মনোহরদীতে ডেঙ্গুজ্বরে কলেজ ছাত্রীসহ দুই নারীর মৃত্যু

০৬ আগস্ট ২০১৯, ১২:০৭ পিএম | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৯, ০১:৪২ পিএম


মনোহরদীতে ডেঙ্গুজ্বরে কলেজ ছাত্রীসহ দুই নারীর মৃত্যু

মনোহরদী প্রতিনিধি ॥
নরসিংদীর মনোহরদীতে ডেঙ্গুজ্বরে প্রাণ হারিয়েছেন ফাহিমা আক্তার (৩০) ও দিপালী আক্তার (২৩) নামের দুই নারী। ফাহিমা আক্তার মনোহরদী পৌরসভার তিন নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আশ্রাফ আলীর মেয়ে। আর দিপালী আক্তার একই উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের পাইকান গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে। 

ফাহিমার পরিবার সূত্রে জানা যায়, তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় বসবাস করেন। সেখানে গত ৩১ জুলাই বুধবার জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার ইবনেসিনা হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন সে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। ঔষধপত্র লিখে দিলে রোগীকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা একটু ভাল হলে ৫ জুলাই সকালে তাকে গ্রামের বাড়ী মনোহরদীতে নিয়ে আসেন। দুপুরে অবস্থা খারাপ দেখে তাকে মনোহরদীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে দ্রুত ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকা নেয়ার পথেই তার মৃত্যু ঘটে। আজ মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সকালে তার দাফন সম্পন্ন হয়।


এদিকে দিপালীর ভগ্নিপতি প্রকৌশলী মাহবুব জালাল জানান, বিয়ের পর থেকে স্বামীর সাথে ঢাকার বনশ্রীতে থেকে পড়ালেখা করতো দিপালী। গত ২৫ জুলাই দিপালী জ্বরে আক্রান্ত হয়। প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে করে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরবর্তীতে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ২৮ জুলাই তাকে আল রাজী ইসলামীয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা নিশ্চিত করে সে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। সেখানে তিনদিন চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে মনোহরদীর গ্রামের বাড়ীতে আনা হয়। বাড়ীতে আসার পর সে মানষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। এ অবস্থায় ঐদিনই তাকে ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে তার অবস্থার আরও অবনতি হয়।


পরদিন তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার (৪ আগস্ট) বিকেলে সে মারা যায়। ঐদিন রাতেই পারিবারিক কবরস্থানে দিপালীর লাশ দাফন করা হয়। দিপালী ঢাকার আবুজর গিফারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।