অক্টোবরে চালু হচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট

০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:৫৪ পিএম | আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:০৬ পিএম


অক্টোবরে চালু হচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আসছে অক্টোবর মাসে বহুল কাঙ্ক্ষিত ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) সেবা চালু হতে যাচ্ছে। পাসপোর্ট অধিদফতরের তথ্য মতে চলতি মাসে এ সেবা চালু হওয়ার কথা থাকলেও আগামী মাসে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হওয়ার কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।


যন্ত্রপাতি সেটআপসহ বিভিন্ন ছোটখাটো সমস্যা এবং সফটওয়্যার ও যন্ত্রপাতি সেটআপে কিছু ত্রুটি ধরা পড়ায় চলতি মাসে সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায় জার্মানির সরকারি প্রতিষ্ঠান ভেরিডোস জেএমবিএইচের সঙ্গে ডিআইপির ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরেই অত্যাধুনিক এ পাসপোর্ট গ্রাহকের হাতে তুলে দেয়ার কথা জানায় ডিআইপি। তা সম্ভব না হওয়ায় চলতি বছরের শুরুর দিকে নতুন সময় নির্ধারণ করা হয়। নানা জটিলতায় এতেও পিছিয়ে যেতে থাকে।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কর্মকর্তা জানান, ই-পাসপোর্ট কার্যকর করতে প্রকল্পের আওতায় জার্মানি থেকে ৫০টি ই-গেট আসার কথা রয়েছে। এখন পর্যন্ত এসেছে মাত্র ৩ টি ই-গেট। এগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ই-পাসপোর্ট বিতরণ করা হলেও দেশের বিমান ও স্থলবন্দর গুলোতে ই-গেট স্থাপন শেষ করা না গেলে এর সুফল মিলবে না।
সূত্র জানায়, পৃথিবীতে ১১৯ দেশের নাগরিকরা ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে। এবার ওই দেশগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা বাংলাদেশেরও।
বর্তমানের যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্টের মতোই ই-পাসপোর্টেও একই ধরনের বই থাকবে। তবে যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্টের বইয়ের শুরুতে ব্যক্তির তথ্যসংবলিত যে দুটি পাতা আছে, তা ই-পাসপোর্টে থাকবে না। সেখানে পলিমারের তৈরি একটি কার্ড থাকবে। এই কার্ডে সংরক্ষিত চিপে পাসপোর্ট বাহকের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।


পাসপোর্ট অধিদফতর সূত্র জানায়, ই-পাসপোর্টে ৩৮ ধরনের নিরাপত্তা ফিচার থাকবে। বর্তমানে এমআরপি ডাটা পেজে যে সব তথ্য আছে, তা ই-পাসপোর্টে স্থানান্তর করা হবে। এ ই-পাসপোর্টের মেয়াদ বয়স অনুপাতে ৫ ও ১০ বছর হবে। এছাড়া ই-পাসপোর্ট চালু হলেই এমআরপি পাসপোর্ট বাতিল হবে না। তবে নতুন করে কাউকে এমআরপি পাসপোর্ট দেয়া হবে না। যাদের এমআরপির মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে তারা নবায়ন করতে গেলে ই-পাসপোর্ট নিতে হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে এমআরপি পাসপোর্ট তুলে নেয়া হবে।


সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে দ্রুততম সময়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট প্রদানের ঘোষণা দেন। এর পর প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিআইপি) তৈরি থেকে শুরু করে আনুষঙ্গিক সব কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ করে পাসপোর্ট ও বহির্গমন অধিদফতর।
বর্তমান এমআরপি ব্যবস্থা থেকে ই-পাসপোর্ট ব্যবস্থায় উত্তরণ ঘটলে বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঝামেলাবিহীনভাবে ভ্রমণ করতে পারবেন। কারণ ই-পাসপোর্ট এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে বিদ্যমান বইয়ের সঙ্গে একটি ডিজিটাল পাতাজুড়ে (ডাটা পেজ) দেয়া হবে। ওই ডিজিটাল পাতায় উন্নতমানের মেশিন রিডেবল চিপ বসানো থাকবে। এতে সংরক্ষিত থাকবে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য। ডাটা পেজে থাকবে পাসপোর্টধারীর তিন ধরনের ছবি, ১০ আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশও। ভ্রমণকালে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ কম্পিউটারের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য-উপাত্ত জানতে পারবেন।
তা ছাড়া সবচেয়ে বড় সুবিধা হল বিভিন্ন বিমানবন্দরে ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ঝামেলাহীনভাবে ই-গেট ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করা যাবে।


সূত্র বলছে, বর্তমানে পাসপোর্ট অধিদফতর থেকে যে ধরনের এমআরপি বই দেয়া হচ্ছে সেগুলোর ৩৮টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকলেও এর বেশিরভাগই জাল করা সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু ৪২টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকা ই-পাসপোর্ট বইয়ের পলিকার্বোনেট ডাটা পেজ জাল করা সম্ভব হবে না।