যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতের গুলিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৫:১৫ পিএম | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:২৩ এএম


যুক্তরাষ্ট্রে ডাকাতের গুলিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার একটি গ্যাস স্টেশনে ডাকাতির সময় মো. ফিরোজ-উল আমিন (২৯) নামে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে ইস্ট ব্যাটন রুজে এক প্রবাসী বাংলাদেশির মালিকানাধীন মি. লাকি’স ভ্যালারো গ্যাস স্টেশনে এ ডাকাতি ও হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত ফিরোজ লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সাইবার সিকিউরিটির ওপর পিএইচডি করার পাশাপাশি ওই গ্যাস স্টেশনে খণ্ডকালীন চাকুরি করতেন।

ইস্ট ব্যাটন রুজের শেরিফ অফিস এক বিবৃতিতে জানায়, রাত সাড়ে ৩টার দিকে এক বন্দুকধারী ওই গ্যাস স্টেশনের অফিস ভবনে ঢোকে পড়ে এবং ফিরোজকে গুলি করে ক্যাশ থেকে টাকা লুট করে চলে যায়। গুলিবিদ্ধ ফিরোজ ঘটনাস্থলেই মারা যান।

নিহত ফিরোজ এর বাড়ি গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ সংলগ্ন এলাকায়। গত বছর সেপ্টেম্বরে তার বাবা মারা যান। দুই ভাইবোনের মধ্যে ফিরোজ ছিল বড়। তার মৃত্যু সংবাদে ছোট বোন ও মা ভেঙে পড়েছেন বলে ফিরোজের বন্ধুরা জানিয়েছেন। 

জানা গেছে, ডিসেম্বরে দেশে এলে ফিরোজের বিয়ে হবে- এমন আয়োজন করছিলেন তার মা। বিয়ের জন্য টাকা জমাতে গত কয়েক মাস ধরে ওই গ্যাস স্টেশনে কাজ করছিলেন ফিরোজ। গত সপ্তাহে বিয়ের আংটিও কিনেছিল। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিয়ারিংয়ে (সিএসই) মাস্টার্স করা ফিরেজ একসময় টাইগার আইটিতেও কাজ করেছেন। লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে তিনি অধ্যাপক গোল্ডেন জি রিচার্ডের অধীনে পিএইচডি করছিলেন।

অধ্যাপক রিচার্ড এক বিবৃতিতে বলেন, সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ে গবেষণা করছিল ফিরোজ। সে ছিল অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। ২০২৩ সালে তার কোর্স শেষ হওয়ার কথা ছিল। সে এখানে কাজ করতো এটি আমার জানা ছিল না।

ফিরোজের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন লুইজিয়ানা স্টেস্ট ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট এফ. কিং আলেক্সান্ডার। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, পিএইচডি শিক্ষার্থী মো. ফিরোজ-উল-আমিন-এর মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো লুইজিয়ানা স্টেস্ট ইউনিভার্সিটি শোকাহত। সে ছিল অবিশ্বাস্য রকমের একজন মেধাবী ছাত্র ও গবেষক; যার একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ ছিল।

ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) ফিরোজের লাশ হস্তান্তর করা হতে পারে। স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষ তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বন্ধুরা। এজন্য তহবিল সংগ্রহে ‘গো ফান্ড মি’তে একটি পেজ খোলারও পরিকল্পনার করছে তারা।

ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে অবগত রয়েছেন। দূতাবাসের মুখপাত্র শামিম আহমেদ বলেন, আমরা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

প্রসঙ্গত, ৫ দিন আগে নিউ ইয়র্ক সিটির রিচমন্ড হিল এলাকায় মো. শাহেদ উদ্দিন (২৭) নামে আরেক প্রবাসী বাংলাদেশি দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন। তার বাবা বাবরউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি। 


বিভাগ : বিশ্ব