রোববার থেকে সারাদেশে প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা ইন্টারনেট সেবা বন্ধ!

১৬ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৫৮ পিএম | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৩:২৬ এএম


রোববার থেকে সারাদেশে প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা ইন্টারনেট সেবা বন্ধ!
ফাইল ছবি

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:

সারাদেশে আগামী রোববার (১৮ অক্টোবর) থেকে প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা ইন্টারনেট ও কেব‌ল টিভি (ডিশ) সংযোগ বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে আইএসপিএবি ও কোয়াব। ঝুলন্ত কেব্‌ল (তার) অপসারণের প্রতিবাদে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরইমধ্যে বিভিন্ন এলাকার ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের মুঠোফোনে এসএমএস ও ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানিয়ে দিচ্ছে।

যেমন- গ্রাহকদের ই-মেইল পাঠিয়ে লিংক-৩ টেকনোলজি জানিয়েছে যে, ১৮ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকবে। সত্যিই যদি কেবল অপারেটরেরা এ ধর্মঘট সফল করেন, তাহলে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম স্থবির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে করোনাকালে অনেক কিছুই এখন ইন্টারনেটের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। শুধু অর্থনীতি নয়, শিক্ষাসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রমও আটকে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

দেশের দুই শেয়ারবাজারের লেনদেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এমনকি বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যক্রমও হতে পারে বাধাগ্রস্ত। নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট না পেলে বন্ধ থাকবে এটিএম সেবাও। এতে শত শত কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা করছেন প্রযুক্তিবিদরা।

এদিকে গত ১০ আগস্ট ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপস, ডিসেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ সিটিকে তারের জঞ্জালমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। যার অংশ হিসেবে ঢাকা দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঝুলে থাকা বাড়তি তার কেটে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়। এর অংশ হিসেবে অনেক জায়গায় তার কেটে ফেলা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)- এর পরিচালক নাজমুল করিম ভূঁইয়া বলেন, আমরা ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়ার পক্ষে নই। তবে সিটি কর্পোরেশন বলছে যে বিকল্প ব্যবস্থা আমাদের করে নিতে হবে। তবে ঢাকা শহরে এই ধরণের কোন বিকল্প ব্যবস্থা নেই। যার কারণে এই প্রতিবাদ।

এদিকে ঢাকার বাসাবো এলাকার একজন বাসিন্দা জানান, তিনি একজন চাকরিজীবী। সেই সঙ্গে তার দুটি স্কুল পড়ুয়া সন্তান রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে তাদের স্কুলের ক্লাস চলছে অনলাইনে। আর সেই সঙ্গে নিজেকেও বাড়িতে থেকে অফিস করতে হয়। ইন্টারনেট সংযোগ না থাকলে মহাবিপদে পড়তে পারেন তিনি।

তবে ঢাকা উত্তরের মেয়র সেবাদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে একেকটি এলাকা বা সড়ক নির্ধারণ করে পর্যায়ক্রমে সেখানকার ঝুলন্ত তার অপসারণ করছে। ইতোমধ্যে উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের কয়েকটি সড়ক ও গুলশান অ্যাভিনিউ সড়কের দুই পাশের ঝুলন্ত কেব্‌ল অপসারণ করা হয়েছে।

এদিকে, ১৭ অক্টোবরের মধ্যে চলমান সমস্যা সমাধানে সিটি কর্পোরেশনকে সময়সীমা বেধে দিয়েছেন, ইন্টারনেট ও ডিস সেবা প্রদানকারী দুই সংগঠনের নেতারা।

উল্লেখ্য, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের গ্রাহক সংখ্যা ৮৫ লাখ ৭১ হাজার। যদিও আইএসপিএবি বলে এ সংখ্যা কোটির বেশি। বর্তমানে দেশে ১৭০০ থেকে ১৭৫০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হয়। এরমধ্যে ৯৫০ থেকে ১ হাজার জিবিপিএস ব্যবহার হয় ফিক্সড ব্রডব্যান্ডে। অবশিষ্ট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করেন মোবাইল অপারেটররা।



এই বিভাগের আরও