মনোহরদীতে নির্মাণের দুই মাসের মধ্যেই সেতুর সংযোগ সড়কে ধস

২৯ জুলাই ২০১৯, ০৪:৫৮ পিএম | আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৪:১১ পিএম


মনোহরদীতে নির্মাণের দুই মাসের মধ্যেই সেতুর সংযোগ সড়কে ধস

মুহা. ইসমাইল খান ॥
নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা ও কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মিত সেতু। এই সেতুর ওপর দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ এবং যান চলাচল করে।
ঢাকা-কিশোরগঞ্জ ভায়া মনোহরদী সড়কের সকল যানবাহন এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করে। শুরুতে এই সেতুটি লোহার তৈরী থাকলে দুই বছর আগে সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) দরপত্র আহবান করে সেখানে পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।


সে মোতাবেক সেতু নির্মাণের কাজ পায় ময়মনসিংহের মেসার্স রেজভী কনষ্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। গত দুই মাস আগে এই সেতুর নির্মাণের কাজ শেষ হয়। নির্মাণের দুই মাসের মধ্যেই সেতুর সংযোগ সড়কটির মনোহরদী সীমানার একাংশ ধসে পড়েছে। আর উত্তর পাশের পাকুন্দিয়া সীমানার একাংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সড়কটি দেবে গিয়ে এ ধসে পড়ার ঘটনা ঘটে।


এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেেিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে দেবে যাওয়া স্থানে বালি সিমেন্ট দিয়ে জোড়া-তালি দেয়। এই জোড়া-তালিও অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় যেকোনো সময় আবারও ধসে পড়তে পারে বলে এলাকাবাসীর আশঙ্কা। এলাকাবাসীর অভিযোগ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম করায় এ ধসের ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের সড়ক ও জনপথ বিভাগ সেতুটির নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। নয় কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ময়মনসিংহের রেজভী কন্সট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্প কাজের দায়িত্ব পায়। গত ১৬ মে এ সেতু ও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়। ওই দিনই সেতুটি উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ ২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য সাবেক আইজিপি নূর মোহাম্মদ।


সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির ধসে পড়া অংশে সড়কের মধ্যভাগে বাঁশের খুঁটি পুঁতে বালির বস্তা ফেলে ভাঙন রোধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। বালির বস্তার ওপর থেকে মাটি সমান না করেই এলোমেলোভাবে প্যালাসাইড বসিয়ে সিমেন্টের পলেস্তারা দেওয়া হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই মাটি দেবে গিয়ে যেকোনো সময় বাঁশের খুঁটি ভেঙে আবারও সড়কটি বড় আকারে ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মনোহরদী উপজলো আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা লাল মিয়া বলেন, ‘সেতুর সংযোগ সড়কটি নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে। সড়কের নিচ থেকে মাটি ভরাট না করে যেন-তেনভাবে কাজটি করা হয়। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি ধসে পড়েছে। আমাদের অভিযোগের প্রেেিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তড়িঘড়ি করে কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে দায়িত্ব শেষ করেছে। আবারও যেকোনো সময় সড়কটি ভেঙে পড়তে পারে।’

সেতুটির লাগোয়া পশ্চিম পাশের রায়ের পাড়া গ্রামের আপন মিয়া, কাঞ্চন মিয়া ও রাশেদ মিয়াসহ কয়েকজন জানান, তাদের গ্রামে দেড় শতাধিক লোকের বাস। সেতুটির সংযোগ সড়কটি অনেক উঁচু করে নির্মাণ করায় তাদের গ্রামটি এখন অনেক নিচে পড়ে গেছে। ওই সড়কে ওঠতে তাদের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে গরু-ছাগল ও অন্যান্য ভারী জিনিসপত্র নিয়ে সড়কে ওঠা-নামা করতে তাদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। ওই সড়কে যাতে নির্বিঘেœ ওঠা-নামা করতে পারে সেই ব্যবস্থা করে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রেজভী কনষ্ট্রাকশন এর সুপারভাইজার নির্তন বাবু বলেন, ‘নির্মাণের পর সড়ক ভাঙতেই পাওে, তা দীর্ঘদিন স্থায়িত্ব হবে না। তাছাড়া এ নিয়ে সাংবাদিকরা লেখালেখি করলেও কিছু হবে না।’
কিশোরগঞ্জের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম বলেন, ‘সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়া এবং ফাটল সৃষ্টির বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি এখনই লোক পাঠাচ্ছি। এমনটি হয়ে থাকলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’