ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প: বাড়তি ১ শত কোটি টাকা লাভের প্রত্যাশা

০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:৩১ পিএম | আপডেট: ২০ জুন ২০২৪, ১০:৪৫ এএম


ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প: বাড়তি ১ শত কোটি টাকা লাভের প্রত্যাশা

আসাদুজ্জামান রিপন:

নির্ধারিত মেয়াদের দুই মাস আগেই শেষ হতে যাচ্ছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। দুই মাস আগে উৎপাদন শুরু হলে দেশের দেশের বৃহৎ এই সারকারখানা থেকে সরকার ১ শত কোটি টাকা বাড়তি লাভবান হবে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। সরকারের পরিকল্পনা মতে একইভাবে আশুগঞ্জে আরও একটি সারকারখানা করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বিদেশেও সার রপ্তানি সম্ভব হবে জানিয়েছে বিসিআইসি।


বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি) ও ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নরসিংদীর পলাশে প্রতিষ্ঠিত ৩০০ টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন পলাশ ইউরিয়া সারকারখানা ও ১৪০০ টন উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানা দুটিতে চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন সক্ষমতা কমে যায়।

চাহিদা অনুযায়ী পুরাতন এই দুই কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন না হওয়ায় সার ঘাটতি পূরণে সার আমদানি করে আসছে সরকার। ২০১৪ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে অতি পুরাতন এই দুটি কারখানার স্থলে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ও আধুনিক সার কারখানা নির্মাণের নির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে পুরাতন কারখানা দুটি কারখানা একীভূত করে ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

২০২০ সালের ১০ মার্চ ১১০ একর জমিতে শুরু হয় দেশের আধুনিক ও বৃহৎ ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্পের নির্মাণ কাজ। জাপানি ও চায়নার দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নতুন এই সার কারখানা নির্মাণের কাজ। দিন ও রাতে টানা কাজের পর প্রায় শেষের পথে কারখানার নির্মাণ কাজ। এখন চলছে মেশিন, যন্ত্রাংশ ও পাইপিং বসানোসহ রঙের কাজ।

চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা এই প্রকল্পের কাজ। এরই মধ্যে ৮৪ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ হওয়ায় নির্ধারিত মেয়াদের দুই মাস আগে নভেম্বরেই শেষ হবে নির্মাণ কাজ।

ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প পরিচালক রাজিউর রহমান মল্লিক বলেন, সাধারণত দেশের বড় প্রকল্পগুলো নানা কারণে সঠিক সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয় না। আমাদের এখানে জনবলবৃদ্ধি করাসহ অভারটাইম করে দ্রুতগতিতে কাজ করায় নির্ধারিত মেয়াদের দুই মাস আগে অর্থাৎ ২০২৩ সালের নভেম্বরের আগেই প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। পরিবেশ বান্ধব এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৫ শত কোটি টাকা। এই কারখানায় প্রতিবছর ১০ লাখ মেট্রিক টন সার উৎপাদন হবে।

বিসিআইসি চেয়ারম্যান শাহ মো. ইমদাদুল হক বলেন, দুই মাস আগে কাজ শেষ হলে দুই মাস আগে এই কারখানায় সার উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। আর যদি তা হয় তাহলে দুই মাসে দেশের বৃহৎ এই সারকারখানা থেকে সরকার ১ শত কোটি টাকা বাড়তি লাভবান হবে।

তিনি আরও বলেন,  ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে একই রকম আরও একটি আধুনিক সার কারখানা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী আশুগঞ্জের নতুন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ২০২৫ সালের পর দেশের সারের ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও সার রপ্তানি সম্ভব হবে।



এই বিভাগের আরও