করোনায় আক্রান্ত রোগীর শ্বাসকষ্ট হলে করণীয়

২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:২৪ পিএম | আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০২১, ১২:২৬ এএম


করোনায় আক্রান্ত রোগীর শ্বাসকষ্ট হলে করণীয়
ফাইল ছবি

জীবনযাপন ডেস্ক:

করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীর শ্বাসকষ্ট হলে প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে যাচাই করে দেখা শ্বাসকষ্টটা ক্ষণস্থায়ী, না দীর্ঘস্থায়ী। ক্ষণস্থায়ী শ্বাসকষ্ট অনেক ধরনের হতে পারে। এর মধ্যে ‘প্যানিকেটা’য় তেমন উদ্বেগের কারণ নয়। শ্বাসকষ্ট ক্ষণস্থায়ী কি না তা যাচাই করার জন্য তিনটি কাজ করা যেতে পারে।

প্রথম পদক্ষেপ: রোগীকে প্রথমে একটা ঠাণ্ডা জায়গায় নিয়ে যান। বাসায় থাকলে রুমের দরজা-জানালা লাগিয়ে দিন। এরপর ধীরে ধীরে নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়তে বলুন। এটা করতে করতেই মেরুদণ্ড টান টান করে একটি চেয়ারে সোজা হয়ে বসান; তবে কুঁজো হয়ে নয়। এবার কাঁধ দুটি আরাম করে হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে একটু সামনে ঝুঁকতে বলুন। এবার খেয়াল করে দেখুন, আস্তে আস্তে রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়ে আসছে কি না। যদি স্বাভাবিক হয়ে যায়, তাহলে তেমন চিন্তার কারণ থাকে না।

দ্বিতীয় পদক্ষেপ: দ্বিতীয় পদক্ষেপে সিদ্ধান্ত নিতে হবে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার দরকার আছে কি না। এখানে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির কথা বলছি। যাদের বাসায় পালস অক্সিমিটার আছে, তাদের জন্য প্রথম দুটি করণীয়। আর যাদের পালস অক্সিমিটার নেই তাদের জন্য তৃতীয়টি।

♦ বাসায় পালস অক্সিমিটার থাকলে রোগীর অক্সিজেন দেখুন। অক্সিজেন স্যাচুরেশনের পরিমাণ ৯৪-এর কম থাকলে শ্বাসকষ্ট থাকুক বা না থাকুক রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। তবে ফুসফুসের অন্যান্য রোগের কারণে বা অন্য কোনো কারণে যদি স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকে, তবে স্যাচুরেশন ৯৪ ওই রোগীর জন্য প্রযোজ্য নয়।

♦ দেখা গেল অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৪-এর ওপরে আছে; কিন্তু রোগীর শ্বাসকষ্ট কমছে না। এমন অবস্থা হলেও রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। অর্থাৎ করোনা মহামারি পরিস্থিতির আগে শ্বাসকষ্ট হলে যেমন হাসপাতালে যেতে বলা হতো, এ ক্ষেত্রে ঠিক তেমনটিই করতে হবে।

♦ হাতের কাছে পালস অক্সিমিটার না থাকলে এবং রোগীর শ্বাসকষ্ট না কমলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

তৃতীয় পদক্ষেপ: যদি দেখা যায় রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৪-এর চেয়ে কম; শ্বাসকষ্ট কমছে না, তখন রোগীকে হাসপাতালে নিতে হবে। যতক্ষণ হাসপাতালে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না, ততক্ষণ ফুসফুসের উপকারের জন্য একটা পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। একে বলা হয় প্রনিং; সহজ বাংলায় উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা। হাসপাতালে পৌঁছার আগে সম্ভব হলে এটি করা যেতে পারে।

মোট চারটি পজিশনে এই প্রনিং করা যেতে পারে। প্রথমটা হলো উপুড় হয়ে শুয়ে থাকা। এরপর ডান কাত হয়ে শুয়ে থাকা। বালিশে হেলান দিয়ে বসা। তবে একেবারে ওঠে বসে পড়া নয়, আবার চিৎ হয়ে শোয়া এমনও নয়। এটা হবে বিছানার সঙ্গে ৩০-৬০ ডিগ্রি কোণ হয়ে থাকা। শেষটা হচ্ছে বাঁ কাঁধ হয়ে শোয়া।
অর্থাৎ উপুড়, ডান, বাঁ দিকে হেলান দিয়ে একেকটাতে অন্তত আধাঘণ্টা পরিমাণ সময় রাখা যেতে পারে। সম্ভব হলে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত এভাবে প্রনিং করে আবার জায়গা বদল করা যেতে পারে।

যখন প্রনিং করা যাবে না: প্রনিং মূলত একজন চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করা হয়ে থাকে। যখন চিকিৎসক দেখেন রোগীর জন্য এটা উপযোগী কি না।

♦ দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থাকলে প্রনিংয়ের দরকার নেই। তখন চিকিৎসকের পরামর্শেই চলবে।

♦ যদি প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট হয়, তখন প্রনিং করা ঠিক হবে না। এটা বোঝা যাবে রোগী মিনিটে যদি ৩৫ বার শ্বাস নেয়, শ্বাস নিতে দেহের অন্যান্য মাংসপেশি যদি ব্যবহার করে, শ্বাস নেওয়ার সময় দুই পাঁজরের মধ্যে যদি চামড়া ভেতরে চলে যায়, গলার মাংসপেশি ফুলে ওঠে ইত্যাদি উপসর্গ থাকলে।

♦ রোগী খুব উত্তেজিত অবস্থায় বা কনফিউজড অবস্থায় থাকলে প্রনিং করা ঠিক হবে না।

♦ যদি রক্তচাপ ৯০-এর নিচে নেমে যায়।

♦ রোগীর হৃদরোগের সমস্যা, মেরুদণ্ড স্টেবল না থাকলে, বুকে ইনজুরি আছে অথবা কিছুদিন আগে পেটে অপারেশন হয়েছে এমন হলে প্রনিং ঠিক হবে না।

♦ এ ছাড়া রোগী তিন মাসের বেশি গর্ভবতী থাকলে, দেহের ওজন অনেক বেশি হলে, দেহে ঘা থাকলে, মুখমণ্ডলে আঘাত থাকলে, খিঁচুনি রোগ থাকলেও প্রনিং করা ঠিক হবে না।

পরামর্শদাতা: যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী ও চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা।


বিভাগ : জীবনযাপন


এই বিভাগের আরও