বেলাবতে ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, গর্ভপাতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি

০২ জুলাই ২০১৯, ০৪:৪৭ পিএম | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০১:১২ এএম


বেলাবতে ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, গর্ভপাতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি

বেলাব প্রতিনিধি ॥
নরসিংদীর বেলাবতে প্রেমের ফাঁদে ফেলে রুবেল মিয়া নামে এক বখাটে কর্তৃক একাধিকবার ধর্ষণের ফলে কিশোরী গৃহপরিচারিকা (১৩) অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়েছে। পরে ধর্ষকের পিতা কর্তৃক অন্ত:সত্ত্বা ওই কিশোরীর গর্ভপাত ঘটানোর ফলে সে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আশংকাজনক অবস্থায় ওই কিশোরীকে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত ধর্ষক রুবেল উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় মামলা দায়ের হওয়ার পর ধর্ষক রুবেল পালিয়ে গেলেও ধর্ষকের পিতা হিরু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুদ্দিন ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের মরিচাকান্দা গ্রামের এক কৃষি শ্রমিকের ১৩ বছরের মেয়ে ৫ বছর যাবত পার্শ্ববর্তী লক্ষীপুর গ্রামের হিরু মিয়ার বাড়িতে থেকে গৃহকর্মীর কাজ করে আসছে। গত দুই বছরে হিরু মিয়ার বখাটে ছেলে রুবেল ওই গৃহকর্মী কিশোরীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এতে মেয়েটি অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে। ধর্ষক রুবেল মিয়ার পিতা হিরু মিয়া নির্যাতিতা মেয়েটির নিকট হতে ঘটনা জানতে পেরে কাউকে না জানানোর জন্য শাসায়। পরে হিরু মিয়া স্থানীয় একটি কিনিকে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক কিশোরীর গর্ভপাত করায়। এতে মেয়েটির শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে নরসিংদী সদরের একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপর আবারও শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে মেয়েটিকে বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২ জুলাই) বেলাব থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ধর্ষককে না পেয়ে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর সাথে জড়িত থাকার অপরাধে ধর্ষক রুবেলের পিতা হিরু মিয়াকে গ্রেফতার করেছে।

ধর্ষিতার পিতা ও মামলার বাদী জানান, ধর্ষকের পরিবার প্রভাবশালী হওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি গরীব মানুষ আমি এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, কিছু লোক আমার কাছেও ঘটনাটির মীমাংসার জন্য বলছেন। কিন্তু ধর্ষণের মত অপরাধের কোন মিমাংসা নেই। থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। ধর্ষকের পিতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষককেও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।