মনোহরদীতে প্রেমিকের সাথে অভিমান করে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

২৭ জুলাই ২০১৯, ১২:২১ পিএম | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৩৮ পিএম


মনোহরদীতে প্রেমিকের সাথে অভিমান করে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

মনোহরদী প্রতিনিধি :
নরসিংদীর মনোহরদীতে বিয়েতে রাজি না হওয়ায় প্রেমিকের সাথে অভিমান করে জেসমিন আক্তার (২২) নামের এক কলেজ ছাত্রী বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। গতকাল শুক্রবার (২৬ জুলাই) দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। নিহত জেসমিন আক্তার উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের হরিনারায়ণপুর গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে এবং কাপাসিয়া সরকারী কলেজের ডিগ্রী দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, নরসিংদী রি এক্সভেকেশন রিভার ড্রেজিং প্রজেক্টের ‘ওয়েষ্টার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাইভেট লিমিটেড’ এর লাখপুর শাখার জুনিয়র সুপাভাইজার মো. রাকিবুল ইসলাম চাকুরির সুবাদে এক বছর ধরে মনোহরদী উপজেলার হারিনারায়ণপুর এলাকায় বসবাস করছেন। রাকিবুল পার্শ্ববর্তী শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের চন্ডিবর্দী এলাকার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন এই এলাকায় অবস্থান করায় জেসমিন আক্তারের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।
গত দুই মাস ধরে জেসমিন তার প্রেমিক রাকিবুলকে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। রাকিবুল কৌশলে সময়ক্ষেপন করতে থাকে। এক সপ্তাহ আগে একই এলাকার আশকর আলী বাবলুর মেয়ে মোসা. নাছিমা আক্তারের কাছে জেসমিনকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করে প্রেমিক রাকিবুল। এ নিয়ে গত বুধবার বিকেলে নাছিমা আক্তার জেসমিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে প্রথমে গালাগাল করেন এবং পরবর্তীতে তাকে মারধর করা হয়। জেসমিন এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে তার প্রেমিক রাকিবুলের কার্যালয়ে গিয়ে এসব মন্তব্যে বিষয়ে জানতে চায়। এ ঘটনায় তখনই দৌলতপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মনসুর শিকদারসহ স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে শালিস বসানো হয়।
শালিসে প্রেমিক রাকিবুল জেসমিনের সাথে তার প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করে। এতে ক্ষোভ ও অভিমানে সালিশীতে উপস্থিত লোকজনের সামনেই কীটনাশক পান করে ওই ছাত্রী। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে রাতে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়। শুক্রবার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জেসমিন মারা যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মনসুর শিকদার বলেন, কলেজ ছাত্রী জেসমিন আক্তার তার প্রেমিকের সাথে অভিমান করে আমাদের সামনেই কীটনাশক পান করে।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, কীটনাশক পানে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনা সম্পর্কে আমাকে কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।