ঈদকে ঘিরে পাইকারী ক্রেতার ভীড়ে মুখর শেখেরচর-বাবুরহাট

০৫ এপ্রিল ২০২২, ০৩:৪৬ পিএম | আপডেট: ১৬ মে ২০২২, ০৪:৩৮ পিএম


ঈদকে ঘিরে পাইকারী ক্রেতার ভীড়ে মুখর শেখেরচর-বাবুরহাট

আসাদুজ্জামান রিপন:
ঈদকে ঘিরে পাইকারী ক্রেতার ভীড়ে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম পাইকারী কাপড়ের বাজার নরসিংদীর শেখেরচর-বাবুরহাট। রোজার দুই সপ্তাহ আগে থেকেই দেশের নানা প্রান্তের খুচরা কাপড় বিক্রেতারা আসছেন এই হাটে। প্রতি বছরের মতো এবারও দোকানে দোকানে নিত্য নতুন কাপড়ের পসরা সাজিয়েছেন বিক্রেতারা। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এই ঈদে কাংখিত বেচাকেনা হবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা।

গত শুক্রবার সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ঈদকে ঘিরে দেশের নানা প্রান্তের পাইকারী ক্রেতার ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম পাইকারী কাপড়ের বাজার নরসিংদীর শেখেরচর-বাবুরহাট। ঈদের বাজারে বেচাকেনার আশায় বিভিন্ন জেলার খুচরা বিক্রেতারা কিনতে আসছেন শাড়ী, লুঙ্গি, থ্রি-পিস, শার্ট পিস, প্যান্ট পিস, পাঞ্জাবির কাপড়, থান কাপড়সহ দেশীয় তৈরি প্রায় সব ধরনের কাপড়। ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও কাপড়ে আনা হয়েছে নিত্যনতুন ডিজাইন।
সপ্তাহের শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত রাজশাহী, বগুড়া, কুড়িগ্রাম, সিলেট, ফেনি, বরিশাল, পিরোজপুর, জামালপুর, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোণা, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জসহ দেশের প্রায় সব জেলার পাইকারী ক্রেতার ভীড়ে মুখরিত হয়ে উঠছে বাজারটি। বাজারের প্রতিটি অলিগলিতে হাটের দিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে পাইকারী কাপড় বিক্রি। কেনা শেষ হলে শ্রমিকরা কাপড়ের গাইট বেধে তুলে দিচ্ছেন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে রাখা ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনে। প্রতিদিন এখান থেকে পাঁচ শতাধিক ট্রাক বোঝাই কাপড় যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলাতে। অনেকে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পেয়ে যাচ্ছেন কেনা কাপড়।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়াসহ একই সঙ্গে সবধরনের দেশীয় কাপড়ের বিপুল সমাহার থাকায় এই বাজার থেকে কাপড় কিনতে আসেন ক্রেতারা। ঈদের আগে পছন্দ অনুযায়ী পোশাক তৈরি করে নিতে গজ কাপড়ের বেচাকেনা শুরু হয় আগেভাগেই। অনেকে পাইকারী দামে কিনতে আসছেন যাকাতের কাপড়ও। তবে এই বছর সবধরনের কাপড়ের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। অব্যাহতভাবে সুতার দাম বাড়ার কারণে উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে এই বছর কাপড়ের দাম বেশি বলে জানান পাইকারী বিক্রেতারা।


খুচরা বাজারে ঈদের বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হলে এই পাইকারী কাপড়ের বাজারে বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে জানিয়েছেন ক্রেতা বিক্রেতারা। করোনা পরিস্থিতির পর বেচাকেনা ভাল হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তারা।

ঢাকার কাপড় ব্যবসায়ী ইমাম হোসেন বলেন, একমাত্র এই হাটেই পাইকারী দামে দেশিয় সবধরনের কাপড় একই সঙ্গে পাওয়া যায়। রোজার আগেই দোকান সাজাতে কাপড় কিনতে এখানে আসা। তবে এ বছর কাপড়ের দাম বেশি।

কুড়িগ্রামের উলিপুর থেকে আসা কাপড় ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান বলেন, পাইকারী দামে কাপড় কিনতে সবসময়ই এই হাটে আসতে হয়। ঈদকে ঘিরে খুচরা বাজারে বেচাকেনা শুরু না হলেও কাপড় সংগ্রহ করতে হচ্ছে আগেই। খুচরা বাজারে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হলে এই হাটের বেচাকেনা আরও বাড়বে।

পাইকারী কাপড় বিক্রেতা সত্যরঞ্জন দাস বলেন, এবছর রোজার আগে থেকেই সন্তোষজনক বেচাকেনা শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারী ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন। সুতার দাম বাড়ার কারণে সবধরনের কাপড়ের দাম কিছুটা বেড়েছে।

আমির হোসেন নামের অপর বিক্রেতা বলেন, প্রতি বছরই ঈদে সবধরনের কাপড়েরগুণগত মানসহ নিত্যনতুন ডিজাইন করা হয়। খুচরা বাজারে পুরোদমে বেচাকেনা শুরু না হলেও বিক্রেতারা আগেই কাপড় কিনতে আসছেন। সামনে হয়তবা বেচাকেনা আরও বাড়বে।

শেখেরচর-বাবুরহাট বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এ বছর সন্তোষজনক বেচাকেনায় লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। ঈদের বেচাকেনাকে ঘিরে ৪৬টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এই হাটে।
ছোটবড় প্রায় ৫ হাজার দোকানে সপ্তাহের শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত টানা চারদিন চলে এই হাটের বেচাকেনা। সাধারণত এই হাটে প্রতি বছর ঈদকে ঘিরে দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার কাপড় বেচাকেনা হয়ে থাকে। এবছর তা আরও বাড়বে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা।



এই বিভাগের আরও