একাধিক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার

২৮ জুলাই ২০১৯, ০৪:১৮ পিএম | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০১৯, ০৩:০৩ এএম


একাধিক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের অভিযোগে মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১। গ্রেফতারকৃত মোস্তাফিজ ফতুল্লা থানাধীন দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক। একাধিক ছাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা নজরদারী ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান র‌্যাব ১১ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন।

আলেপ উদ্দিন জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১ এর একটি আভিযানিক দল ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় দারুল হুদা নামক মহিলা মাদ্রাসায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় ধর্ষক প্রধান শিক্ষক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান (২৯), পিতা- ওয়াজেদ আলী, সাং-কাওয়ালিকোনা, পোঃ-লক্ষীগঞ্জ, থানা-সদর, জেলা-নেত্রকোণাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদে দেয়া তথ্য ও প্রাথমিক অনুসন্ধানের তথ্যমতে র‌্যাব জানায়, অভিযুক্ত মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন যাবৎ দারুল হুদা মহিলা মাদ্রাসার ১১ জন ছাত্রীকে ৩ বছর ধরে মাদ্রাসায় তার রুমে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানি করে আসছে। এই অপকর্মের পর সেইসব ছাত্রীদের কেউ কেউ মুখ খোলার চেষ্টা করলে তাদের একেক জনকে একেক অপবাদ দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয় সে। এইভাবে সে বিভিন্ন বয়সী মাদ্রাসার ছাত্রীদেরকে কখনো বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আবার কখনো জোরপূর্বক ধর্ষণ করত।


সে ছাত্রীদের’কে কখনো আখিরাতের ভয় দেখিয়ে হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শুনলে গোনাহ হবে এবং জাহান্নামে যাবে এইরকম নানা ফতোয়ার মাধ্যমে, তাবিজ করে পাগল করা বা পরিবারের তি করার কথা বলে ছাত্রীদের ধর্ষণ করতো বলে স্বীকার করে। এমনকি তার ০৮ বছর বয়সী নিকটাত্মীয় যে তার মাদ্রাসায় পড়ত তাকেও একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে ভিকটিম এর মা-বাবা অভিযোগ করেন, যা ধর্ষক মোস্তাফিজ অকপটে স্বীকার করে। এছাড়াও মোস্তাফিজ নিজেই বিভিন্ন জাল হাদিস তৈরী করে হুজুরের সাথে সর্ম্পক করা জায়েজ আছে বলে ছাত্রীদের বলত।


একটি জাল হাদিসের মাধ্যমে অভিভাবক ও স্বাী ছাড়া বিয়ে হয় বলে একাধিক ছাত্রীকে কৌশলে ধর্ষণ করার পর আরেকটি জাল হাদিসের মাধ্যমে তালাক হয়ে গেছে বলে ফতোয়া দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে বের করে দিত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ০৬ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও আরও ০৫ ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করে সে।


বিভাগ : বাংলাদেশ