পাটকল বন্ধের সিন্ধান্ত শ্রমিকদের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবে

২৫ জুন ২০২০, ০৪:৩৩ পিএম | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০, ০৩:৪২ পিএম


পাটকল বন্ধের সিন্ধান্ত শ্রমিকদের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবে

অর্থনীতি ডেস্ক:

মহামারি করোনার এই সময়ে শ্রমিকদের বেতন, খাদ্য, চিকিৎসাসহ যাবতীয় নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া পাটকল বন্ধ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এ দাবি জানায়।

শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি জহিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল রায় এক বিবৃতিতে বলেন, সম্প্রতি সরকার থেকে পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অথচ করোনা মহামারির এই সময়ে শ্রমিকদের খাদ্য, চিকিৎসাসহ যাবতীয় কোনো নিশ্চয়তা না দিয়েই এই সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেবে। খুলনায় ক্রিসেন্ট জুট মিলসহ বিভিন্ন পাটকলের শ্রমিকদের আন্দোলন সত্ত্বেও ন্যায্য বেতন ও বকেয়া পরিশোধ না করে মালিকরা একের পর এক তাদেরকে ঠকিয়ে যাচ্ছে। এরপর আবার তাদের এই অসহায় অবস্থায় ফেলে পাটকল বন্ধ করলে তাদের আর বাঁচার উপায় থাকবে না। এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া যায় না।

তারা বলেন, গত চার বছরে পাটকল শ্রমিকদের বর্ধিত মজুরি বকেয়া পড়েছে প্রায় ১৬১২ কোটি টাকা। দেশে ২৬টি রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকল আছে। পাট মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন এই পাটকলগুলোতে প্রায় ৭০ হাজার শ্রমিক কাজ করে। তাদের খাদ্য, চিকিৎসা ও যাবতীয় সামগ্রীর নিশ্চয়তা প্রদান করা সরকারের দায়িত্ব।

অবিলম্বে পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত বাতিল, পাটকল শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা, বকেয়া পরিশোধ, খাদ্য-চিকিৎসাসহ যাবতীয় নিশ্চয়তা প্রদানের দাবি জানান তারা।

এদিকে রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। অনলাইন সভায় সংগঠনের নেতারা বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের ঐতিহ্য ও অর্থনীতির একটি প্রধান খাত পাট শিল্পের জন্য ধ্বংসাত্মক ও আত্মঘাতী হবে। কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে পরিবেশবান্ধব এই শিল্পের চাহিদা দেশে এবং বিদেশে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। এই সময়ে কারখানা বন্ধের ঘোষণা বেসরকারি মালিকদেরকে শুধু উৎসাহিত করবে না, তাদেরকে বেপরোয়া করে তুলবে। রাষ্ট্রীয় পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে পুরাদমে পাটকলগুলো চালু করা ও এই শিল্পকে আধুনিক করার দাবি জানান তারা।


বিভাগ : অর্থনীতি