২১ হানাদারের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ১২ ডিসেম্বর নরসিংদী হানাদার মুক্ত হয়

১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৮:০৯ এএম | আপডেট: ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:০৩ এএম


২১ হানাদারের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে ১২ ডিসেম্বর নরসিংদী হানাদার মুক্ত হয়
এড. নাদিম হোসেন খান ॥ ১২ ডিসেম্বর নরসিংদী হানাদার মুক্ত দিবস। এই দিনটি নরসিংদী থানা তথা জেলার একটি স্মরণীয় ও আনন্দের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকবাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমর্পনের মধ্য দিয়ে নরসিংদী পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল। এদিনে বর্তমান পলাশ উপজেলার জিনারদী রেলস্টেশনের পূর্বপাশে পাটুয়া গ্রামে সংঘটিত হয়েছিল নরসিংদীর শেষ যুদ্ধ। এ যুদ্ধের মধ্য দিয়েই নরসিংদী মুক্তাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা হওয়ায় যুদ্ধটি ইতিহাসের খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, নরসিংদীর আশপাশের থানাগুলো থেকে যখন হানাদার বাহিনী তাদের তল্পি-তল্পা গুটাতে বাধ্য হয়, তখন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল চাপের মুখে নরসিংদীর হানাদাররাও ঢাকায় চলে যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়ে। ১২ ডিসেম্বর সকাল বেলায় হানাদারদের এমনই একটি দল জিনারদী রেলস্টেশনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এ খবর পৌছাঁমাত্র ন্যাভাল সিরাজের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধার একটি দল পাটুয়া গ্রামে হানাদারদের গতিরোধ করেন। এতে শুরু হয় প্রচন্ড যুদ্ধ। প্রায় ১ ঘন্টা যুদ্ধ চলার পর মনোবল ভাঙ্গা ২১ জন হানাদার অস্ত্রশস্ত্রসহ মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ২১ জন হানাদারের মধ্যে ২ জন মারাত্মক আহত হওয়ায় তাদের দুইজনকে হত্যা করা হয়। বাকী ১৯ জনকে স্বাধীনতার পর ১৭ জানুয়ারী মেজর হায়দারের মাধ্যমে রমনা থানায় জমা দেয়া হয়। এমনি করে নরসিংদীতে সমাপ্তি ঘটে নয় মাসের শ্বাসরুদ্ধকর মুক্তিযুদ্ধের। নরসিংদী জেলাকে সম্পূর্ণ মুক্তাঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে বিজয় মিছিল বের করা হয়। মুক্তিযোদ্ধারা লাভ করে জনগণের অকুণ্ঠ ভালবাসা। উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধে নরসিংদী জেলা ছিল ২নং সেক্টরের অধীনে। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তৎকালীন মেজর জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ। নরসিংদীকে ৩ নং সেক্টরের অধীনে নেয়া হলে কামান্ডার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন মোঃ নূরুজ্জামান। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল মোতালিব পাঠান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ১২ ডিসেম্বর নরসিংদীবাসীর কাছে অত্যন্ত গৌরবোজ্জল ও স্মরণীয় দিন। প্রতি বছর বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। এ জেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে সমুন্নত রাখতে স্বাধীনতার ৩৪ বছর পর ২০০৫ সালে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিফলক নির্মিত হয়।