নরসিংদীতে দেড় হাজার ছাড়ালো করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা, মৃত্যু ৩৭

০৮ জুলাই ২০২০, ০৫:০৩ পিএম | আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২০, ১১:৩৭ এএম


নরসিংদীতে দেড় হাজার ছাড়ালো করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা, মৃত্যু ৩৭

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদীতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১১ জন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলাজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫০৬ জনে। এছাড়া আক্রান্ত হওয়ার পর এ পর্যন্ত আইসোলেশনমুক্ত অর্থাৎ সুস্থ হয়েছেন ১১৯০ জন ব্যক্তি। বুধবার (০৮ জুলাই) এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন।

এ নিয়ে ৮৮ দিনের মাথায় জেলাজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫০০ ছাড়ালো। গত ৭ এপ্রিল নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হন। এরপর ৫৩ দিনে অর্থাৎ গত ৩০ মে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ ছাড়ায়। পরবর্তী ৫০০ ব্যক্তি আক্রান্ত হতে সময় লাগে চারভাগের একভাগ সময়ে অর্থাৎ মাত্র ১৩ দিন। সর্বশেষ ৫০০ ব্যক্তি আক্রান্ত হতে সময় লাগলো ২২ দিন।

সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইব্রাহিম টিটন জানান, গত ৬ জুলাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে মোট ৩০ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য রাজধানীর মহাখালীর ইন্সটিটিউট অব পাবলিক হেলথে (আইপিএইচ) পাঠানো হয়। মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) রাতে হাতে পাওয়া এসব নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে সদর উপজেলার ৭ জনকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এছাড়া ইনফ্লুয়েঞ্জা সার্ভেইল্যান্স এর আওতায় ৬ জুলাই আইসিডিডিআরবিতে পাঠানো ১২টি নমুনার মধ্যে সদর উপজেলার ৩ জন ও রায়পুরা উপজেলার একজন করোনা পজেটিভ শনাক্ত হন।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) পর্যন্ত জেলার ৬টি উপজেলা থেকে মোট ৭৫৪৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, তার মধ্যে পরীক্ষা শেষে ৭৪৫১ জনের নমুনার ফলাফল পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ১৫০৬ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।

জেলাজুড়ে আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় মোট ৯৪০ জন, শিবপুরে ১৩৯ জন, পলাশে ১২৭ জন, রায়পুরায় ১১৯ জন, বেলাবতে ৯২ জন ও মনোহরদীতে ৮৯ জন ব্যক্তি রয়েছেন। এছাড়া বর্তমানে ১১ জন আক্রান্ত ব্যক্তি কোভিড ডেডিকেটেড ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতালে এবং ২৬৮ জন হোম আইসোলেশনে আছেন। নতুন করে আক্রান্তদের পরিবারের সদস্য ও সংস্পর্শে আসা লোকজনের নমুনা সংগ্রহ ও হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বাধ্য করা হচ্ছে।

এছাড়া আক্রান্ত হিসেবে জেলার তালিকাভুক্ত ৩৭ জন ব্যক্তি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে সদর উপজেলার ২৩ জন, বেলাব উপজেলায় ৫ জন, রায়পুরা উপজেলায় ৪ জন, মনোহরদী উপজেলা ও পলাশ উপজেলায় ২ জন করে এবং শিবপুর উপজেলায় একজন রয়েছেন। অন্যদিকে উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও অন্তত ৪৫ জন।