পলাশে একাউন্ট জটিলতায় বয়স্কভাতা না পাওয়ার ভোগান্তি

২৭ জুলাই ২০১৯, ০৫:১৩ পিএম | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫:১৯ এএম


পলাশে একাউন্ট জটিলতায় বয়স্কভাতা না পাওয়ার ভোগান্তি

পলাশ প্রতিনিধি ॥
বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধীভাতার কার্ড পেয়েও একাউন্ট জটিলতায় দেড় বছর ধরে টাকা পাচ্ছেন না নরসিংদীর পলাশের ঘোড়াশাল পৌর এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক মানুষ।


শনিবার (২৭ জুলাই) সকালে ঘোড়াশাল পৌর অডিটরিয়ামে পৌর এলাকার ৯টি ওয়ার্ডের ৫৫০ জন ভাতা প্রাপ্তদের ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য এনআরবিসি ব্যাংক নরসিংদীর শাখা কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা সমাজ সেবা অধিদফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত হন। সেখানে একাউন্ট খুলতে গিয়ে নানা হয়রানীর শিকার হয়েছেন বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ডপ্রাপ্ত দেড় শতাধিক নারী-পুরুষ।


সরেজমিনে গেলে ভাতা কার্ডধারীরা অভিযোগ করে জানান, ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য আজ আমাদের উপজেলা সমাজ সেবা অফিস থেকে জানানো হয়। এখানে আসার পর ব্যাংক হিসাব খুলতে গিয়ে বই জমা দিলে আমাদেরকে ব্যাংকের লোকজন বলেন, সমাজ সেবা অফিসের দেওয়া ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) নাম্বার ভুল, তাই আমাদের ব্যাংক হিসাব খোলা সম্ভব হবে না।


ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ৪ নং ওয়ার্ডের বিধবা কার্ড প্রাপ্ত নাছিমা বেগম বলেন, দেড় বছর যাবত কোনো টাকা পাচ্ছি না। শনিবার একাউন্ট খুলতে গেলে ব্যাংকের লোকজন আমার এমআইএস নাম্বার ভুল বলছে।
৩ নং ওয়ার্ডের নেপাল চন্দ্র ধর, ৪ নং ওয়ার্ডের মেহেরুন বেগমসহ অন্যান্য ভুক্তভোগিরা একই অভিযোগ করেন।
ঘোড়াশাল পৌর এলাকার দক্ষিণ পলাশ গ্রামের ফজলুল হক বলেন, উপজেলা সমাজ সেবা অফিস থেকে প্রায় তিন বছর আগে আমাকে বয়স্ক ভাতার কার্ড দিলেও আমি কোনো টাকা পাইনি। শনিবার যখন ব্যাংক হিসাব খুলতে যাই, তখন ব্যাংকের লোকজন জানান আমার নাকি বয়স্ক কার্ডে ভুল আছে। কি ভুল আছে খবর নিলে জানতে পারি, চরসিন্দুর ইউনিয়নের এক মৃত ব্যক্তির নামের সাথে আমার নাম মিল থাকায় কোনো টাকা পাচ্ছি না এবং একাউন্টও খুলতে পারবো না।


ঘোড়াশাল পৌর কাউন্সিলর শহিদুল হক রোমেল জানান, ব্যাংক আর সমাজ সেবা অফিসের লোকজনের মধ্যে সম্মন্বয়ের অভাবে ভাতাপ্রাপ্ত নারী-পুরুষ ব্যাপক হয়রানীর স্বীকার হচ্ছেন। তারা একে অপরকে দোষারোপ করছেন। একারণে অনেক ভুক্তভোগিরা-ই ভাতা প্রাপ্ত হয়েও কোনো টাকা তুলতে পারছেন না।


এসব বিষয়ে ঘোড়াশাল পৌর মেয়র শরিফুল হক জানান, শনিবার সকালে সরেজমিনে গেলে আমার কাছেও অনেক ভুক্তভোগি অভিযোগ করেন। উপজেলা সমাজ সেবা অফিসের লোকজনের খামখেয়ালীর কারণে ভাতাপ্রাপ্তরা নানা ধরণের হয়রানীর শিকার হচ্ছেন। এনআরবিসি ব্যাংক নরসিংদী শাখার কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ জানান, অধিকাংশ ভাতা প্রাপ্তদের এমআইএস নাম্বার ভুল থাকার কারণে আমরা তাদের ব্যাংক হিসাব খুলতে পারছি না। উপজেলা সমাজ সেবা অফিস থেকে ভুক্তভোগি ভাতা প্রাপ্তদের কে ভুল এমআইএস নাম্বার দেওয়া হয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।


পলাশ উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, ভাতা প্রাপ্তদের এমআইএস নাম্বারের কোনো ভুল নেই। আমরা সঠিকভাবে এনআইডি নাম্বার দিয়ে এমআইএস নাম্বার দিয়েছি।