গ্রামকে শহর করার মেগা উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সরকার

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৬:৩২ পিএম | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:০০ পিএম


গ্রামকে শহর করার মেগা উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সরকার
Narsingdi

নিজস্ব প্রতিবেদক
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার প্রকল্প (জিপিইউএফপি) পরিদর্শন করেছেন শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন ও প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। গত রবিবার ( ১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাঁরা প্রকল্পটি পরিদর্শন শেষে আলোচনা সভায় অংশ নেন।


সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমাায়ুন বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী মেঘা উদ্যোগ গ্রামকে শহর করার কাজ বাস্তবায়ন শুরু হয়ে গেছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বড়, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হবে। আর দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে একটি শিল্প বিশ্ববিদ্যালয় করা হবে।

 
তিনি আরো বলেন, আজকে আমাদের বছরে প্রায় ১৭ লাখ মে.টন সার আমদানি করতে হয়। জিপিইউএফপি প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আমাদের আর আমদানি নয় বরং রপ্তানির করতে পারব। বর্তমানে পলাশ উপজেলায় ইউএফএফএল ও পিইউএফএফএল নামের যে দুইটি সারকারখানা রয়েছে। এ কারখানা দুটি প্রতি টন ইউরিয়া উৎপাদনে গ্যাসের ব্যবহার, ডাউন টাইম এবং রক্ষণাবেক্ষণ পুনরাবৃত্তির হার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিসিআইসি পলাশ ইউরিয়া সারকারখানার স্থলে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরন করে বিল্ডার ফাইনেন্স পদ্ধতিতে দৈনিক ২ হাজার ৮০০ মে.টন (বার্ষিক ৯ লাখ ২৪ হাজার মে.টন) গ্রানুলার ইউরিয়া উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর, শক্তি সাশ্রয়ী ও পরিবেশ বান্ধব সারকারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে। যার প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৪ শত ৬০ কোটি টাকা। প্রকল্পটির আগামি জুনে শুরু হয়ে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এর আগে গত বছরের অক্টোবরে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন হয়।


বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ক্রমবর্ধমান ইউরিয়া সারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সুলভ মূল্যে কৃষকদের নিকট ইউরিয়া সারের সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ইউরিয়া সারের আমদানি হ্রাস করে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা এবং দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্নরূপে পরিবেশবান্ধব সারকারখানা। এটাই বাংলাদেশে প্রথম সারকারখানা যেখানে পরিবেশ দূষনকারী কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসকে গ্রহন করা হবে এবং গ্রহনকৃত কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করে ১০% ইউরিয়া সারের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।


জিপিইউএফপি প্রকল্প পরিচালক মো. রাজিউর রহমান মল্লিকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সাংসদ ডা. আনোয়ারুল আশরাফ খান দিলীপ, জহিরুল হক ভূঞা মোহন, বিসিআইসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসান, নরসিংদী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আবদুল মতিন ভূইয়া, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব জিয়াউর রহমান খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহরিয়ার আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।