সরকারি চাকুরে ও বস্তিবাসীদের ২ হাজার ৭৭৪টি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করলেন প্রধানমন্ত্রী

০৩ আগস্ট ২০২১, ০৮:২৭ পিএম | আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:১২ এএম


সরকারি চাকুরে ও বস্তিবাসীদের ২ হাজার ৭৭৪টি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করলেন প্রধানমন্ত্রী
বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মুজিববর্ষ উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আজিমপুর সরকারি কলোনি, মিরপুর-৬ নম্বর সেকশন, মালিবাগ ও মতিঝিলে দুই হাজার ৪৭৪টি ফ্ল্যাট সম্বলিত পাঁচটি আবাসন প্রকল্প নির্মাণ করেছে সরকার। বস্তিবাসীদের জন্য মিরপুরে হচ্ছে ৩শ ফ্ল্যাট। মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব ফ্ল্যাট হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন তিনি।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে কয়েকজন বস্তিবাসীর মধ্যে ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে মুজিববর্ষে দেশের সব গৃহহীনকে অন্তত একটি ঘর প্রদানে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাংলাদেশ, যে দেশের প্রত্যেক মানুষ সুন্দর ও উন্নত জীবন পাবেন। কিন্তু আমি জানি জাতির পিতা বেঁচে থাকলে দেশ স্বাধীন হওয়ার ১০ বছরের মধ্যেই দেশের মানুষ উন্নত জীবন পেত। প্রত্যেকটি গ্রাম ও ওয়ার্ড-ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত উন্নত হতো। সে কাজটাই আমরা এখন করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী এসময় ঢাকা শহরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা মাত্র ৮ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করার নির্দেশনা দেন। এরই অংশ হিসেবে ঢাকার আজিমপুর, মতিঝিল, মিরপুর, মালিবাগ এলাকায় ৩২টি ভবনে দুই হাজার ৪৭৪টি ফ্ল্যাট নতুনভাবে সরকারি আবাসনে যোগ হলো। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা উন্নীত হলো ২৪ শতাংশে।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আজিমপুর সরকারি কলোনিতে রয়েছে ১৭টি ২০তলা ভবনে এক হাজার ২৯২টি ফ্ল্যাট, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনে ২৮৮টি ফ্ল্যাট, মালিবাগে চারটি ২০তলা ভবনে ৪৫৬টি ফ্ল্যাট এবং মতিঝিলে পাঁচটি ২০ তলা ভবনে ৩৮০টি ফ্ল্যাট।

প্রতিটি এক হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট ও ভবন এলাকায় মুক্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিতকরণে ভেন্টিলেটরসহ ক্রস ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাথরুম ও টয়লেট আলাদা নির্মাণ করে নিশ্চিত করা হয়েছে সর্বোত্তম ব্যবহার। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ অগ্নিদুর্ঘটনাকালে প্রতিটি ফ্ল্যাটের বারান্দায় গ্রিলে জরুরি নির্গমন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রায় ৭০ শতাংশ উন্মুক্ত স্থান সম্বলিত সরকারি এ হাউজিং প্রকল্পগুলোতে খেলার মাঠ, সবুজায়ন, ওয়াটার বডি বা পুকুর, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের (এসটিপি) সংস্থান রাখা হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি হিসেবে লাগানো হয়েছে সোলার প্যানেল ও বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বৈদ্যুতিক ফিটিংস যন্ত্রপাতি। প্রকল্পগুলো পরিবেশবান্ধব ও সবুজ প্রকল্প হিসেবে গড়ে উঠেছে।

এছাড়া উদ্বোধনের তালিকায় ছিল রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আটতলা দুটি আবাসিক ভবন। এগুলো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

মিরপুরে বস্তিবাসীদের জন্য ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবনে ৫৩৩টি আধুনিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার। যার ৩শটি ফ্ল্যাট হস্তান্তর করা হলো। বস্তির ঝুপড়ি ঘরের সমান বা তার চেয়েও কম ভাড়ায় এসব আধুনিক ফ্ল্যাটে থাকতে পারবেন বস্তিবাসী। এজন্য প্রধানমন্ত্রী ২০১৭ সালের ২৬ অক্টোবর বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিত্তিক আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।

সে অনুযায়ী, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে মিরপুর ১১ নম্বর সেকশনের বাউনিয়া বেড়িবাঁধ এলাকায় ছয় বিঘা জমির ওপর বস্তিবাসীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ১৪ তলাবিশিষ্ট তিনটি ভবনে ভাড়াভিত্তিক ৩শটি ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এখানে অন্য দুটি ভবনে আরও ২৩৩টি ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে।

প্রতিটি ভবনে রয়েছে কমিউনিটি হল, দুটি লিফট ও প্রশস্ত সিঁড়ি, অগ্নিনির্বাপণ ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা, ৪০ কেভিএ জেনারেটর ও ২৫০ কেভিএ সাব-স্টেশন, প্রশস্ত ওয়াকওয়ে ও সৌন্দর্যবর্ধনের লাইটিংসহ আধুনিক সুবিধা। প্রতিটি ৬২০ থেকে ৭১৯ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাটে রয়েছে দুটি করে বেডরুম, একটি বারান্দা, একটি ড্রয়িং রুম, বেসিন, রান্নাঘর ও দুটি বাথরুম। ফ্ল্যাটের দুই পাশে ফাঁকা জায়গা। ফ্ল্যাটগুলো টাইলস করা। প্রতিটি ভবনের নিচতলা বরাদ্দপ্রাপ্তদের সাধারণ ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ প্রকল্পে সবুজায়ন ও ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য ভবনের সামনে রাখা হয়েছে ফাঁকা জায়গা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বস্তিবাসী যুক্তিসঙ্গত ভাড়ায় একটি আধুনিক ফ্ল্যাটে বসবাসের সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় পরিবেশসহ তাদের জীবনমানের উন্নতি ঘটবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করেন। এসব ফ্ল্যাটে মাসিক, সাপ্তাহিক এমনকি দৈনিক স্বল্প ভাড়ায় বাসিন্দারা থাকার সুযোগ পাবেন।

অন্যদিকে ক্রমহ্রাসমান কৃষিজমির কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীই বহুতলবিশিষ্ট সমন্বিত সরকারি অফিস ভবন নির্মাণের ধারণা দেন। যাতে জেলা শহরগুলোতে একই ছাদের নিচে দ্রুততম সময়ে সরকারি সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। সে অনুযায়ী মাদারীপুরে আজ উদ্বোধন হয় একটি ১০ তলা ভবন। এছাড়া গণপূর্ত অধিদফতর গোপালগঞ্জ ও মানিকগঞ্জ জেলায় এমন সমন্বিত অফিস ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত (মুজিববর্ষের গৃহসহ) চার লাখ ৪২ হাজার ৬০৮টি ভূমিহীন-গৃহহীন-ছিন্নমূল-অসহায় পরিবারকে গৃহ দেওয়া হয়েছে। ’৯৬ সাল থেকে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ পরিবারকে বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছে।


বিভাগ : বাংলাদেশ