৯ দফা দাবীতে বাংলাদেশ জুটমিল ও ইউএমসি জুটমিলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু

১৩ মে ২০১৯, ০২:২২ পিএম | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৩:৫১ এএম


৯ দফা দাবীতে বাংলাদেশ জুটমিল ও ইউএমসি জুটমিলে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥


মজুরীসহ ৯ দফা দাবীতে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন নরসিংদী সদর উপজেলার ইউএমসি জুটমিল ও পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল শিল্প এলাকার বাংলাদেশ জুট মিলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু হয়েছে। সোমবার (১৩ মে) ভোর ৬ টা থেকে এ ধর্মঘটের ফলে দুই জুটমিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।

সোমবার ভোরে বাংলাদেশ জুট মিলের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত মিলের নোটিশ বোর্ডে টানোনো এক নোটিশের মাধ্যমে ধর্মঘট শুরু হয়। নোটিশে জানানো হয়, সরকার কর্তৃক ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন-২০১৫ এর রোয়েদাদ বাস্তবায়ন, সকল বকেয়া মজুরি, বেতন প্রদানসহ ৯ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে সোমবার ভোর ৬ টা থেকে অর্নিদিষ্টকালের জন্য মিলের উৎপাদন বন্ধ করে ধর্মঘট পালনসহ প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে সন্ধা ৭টা পর্ষন্ত রাজপথ-রেলপথ অবরোধ কর্মসূচী পালন করা হবে।


এদিকে ১১ সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে শ্রমিকদের মজুরি এবং তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন। এতে মিলের প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিকÑকর্মচারী ও কর্মকর্তাগণ মজুরী না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।


সকালে মিলের তিন হাজার শ্রমিক ধর্মঘট শুরু করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে । এ সময় মিলের প্রধান ফটকের সামনে মিলের সিবিএ সভাপতি ইউসুফ সরদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল সিবিএ নন-সিবিএ সম্মিলিত পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও বাংলাদেশ জুটমিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান, সিবিএ সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাহেব আলী, যুগ্ম সম্পাদক হারুন অর রশিদ প্রমূখ।
বক্তারা শ্রমিকদের প্রস্তাবিত মজুরি বাস্তবায়ন, শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া মজুরি, শ্রমিকদের গ্রাচ্যুইটির টাকা ও পাট ক্রয়ের টাকা সহ ৯ দফা দাবী মেনে নেয়ার আহবান জানান।

অপরদিকে মিলের ফিনিশিং বিভাগের শ্রমিক রাশেদ, কারিগরি বিভাগের শ্রমিক আনোয়ার হোসেন, ওয়ার্কশপ বিভাগের শ্রমিক কবির হোসেন জানান, ১১ সপ্তাহ ধরে আমাদের মজুরী না দেয়ায় অতি মানবেতর জীবনযাপন করছি। পরিবার পরিজন নিয়ে কোন মতে সেহরি খেয়ে না খেয়ে রোজা রাখতে হচ্ছে আমাদের।
কান্নাজড়িত কন্ঠে শ্রমিকরা জানান, বাজারের কোন দোকানদারও আর আমাদের বাকী দিচ্ছে না। অথচ আমরা মজুরী না পেয়েও মিলের উৎপাদন অব্যাহত রেখেছিলাম।


মিলের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ইউসুফ আলী এ প্রতিনিধিকে জানান, ৫২০ তাঁতের এই জুট মিলটিতে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মরত আছেন। এক সময় বাংলাদেশ জুট মিলটি দেশের অন্যতম লাভজনক জুটমিল ছিল। কিন্তু বিজেএমসি কর্তৃপরে অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে মিলটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। বিজেএমসি টাকা না দেয়ায় মিল কর্তৃপ ১১ সপ্তাহ যাবত শ্রমিকদের মজুরি ও তিন মাস ধরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ভাতাদি দিতে পারছেন না।

সিবিএ সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান জানান, দীর্ঘদিন ধরে মজুরী না পেয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাতে গিয়ে আমাদের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। ত্ইা মিল বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। আমরা বিজেএমসির চেয়ারম্যানের পদত্যাগসহ বিজেএমসি বিলুপ্ত করার দাবী জানাচ্ছি।


এসব বিষয়ে বাংলাদেশ জুটমিলের মহাব্যবস্থাপক মোঃ গোলাম রব্বানীর সাথে কথা বললে তিনি মিলের উৎপাদন বন্ধের কথা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে বিজেএমসির সাথে কথা বলে সমাধানের পথ বের করার চেষ্টা করছি।
এছাড়া দেশের অন্যতম বৃহৎ জুটমিল নরসিংদীর ইউএমসি জুটমিলেও একই দাবীতে ধর্মঘট শুরু হয়েছে। বিকাল থেকে রাজপথ অবরোধ করা হবে জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।