পোশাক শ্রমিকদের কর্মবিরতি

১৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:২০ এএম | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৯, ০১:০০ এএম


পোশাক শ্রমিকদের কর্মবিরতি
Garments_Labor

সাভারের আশুলিয়া ও গাজীপুরে বেশ কিছু গার্মেন্টে শ্রমিকদের কর্মবিরতি সরকার ও কারখানা মালিকদের ভাবিয়ে তুলেছে। এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছে শ্রম মন্ত্রণালয় ও পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। সর্বশেষ গতকাল শনিবারও শ্রম মন্ত্রণালয়ে সব পক্ষের উপস্থিতিতে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সরকার ও কারখানা মালিকদের পাশাপাশি শ্রমিক নেতারা জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁরা বলেছেন, মজুরি কিংবা গ্রেডভিত্তিক মজুরির বৃদ্ধির হার নিয়ে শ্রমিকদের কোনো আপত্তি থাকলে নির্বাচনের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে কারখানা মালিকরা শ্রমিকদের কর্মবিরতির পেছনে স্বার্থান্বেষী মহলের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। শ্রম মন্ত্রণালয়ে সভা শেষে বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা শ্রমিকদের শান্তিপূর্ণভাবে কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যথায় কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, একটি মহল আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে আপনাদের উসকানি দিয়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শ্রমিক নেতারাও শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে পোশাকশিল্পের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একটি মহল চক্রান্ত করছে। শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে কাজে যোগ না দিতে প্ররোচিত করছে। গত বৃহস্পতিবার আশুলিয়া ও গাজীপুরে কিছু পোশাক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। টানা পঞ্চম দিনের মতো শ্রমিকরা কারখানায় এসে কাজে যোগ না দেওয়ায় কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, নতুন মজুরিকাঠামোতে বৈষম্য রয়েছে বলে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। কিন্তু প্রকাশিত গেজেট অনুসারে কোনো শ্রমিকেরই মজুরি কমবে না। শ্রমিকের আগের ভাতা এক হাজার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে এক হাজার ৮৫০ টাকা করাসহ মজুরি বৃদ্ধির বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন। আগামীকাল সোমবার থেকে শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জানুয়ারি মাসে বেতন পাওয়ার পর যদি কোনো শ্রমিক ভাই-বোনের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব্ব থাকে, তা কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরুন।

শ্রমিক নেতা ও জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন বলেন, কারখানায় মজুরি নিয়ে মতবিরোধ থাকলে গুজবে কান না দিয়ে, কারখানায় উৎপাদন বন্ধ না করে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।

গার্মেন্ট শ্রমিকদের নতুন মজুরিকাঠামোতে কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে জানুয়ারি মাসে সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। তিনিও সোমবার থেকে সব শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল সচিবালয়ে গার্মেন্টশিল্পের চলমান শ্রম পরিস্থিতি নিয়ে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কোর কমিটির এক জরুরি সভায় প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন মজুরিকাঠামোর গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর মজুরিকাঠামোর দু-একটি ধাপ নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর এবং আশুলিয়ায় কিছু কারখানায় এ বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। জানুয়ারি মাসে নতুন কাঠামোতে মজুরি পেলে শ্রমিকদের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হবে। তিনি বলেন, কোনো গ্রেডেই মূল বেতন কমবে না।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী কারখানা পর্যায়ে নতুন মজুরিকাঠামো নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে স্পষ্ট ধারণা প্রদানে মালিকদের পরামর্শ দেন।


বিভাগ : অর্থনীতি

বিষয় : garments , business


এই বিভাগের আরও