করোনাভাইরাস: নরসিংদীতে মৃতদেহের দাফন-সৎকারে ভরসা কুইক রেসপন্স টিম

২৭ জুন ২০২০, ০৭:২৩ পিএম | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০, ০৩:২৭ পিএম


করোনাভাইরাস: নরসিংদীতে মৃতদেহের দাফন-সৎকারে ভরসা কুইক রেসপন্স টিম

নিজস্ব প্রতিবেদক:
নরসিংদীতে আশংকাজনক হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। সেই সাথে বাড়ছে করোনা ও করোনা উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা। করোনাভাইরাস আতংকে মৃতদেহের দাফন বা সৎকারে এগিয়ে আসছেন না কেউ, এমন কী স্বজনেরাও। মানবিক বিপর্যয়ের এ অবস্থায় মৃতদেহের দাফন বা সৎকারের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে জেলা প্রশাসন গঠিত কুইক রেসপন্স টিম। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মৃতদেহের শেষ সম্মান জানাতে ছুটে চলছে এই টিম। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নরসিংদী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুইক রেসপন্স টিমের আহবায়ক মোঃ শাহআলম মিয়া।


স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও বাসিন্দারা জানান, নরসিংদী জেলাজুড়ে আশংকাজনক হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ। সেই সাথে বেড়েই চলছে মৃত্যুর সংখ্যা। করোনা আক্রান্ত হয়ে কিংবা করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলে ভাইরাস আতংকে মৃতদেহের দাফন কিংবা সৎকারে এগিয়ে আসছেন না কেউ, এমন কী অনিহা প্রকাশ করছেন স্বজনেরাও। এতে মৃত বাবা-মায়ের শেষ বিদায় জানাতে পারছে না সন্তান, স্ত্রীর শেষ বিদায়ে এগিয়ে আসছে না স্বামী, ভাইয়ের পাশে থাকছেন না ভাই। সময় মতো দাফন বা দাহ না করায় ঘন্টার পর ঘন্টা মৃতদেহ পড়ে থাকার ঘটনাও ঘটেছে।


করোনায় স্বজন হারানোর বেদনার সাথে যোগ হচ্ছে প্রিয়জনের শেষ বিদায়ে অংশগ্রহণ করতে না পারার কষ্ট। করোনার এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা মৃতদেহের দাফন বা সৎকারে এগিয়ে না আসায় নেমে এসেছে মানবিক বিপর্যয়। এমন বিপর্যয়ে মৃতদেহের শেষ বিদায় সম্পন্ন করতে নরসিংদীতে একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে জেলা প্রশাসন গঠিত করোনা প্রতিরোধে কুইক রেসপন্স টিম। করোনা বা করোনা উপসর্গে মৃত্যুর পর ধর্মীয় নিয়মে মরদেহ দাফন বা সৎকারে অনিহার খবর পেলেই ছুটে যাচ্ছে এই টিম। মৃত ব্যক্তি মুসলিম হলে তার গোসল, জানাজা ও দাফন আর হিন্দু হলে তার সৎকার কাজ সম্পন্ন করছে এই কুইক রেসপন্স টিম।
এতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নরসিংদী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সদর কুইক রেসপন্স টিমের আহবায়ক মোঃ শাহআলম মিয়া।

নয় সদস্যের এই কুইক রেসপন্স টিমে এছাড়াও রয়েছেন মসজিদের ইমাম, পুরোহিত, ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও আনসার সদস্য। করোনায় মৃত্যুতে মানবিক বিপর্যয় রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ধর্মীয় নিয়মে মৃতদেহের শেষ বিদায়ে দিনরাত কাজ করছে এই টিম।


সামাজিক সংগঠন “আলোকিত নরসিংদী” এর সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন রাসেল বলেন, করোনা বা করোনা উপসর্গে কেউ মারা গেলে করোনাভাইরাস আতংকে তার দাফন বা সৎকারে কেউ এগিয়ে আসছে না। সেক্ষেত্রে নিহতের স্বজনেরা পড়ছেন বিপাকে। অনেক সময় স্বজনেরাও ভয় পাচ্ছেন। এ অবস্থায় জেলা প্রশাসনের কুইক রেসপন্স টিম যেকোন সময় মৃত্যুর খবরে ছুটে আসছেন। এটা অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।


নরসিংদী পৌরসভার ৩ নং ওর্য়াড কাউন্সিলর দিদার হোসেন ফটো বলেন, সামান্য ঠান্ডা জ¦রে মারা গেলেও কেউ দাফন বা সৎকারে এগিয়ে আসছে না। অনেক সময় স্বজনেরাও ফেলে যায়। তখন কুইক রেসপন্স টিমে খবর দেয়া হলে তারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মরদেহের শেষ বিদায় জানান। দিনে রাতে ও সরকারি ছুটির দিনেও এই টিম কাজ করছে।


করোনা প্রতিরোধে গঠিত নরসিংদী সদর কুইক রেসপন্স টিমের আহবায়ক ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শাহআলম মিয়া বলেন, করোনা বা করোনা উপসর্গে মারা গেলে অনেক সময় বাবা-মা সন্তানের লাশ ফেলে দূরে থাকছে, সন্তানও বাবা মায়ের লাশ ফেলে দূরে থাকছে। প্রতিবেশী বা নিকটত্মায়ীরাতো আসছেই না। এমন মানবিক বিপর্যয়ে মৃত্যুবরণ করা মানুষরা যেন ধর্মীয় বিধিমতে শেষ সম্মানটা পান সেজন্য আমি আমার টিম নিয়ে কাজ করছি।
তিনি আরও জানান, নরসিংদী জেলায় এ পর্যন্ত করোনা ও করোনা উপসর্গে মারা গেছেন ৩৫ জন। এরমধ্যে সদর উপজেলায় করোনায় মারা গেছেন ১৮ জন, করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ০৮ জন। এরমধ্যে সদর উপজেলার ২৬ জনের দাফন ও সৎকার করেছে কুইক রেসপন্স টিম।


নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও দেশের অভ্যন্তরে করোনা প্রতিরোধ কমিটি নরসিংদীর সভাপতি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন বলেন, করোনা প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনার বাইরেও নরসিংদী জেলা প্রশাসন কর্তৃক কিছু অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, এর একটি উদ্যোগ হচ্ছে কুইক রেসপন্স টিম। গত ৩০ মার্চ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে আহবায়ক করে কৃইক রেসপন্স টিম গঠন করে দেয়া হয়। নরসিংদী সদরে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যাটা বেশি হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই মরদেহকে শেষ সম্মান জানাতে ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে এই কুইক রেসপন্স টিমকে।