যা ২৫ মার্চ পযর্ন্ত অব্যাহত ছিল।এ দিকে ইয়াহিয়া ভুট্টো এসেম্বলি ডাকবেন,ক্ষমতা বুঝিয়ে দিবেন,শাসনতন্ত্র দিবেন বলে বতাসে যে বুলি ছেড়ে যাচ্ছিলেন তা শুধুই কালক্ষেপন মাত্র।এই ফাঁকে তারা গুছিয়ে নিচ্ছিলেন সর্বোচ্চ ঘৃণ্য সামরিক আঘাত হানার সকল গোপন অন্ধিসন্ধি। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে উত্তাল লাখো জনতার সামনে তার জীবনে শ্রেষ্ঠ ভাষণ দিলেন।১৮ মিনিটের সেই ভাষণে তিনি উদ্বুদ্ধ পরিস্হিতি, চলমান রাজনৈতিক সংকট ও সামনের করণীয় ব্যাপারে স্পষ্ট, দূরদর্শী ও জ্ঞানগর্ভ ভাষণ দেন।তিনি তার ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের স্পষ্ট ইংগিত দিয়ে বাংলাদেশের জনসাধারণকে সব নিয়ে প্রস্তুত থাকার আহবান জানান।সকল আলোচনা,আয়োজন ও উদ্যোগ ব্যর্থ হলে(আসলে সবই ছিল প্রহসন আর পাতানো নাটক)ব্ঙ্গবন্ধুকে ২৫ মার্চ গভীর রাতে তার ধানমন্ডির বাসাভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়।১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে শেখমুজিবুর রহমান পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন।গ্রেফতার হওয়ার একটু আগে ২৫ মার্চ রাত ১২ টার পর(২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।এরপর মেজর জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। আর অন্যদিকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকা সহ সারা দেশে তাদের ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা,জ্বালাও-পোড়াও শুরু করে দেয় যা ইতিহাসে "অপারেশন সার্চলাইট" নামে খ্যাত।বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্যে অস্হায়ী ভাবে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে বৈদ্যনাথতলার নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রপতি(বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানে বন্দী থাকার কারণে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্হায়ী রাষ্ট্রপতি করা হয়),প্রধানমন্ত্রী করা হয় তাজউদ্দিন আহমেদকে।খন্দকার মোশতাক আহমেদ,এম.মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জান সহ আরো অনেককে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।অন্যদিকে রক্তে ভেসে যাচ্ছে ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল। ইয়াহিয়া খানের হুকুম,পূর্বপাকিস্তানে শুধু মাটি থাকবে আর অন্য কিছুনা।তাই হানাদার বাহিনী রাজাকারদের সহযোগিতায় নির্বিচারে চালায় গণহত্যা আর জ্বালাও পোড়াও।হাজার হাজার নিরস্ত্র মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে আশ্রয় নেয়।দেশের ছাত্র তরুণ যুবক জনতা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে ভারতে গিয়ে যুদ্ধের ট্রেনিং গ্রহণ করে স্বদেশে ফিরে এসে প্রতিরোধ করে তোলে।প্রথমে বাঙালিরা মার খেলেও পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধারা স্হানে স্হানে প্রতিরোধ গড়ে তোলে।কিছু ব্যতিক্রম বাদে সর্বস্তরের মানুষ এ যুদ্ধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে যার যার সামর্থ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছে।তাই আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধ মূলত একটি জনযুদ্ধ।


এই যুদ্ধে সরাসরি ভারত ও রাশিয়ার সহযোগিতায় ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ত্রিশ লক্ষ তাজা প্রাণ ও দুই লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করে।১৬ ডিসেম্বর বিকাল ৪.১৫ মিনিটে ঢাকার রমনার রেস কোর্স ময়দানে ভারতের জেনারেল জগজিত সিং অরোরার সামনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি আত্মসমর্ণের দলিলে স্বাক্ষর করার সাথে সাথে পৃথিবীর বুকে জন্ম নিল আরো একটি স্বাধীন দেশ,বাংলাদেশ।বঙ্গবন্ধু ৭জানুয়ারি পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে প্রথমে লন্ডন যান, সেখানে দুই দিন কাটানোর পর দিল্লী হয়ে ১০ জানুয়ারি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন।পাকিস্তানের শাসকরা যেখানে তাকে হত্যার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল সেখানে বঙ্গবন্ধুকে সসম্মানে দেশে ফেরত পাঠাতে তারা বাধ্য হয়েছিল।এ সিদ্ধান্তের পেছনে একদিকে ছিল প্রবল আন্তজার্তিক চাপ অন্যদিকে বাংলাদেশের মাটিতে পরাজিত এবং আত্মসমর্পনকৃত পাকিস্তানি সৈন্যদের নিরাপদে স্বদেশে ফেরার তাগিদ।


বঙ্গবন্ধু ১২ জানুয়ারি সংসদীয় শাসন ব্যবস্হা প্রবর্তন করে শপথ গ্রহণ করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।মতাদর্শগত ভাবে তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী ছিলেন, সংক্ষেপে যাকে মুজিববাদ বলা হয়।


অনেক স্বপ্ন নিয়ে বঙ্গবন্ধু একটি নতুন দেশের প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও পরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব কাঁধে তোলে নিয়েছিলেন।নতুন দেশ,নতুন সরকার,নতুন স্বপ্ন নিয়ে চলতে শুরু করেন তিনি।তখন পৃথিবীর অনেক দেশই একটি নতুন দেশের স্হপতিকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছিলেন।কিন্তু সীমাহীন ধ্বংস যজ্ঞের ওপর দাঁড়িয়ে আর কতদূর যাওয়া যায়!ব্রিজ কালভার্ট ভাঙ্গা,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতবিক্ষত, রাস্তাঘাট বিধ্বস্ত, রেল যোগাযোগ বন্ধ,ব্যাংক রিজার্ভ শূন্য, গ্রামের পর গ্রাম পোড়া শ্মশান,তাছাড়া ১৯৭০ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডব্যে অনেক কিছুই ধ্বংস হয়েছিল।এমন অবস্হায় বঙ্গবন্ধুর চারপাশে জুটেছিল চাটার দল,মুনাফেক ও মুখোশধারী কিছু অতিলোভী লোক।এই সময়(১৯৭২ সালে) সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে একটি তলা বিহীন ঝুড়ি আখ্যা দেন।ধীরে ধীরে বঙ্গবন্ধুর চারদিকে জড়ো হতে থাকে ঘাতক-দালাল,রাজাকার ও একাত্তরের পরাজিত প্রেতাত্মারা।পরাজিত শক্তি মার্কিন সিআইএ ও পাকিস্তানের সহযোগিতায় গোপন ষড়যন্ত্র করে বাঙালির হৃদপিন্ডে ইতিহাসের জঘন্যতম আঘাত হানে।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতের অন্ধকারে স্বাধীন দেশের স্হপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার আত্মীয় স্বজন ও নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি সহ ২০ জনকে নির্মম ভাবে হত্যাকরা হয়।এটাই আমাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয়।আমরা হাঁটতে শুরু করি পিছে।যে লোকটি আমাদের স্বপ্ন দেখাল,স্বাধীনতা এনে দিল,একটি জাতিকে পথ দেখাল,বিশ্বের দরবারে আমাদেরকে পরিচয় করিয়ে দিল ভিন্ন ভাবে তাকে আমরা কাপুষের মতো হত্যা করলাম।বঙ্গবন্ধু ছিলেন রাষ্ট্রের প্রধান কান্ডারি, রাষ্ট্রের প্রধান পরিচালক, দোষ থাকলে তার থাকতে পারে কিন্তু অন্যরা?শিশু রাসেল?


এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র!মূলত আমাদের শাশ্বত চেতনাকে উপড়ে ফেলার ত্রিভুজ চক্রান্ত এটি। আমেরিকা-পাকিস্তান ও এই দেশে ঘাপটি মেরে থাকা ঘাতক-দালালদের একটি সমন্বিত সফল ষড়যন্ত্র হলো এটি।যে বাঙালি আজীবন ছিল প্রগতিশীল,তাদের সেই মস্তিষ্কজাত বোধ ভাবনা ও চেতনাকে নি:চিহ্ন করাই ছিল এই আঘাতের মূল লক্ষ্য।শত্রুরা প্রমাণ করতে চেয়েছে আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম ছিল ভুল,মুক্তিযুদ্ধ ছিল ভুল,আমাদের অহংকারের মানুষটি ছিল ভুল।


যে নেতাকে ফিদেল কাস্ত্রো হিমালয়ের সাথে তুলনা করেছিলেন,যে নেতাকে জুলিওকুরি শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল,যে নেতা জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে বাংলায় ভাষণ দিয়ে আমাদেরকে গৌরবান্বিত করেছিলেন সে নেতাকে কেনো স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জীবন দিতে হলো?


এর মূল কারণ খুবই স্পষ্ট।যুদ্ধে পরাজয়েরর পর পাকিস্তানিরা মনে করেছে তখন(১৯৭১ সালে) বঙ্গবন্ধুকে হত্যা না করে তারা ভুল করেছিল।সে কাজটিই তারা করেছে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট আমেরিকার সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধুর কিছু নিজস্ব লোক দ্বারা।সরাসরি হাত কলঙ্কিত করতে হয়নি পাকিস্তানিদের।বঙ্গবন্ধু হত্যার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ লক্ষ্য করলেই আমাদের কাছে সব স্পষ্ট হয়ে যায়।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ৩ নভেম্বর জেলখানায় হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে যারা ছিলেন বঙ্গবন্ধুর একান্ত আস্হাভাজন ও তার আদর্শে উজ্জীবিত।অতএব এই হত্যাকান্ড হলো মুজিব আদর্শ ও মুজিব চেতনা নির্মূলের এক গভীর ষড়যন্ত্র। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর একজন সেনাপতি সিংহাসনে যাওয়ার সকল পথ কন্টকমুক্ত করার জন্যে একের পর এক যে ক্যু করেছেন,গুপ্ত ও প্রকাশ্যে যেভাবে হত্যাকান্ড চালিয়েছেন এতেই অনেক কিছু স্পষ্ট হয়ে ওঠে।শেষমেশ ৭ নভেম্বর বিদ্রোহী দমনের নামে এক সেনাপতি যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার খালেদ মোশারফ সহ আরো নিবেদিত প্রাণ মুক্তিযোদ্ধাদের গুলি চালিয়ে হত্যা করেছেন তার একটাই কারণ ঐ সব মুক্তিযোদ্ধারা মুজিব আদর্শের অকুতোভয় সৈনিক ছিলেন।পঁচাত্তরের পর খুনিদের সবচেয়ে ঘৃণ্য তৎপরতা হলো তারা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে এই জঘন্যতম হত্যাকান্ডের বিচার রহিত করা।এসবের পর একজন সেনাপতি স্বাধীন দেশের স্হপতির ঘাতকদেরকে বিভিন্ন জায়গায় চাকুরি দিয়ে নানা সুবিধা দিয়ে পুন:বাসিত করেছেন। এর পেছনে একটিই কারন আমাদের আদর্শকে হত্যা করা,একাত্তরের ঘাতক-দালালদের পুরস্কৃত করা,স্বাধীন দেশকে ধীরে ধীরে পাকিস্তান বানানো।আমাদের দীর্ঘ ইতিহাসে এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় পরাজয়।

 

মহসিন খোন্দকার:      কবি ও লেখক
                              ইংরেজি সাহিত্যের প্রভাষক
                              সাধারণ সম্পদক
                              নরসিংদী জেলা কবি-লেখক পরিষদ

 


বিভাগ : বাংলাদেশ