সেতুর অভাবে দুর্ভোগে মনোহরদী-কাপাসিয়ার ৮ গ্রামের মানুষ

০৬ জুলাই ২০১৯, ০১:২৪ পিএম | আপডেট: ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:৫২ পিএম


সেতুর অভাবে দুর্ভোগে মনোহরদী-কাপাসিয়ার ৮ গ্রামের মানুষ

মনোহরদী প্রতিনিধি ॥
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর একটি পাকা সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা ও গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দুইটি ইউনিয়নের ৮টি গ্রামের মানুষ। প্রতিনিয়ত স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষকে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ভোগান্তি লাগব করা এই দুই উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।
মনোহরদী উপজেলার দৌলতপুর গ্রাম এবং গাজীপুর জেলার কাপাসিয়ার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামের সীমানা ঘেঁষে বয়ে গেছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ। দৌলতপুর ইউনিয়নের কোঁচেরচর, কীর্ত্তিবাসদী, নিশ্চিন্তপুর, কেরানীনগর এবং সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও, মির্জানগর, সনমানিয়া, আড়াল গ্রামের মানুষ এ নদের ওপর দিয়ে চলাচল করে থাকেন।


স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর শুস্ক মৌসুমে দুই পারের লোকজন মিলে বাঁশ সংগ্রহ করে সাঁকো তৈরী করে তার ওপর দিয়ে চলাচল করেন। বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করে প্রতিদিন দুটি কলেজ, দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি ফাযিল মাদরাসা ও তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থীসহ ৬/৭ হাজার মানুষ চলাচল করে থাকেন।


দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের শিার্থী আল-ফাহাদ বলেন, উভয় পাড়ের শিার্থীদের স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসায় যেতে নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আগত অনেক মেহমানেরই সাঁকোতে চড়ার অভ্যাস নেই এবং ছোট-ছোট শিশুরা দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো বেয়ে নদ পাড়ি দিতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। তাছাড়া রাতের বেলায় অন্ধকারে নদ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেকে ডাকাতের কবলে পড়ে আহত হওয়ার নজিরও আছে।’ হাজার হাজার মানুষের ভোগান্তি নিরসনে এখানে দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ প্রয়োজন।


সনমানিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক ভূঁইয়া বলেন, মির্জানগর চরে সারাবছরই উৎপাদিত শাক-সবজি দৌলতপুরের রথথলা বাজার, লাখপুর বাজার, কোচেরচর নতুন বাজার, হাতিরদিয়া বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যেতে বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করতে হয়। এখানে একটি সেতু নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে তাদের স্কুল কলেজে যেতে পারবে এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহন এবং দ্রুত সময়ে বাজারজাত করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মনোহরদীর দৌলতপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাদিউল ইসলাম জানান, ‘পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে সেতু নির্মাণ সনমানিয়া ও দৌলতপুর ইউনিয়নের জনগণের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী। এখানকার দুর্ভোগ লাগবে সেতু নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছি। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে দুই এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন তৈরী হবে।