মনোহরদীতে বিজয়ের মাসেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন!

০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:৪৫ পিএম | আপডেট: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১:৫২ এএম


মনোহরদীতে বিজয়ের মাসেও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন!

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীর মনোহরদীতে আবুল হাশেম (৭৫) নামের এক মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দাফন করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এলাকাবাসী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মধ্য চরমান্দালিয়া গ্রামে।

চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদুল্লাহ মিয়া এবং এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, রবিবার (১ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে তিনটায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম মারা যান। মারা যাওয়ার পর চরমান্দালিয়া ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহিদুল্লাহ বিষয়টি মনোহরদী উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মতিউর রহমান তারাকে অবহিত করেন। পরে মতিউর রহমান তারা বিষয়টি মনোহরদী থানায় অবহিত করেন।


পরিবারের পক্ষ থেকে পরদিন সোমবার সকাল দশটায় মরহুমের নামাজের জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়। এই বিষয়টি মনোহরদী থানায় অবগত করার পর তাদের পরামর্শক্রমে জানাজার নামাজের সময় এক ঘন্টা পিছিয়ে বেলা এগারটায় নির্ধারণ করা হয় এবং মাইক এলাউন্সের মাধ্যমে এলাকায় জানিয়ে দেওয়া হয়।


সোমবার সকাল দশটায় মুক্তিযোদ্ধার লাশ নামাজের জানাজার জন্য নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের পূর্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিনিধি জানাজায় উপস্থিত হন। এসময় নিয়ম অনুসারে মরহুমের লাশ জাতীয় পতাকা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। নামাজের জানাজার পূর্বে সাধারণ সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিয়ম অনুসারে পুলিশ কর্তৃক বিউগল বাঁশি বাজানো, রাষ্ট্রিয় সালাম প্রদান এবং এক মিনিট নিরবতা পালন করার কথা। কিন্তু জানাজার নামাজের সময় হয়ে গেলেও বিউগল বাঁশি ছাড়াই দুইজন পুলিশ সদস্য নামাজের জানাজার স্থলে হাজির হলেও তারা নিরব দর্শকের মত দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসময় থানায় যোগাযোগ করা হলে তারা আসতেছে বলে জানানো হয়।


এদিকে জানাজার জন্য নির্ধারিত সময় থেকে আরো আধা ঘন্টা সময় চলে গেলেও থানা থেকে অন্য কেউ জানাজার নামাজের স্থলে উপস্থিত হয়নি। এসময় থানা পুলিশের এমন দায়িত্ব জ্ঞানহীন কাজের জন্য জানাজায় আগত মুসল্লিদের মাঝে বিরক্তি এবং সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে নির্ধারিত সময় থেকে আরো আধা ঘন্টা পরে সাড়ে এগারটায় নামাজের জানাজা করা হয় এবং প্রায় বারটার দিকে রাষ্ট্রিয় মর্যাদা ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম কে দাফন করা হয়।


একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে রাষ্ট্রিয় মর্যাদা ছাড়া দাফন করার প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নূর হোসেন নামে একজন লিখেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে দাফন করায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একইভাবে সমালোচনার ঝড় উঠে এলাকায়।
এই বিষয়ে মনোহরদী উপজেলার সাবেক মুাক্তযোদ্ধা কমান্ডার মতিউর রহমান তারা বলেন, বার বার থানায় বিষয়টি অবহিত করার পরও তাদের এমন দায়িত¦ জ্ঞানহীন কাজ অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করার শামিল।

এ বিষয়ে মনোহরদী থানা অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান ভূঁইয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এখন মিটিংয়ে ব্যস্ত বলে ফোন কেটে দেন।