পাবলিক সার্ভেন্টদের সেবকের মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে: শিল্পমন্ত্রী

২৩ জুলাই ২০১৯, ০৩:৪৬ পিএম | আপডেট: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:১৮ এএম


পাবলিক সার্ভেন্টদের সেবকের মানসিকতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে: শিল্পমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পাবলিক সার্ভেন্টদের শাসক নয়, সেবকের মানসিকতা নিয়ে জনকল্যাণে অর্পিত দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেন, জন প্রশাসনে কর্মরতগণ জাতির মেধাবী সন্তান। বঙ্গবন্ধুর অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্য বাস্তবায়নে তাদেরকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করতে হবে। মোছাহেবী নয়, কর্মই কর্মচারীদের পরিচয় করিয়ে দেবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস ২০১৯ উদযাপন উপলক্ষে শিল্প মন্ত্রণালয় আয়োজিত দিনব্যাপী উদ্ভাবন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রদর্শনী উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এ পরামর্শ দেন। শিল্প মন্ত্রণালয় প্রাঙ্গণে আজ মঙ্গলবার এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

শিল্পসচিব মোঃ আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এমপি বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।

শিল্পমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ঔপনিবেশিক প্রশাসনের পরিবর্তে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন তৈরি হয়েছে। জনগণের করের টাকায় প্রশাসনের কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পেয়ে থাকেন। এ বিবেচনায় সরকারের ইশতেহারে ঘোষিত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সিংহভাগ দায়িত্ব জনপ্রশাসনের ওপর বর্তায়। তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কারখানাগুলোকে লাভজনক করতে সর্বোচ্চ দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশনা দেন। জনগণকে কষ্ট দিয়ে রাস্তাঘাট বন্ধ ও মানুষকে জিম্মি করে কোনো দাবি আদায় করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি সম্মিলিত উদ্যোগে শ্রমিক-কর্মচারি নির্বিশেষে যে কোনো সমস্যা সমাধানের তাগিদ দেন।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল শিল্প প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করতে হবে। যারা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করবে, তাদের পুরস্কৃত করা হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত কল-কারখানায় দুর্নীতি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিসিআইসির সার কারখানাগুলোর পারফরমেন্সের ফলে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। তিনি সার আমদানির পরিবর্তে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে সার রপ্তানির যোগ্যতা অর্জনের তাগিদ দেন।

শিল্প প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানাগুলো লাভজনক করতে অপ্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ বন্ধ করতে হবে। একই সাথে কাজ না করে অবৈধভাবে বেতন-ভাতা উত্তোলনের প্রবণতা পরিহার করতে হবে। তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কারখানার ট্রেড ইউনিয়নগুলোর যে কোনো অবৈধ হস্তক্ষেপ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে উল্লেখ করেন।

শিল্প সচিব বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী জনগণকে পরিবারের সদস্যদের মত বিবেচনা করে সর্বোচ্চ সেবা প্রদান করতে হবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কর্মপরিকল্পনা অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে সেবার মান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারের ইশতেহারে ঘোষিত গ্রাম ও শহরের বৈষম্য দূরীকরণে শিল্প মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো নিরলসভাবে কাজ করছে বলে তিনি জানান।

এর আগে শিল্পমন্ত্রী মন্ত্রণালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন দপ্তরের উদ্ভাবন ও সেবামূলক কর্মকা-ের প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন। এ সময় শিল্প প্রতিমন্ত্রী, শিল্পসচিবসহ মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর/সংস্থাগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বিভাগ : বাংলাদেশ