‘পৃথিবীর ফুসফুস’ আমাজনে আগুন: বন রক্ষায় ৭ দেশের চুক্তি

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:১৪ পিএম | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:১২ পিএম


‘পৃথিবীর ফুসফুস’ আমাজনে আগুন: বন রক্ষায় ৭ দেশের চুক্তি
ছবি সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিরহরিৎ বনাঞ্চলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দক্ষিণ আমেরিকার ৭টি দেশ আমাজন নদীর অববাহিকা সুরক্ষায় ব্যবস্থা নিতে সম্মত হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবেলায় নেটওয়ার্কিং ও উপগ্রহ পর্যবেক্ষণের এ চুক্তিতে বলিভিয়া, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, গায়ানা, পেরু ও সুরিনাম স্বাক্ষর করেছে।

শনিবার বিবিসির এক খবরে এ কথা বলা হয়েছে। কলম্বিয়ার ল্যাটিসিয়ায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে দেশগুলো পুনঃবনায়নে কাজ করতেও একমত পোষণ করেছে।

বেশ কিছু দিন ধরে আগুনে পুড়ছে ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ আমাজন। পরিসংখ্যান বলছে, অতীতে কখনো আমাজনে এত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (ইনপে) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে আমাজনে রেকর্ডসংখ্যক আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এ বছর ৮৫ শতাংশ বেশি আগুন লেগেছে। চলতি বছর এ পর্যন্ত আমাজনে অন্তত ৮০ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আমাজনের আগুন নেভাতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর যুদ্ধবিমানের সাহায্যে পানি ঢালা হয়েছে।

এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বন সংলগ্ন দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো এ সম্মেলনে বসে।

‘বৈঠক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ আমাজন নিয়ে প্রেসিডেন্টদের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ব্যবস্থা করবে,’ বলেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান দুকে। অন্যদিকে পেরুর প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকাকা বলেন, ‘কেবল শুভ ইচ্ছাই এখন আর যথেষ্ট নয়।’

সম্মেলনে ৭ দেশ শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভূমিকা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়ার বিষয়েও সম্মত হয়েছে।

ল্যাটিসিয়ার এ সম্মেলনে বেশিরভাগ দেশের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা থাকলেও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনেরো ছিলেন না; পরে তিনি ভিডিও লিংকের মাধ্যমে সংযুক্ত হন।

সাতটি দেশের প্রেসিডেন্ট, ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রীরা লেটিসিয়ায় নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ব্রাজিলের ডানপন্থী রাষ্ট্রপতি জাইর বোলসোনারো ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে সম্মেলনে অংশ নেন। অস্ত্রোপচারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ায় সম্মেলনে হাজির হতে পারেননি তিনি।

বিশ্বের বৃহত্তম গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনাঞ্চল আমাজনের মোট আয়তনের প্রায় ৬০ শতাংশই ব্রাজিল সীমান্তে অবস্থিত। তবে আগুনের রুদ্রমূর্তি কেবল ব্রাজিল অংশের আমাজনে নয়, বরং লাতিন আমেরিকার অন্য দেশগুলোও দেখছে। ভেনিজুয়েলার আমাজনে এ বছর ২৬ হাজারেরও বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বলিভিয়া অংশে ১৭ হাজারেরও বেশিবার আগুন লেগেছে। কলম্বিয়াতেও আগুন লেগেছে ১৪ হাজারের বেশিবার।

আমাজনের অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো। এর আগে অগ্নিকাণ্ডের জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলোকে (এনজিও) দায়ী করেন তিনি। যেসব এনজিওর তহবিল বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে আমাজনে আগুন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রেসিডেন্ট। তবে এর সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।

পরিবেশবিদরা বলছেন, বোলসোনারোর নীতিগত ত্রুটির কারণে এ বছর আগুনের পরিমাণ বেড়ে গেছে। গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর কৃষিকাজ ও খনিজ শিল্পের জন্য বনাঞ্চল বর্ধনের প্রতিশ্রুতি দেন বোলসোনারো। তার এ উদ্যোগের ফলে বন উজাড় হয়ে যেতে পারে- আন্তর্জাতিক মহলের এমন উদ্বেগ তিনি উপেক্ষা করে গেছেন। এরপর থেকে দাবানলের সংখ্যা বেড়ে গেছে।

এদিকে ব্রাজিলের শীর্ষস্থানীয় মাংস রপ্তানি শিল্প গোষ্ঠী এবং কৃষি ব্যবসায়ীরা পরিবেশবাদী প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। আমাজন বন উজাড় বন্ধ করতে সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আমাজনকে গবাদিপশুর চারণভূমি হিসেবে ব্যবহার করতে চাওয়া কৃষকরা জায়গা পরিষ্কার করতে শুকনো মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করেন। এ সময় বন দাহ্য হয়ে থাকে এবং খুব সহজেই তাতে আগুন লাগে। বোলসোনারো কাঠুরে ও কৃষকদের জমি সাফ করতে উৎসাহিত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন পরিবেশবাদীরা। এর প্রতিবাদে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতা দেশ ব্রাজিল থেকে চামড়া ক্রয় স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 


বিভাগ : বিশ্ব