নরসিংদীতে সপ্তাহব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বাউল মেলা শুরু

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৮:০৪ পিএম | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৫৪ পিএম


নরসিংদীতে সপ্তাহব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বাউল মেলা শুরু
ফাইল ফটো

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
নরসিংদীতে প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বাউল মেলা শুরু হয়েছে। শহরের কাউরিয়াপাড়ায় মেঘনা নদীর তীরে বাউল আখড়াধামে রবিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে শুরু হওয়া মেলা চলবে আগামি শনিবার পর্যন্ত। মেলায় এরই মধ্যে সমবেত হয়েছেন দেশ বিদেশের শতাধিক বাউল। মেলা উপলে মেঘনার পাড়ে খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের স্টল বসিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।


বাউল ঠাকুরের আখড়াবাড়ি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫০০ বছর ধরে চলে আসছে এই বাউল উৎসব। ৫০০ বছর আগে নরসিংদীতে এক বাউল ঠাকুর ছিলেন। তিনি নিজেকে শুধু বাউল বলেই পরিচয় দিতেন। এজন্য বাউল ঠাকুরের প্রকৃত নাম জানেন না এখানকার কেউই। সেই বাউল ঠাকুরের স্মরণে তার আখড়া ধামে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই বাউল মেলা। তবে কে প্রথম এখানে বাউল মেলার আয়োজন করেন তার প্রকৃত তথ্য জানা নেই কারও। সর্বশেষ ব্রিটিশ শাসনামল থেকে এখন পর্যন্ত মেলার আয়োজন করছেন স্বর্গীয় নদী রাম বাউল। পরবর্তীতে তাঁর নাতী মনীন্দ্র চন্দ্র বাউল ও বর্তমানে তাঁর ছেলে সাধন চন্দ্র বাউল, মৃদুল বাউল মিন্টু, শীর্ষেন্দু বাউল পিন্টু, মলয় বাউল রিন্টু এবং প্রাণেশ কুমার ঝন্টু বাউল। বর্তমানে প্রাণেশ কুমার ঝন্টু বাউল নরসিংদীর বাউল আখড়া বাড়ির সেবায়েত তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


প্রতি বছরের মতো এ বছরও মেলা উপলে আখড়াধামে হাজির হয়েছেন পাশের দেশ ভারতসহ দেশ-বিদেশের শতাধিক বাউল সাধক। মরমী এ সাধকদের কাছে সাধনাই মূল ধর্ম। আত্মশুদ্ধি আর আত্মমুক্তির জন্য এ মেলায় আসেন তারা এবং তুলে ধরেন মানব প্রেমের গান। পূণ্যস্নান, মহাযজ্ঞ ও পূজা অর্চনায় যোগ দিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে বাউল ও পূণ্যার্থীর আগমন ঘটছে মেলায়। এদিকে বাউল মেলা উপলে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা বাঙ্গালির চিরচেনা মুখরোচক খাবার ও বাহারি পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে আমিত্তি, জিলেপি, সন্দেশ, বারো মিঠাই, দই, মুড়ালি, গুড়ের তৈরি মুড়ি ও চিড়ার মোয়া, তিলের মোয়া, তিলের সন্দেশ, খাস্তা, কদমা, নারকেলের নাড়ু, তিলের নাড়ু, খাজা, গজা, নিমকি, মনাক্কা, গাজরের হালুয়া, পিঠাসহ রকমারি খাবার। এছাড়া খেলনা, ঘরের তৈজসপত্র, আসবাবপত্র, বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাক, মাটি ও বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রসহ নানা ধরনের পণ্যের স্টল নিয়ে বসেছেন।


বাউল আখড়া বাড়ির সেবায়েত তত্ত্বাবধায়ক প্রাণেশ কুমার ঝন্টু বাউল বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও ঐতিহ্যবাহী এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বাউল সম্প্রদায়ের নিয়ম অনুযায়ী মাঘি পূর্ণিমা তিথিতে আগামি মঙ্গলবার বাউল ঠাকুরের যজ্ঞানুষ্ঠান ও বুধবার মেলার মূল আয়োজন করা হয়। কোনও প্রকার প্রচারণা ছাড়াই প্রতিবছর ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে মানুষের উপস্থিতিতে জমজমাট হয়ে উঠে এই মেলা। রবিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে আগামি শনিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত মেলার অনুমোদন দিয়েছে জেলা প্রশাসন।’


বিভাগ : বিনোদন