রায়পুরার খলিলাবাদ বিলে পলো-বাওয়া উৎসবে মাছ শিকারীরা

০২ মার্চ ২০২৩, ০৫:২৯ পিএম | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:০৯ পিএম


রায়পুরার খলিলাবাদ বিলে পলো-বাওয়া উৎসবে মাছ শিকারীরা

হারুনুর রশিদ, রায়পুরা:

নরসিংদীর রায়পুরার খলিলাবাদ বিলে প্রতি বছরের মতো এবারও ঐতিহ্যবাহী পলো-বাওয়া উৎসব করেছে মাছ শিকারীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই উৎসবে যোগ দেয় দেশের বিভিন্ন জেলার দুই হাজারেরও বেশি মাছ শিকারী। প্রতি বছরই ফাল্গুন-চৈত্র মাসের কোন একদিনে এই উৎসব করেন তারা।

সরেজমিন ঐতিহ্যবাহী খলিলাবাদ বিলে গিয়ে দেখা যায়, বসন্তের দুপুরে ঝলমলে রোদে ২ হাজারের অধিক শিকারী পানিতে নেমে কচুরিপানা সরিয়ে পলো ও মাছ রাখার থলে নিয়ে হই হুল্লোড় করে মাছ শিকার করছেন। এ উৎসবকে ঘিরে নরসিংদীসহ পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলার ২ হাজারের অধিক শিকারী অংশগ্রহণ করেছেন। পলো উৎসব উপভোগ করতে গ্রামের সকল বয়সী নারী, পুরুষ বিলের পাড়ে উল্লাস করছেন।

মাছ শিকারী ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের খলিলাবাদ বিলে শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে পলো বাওয়া উৎসব। উৎসবের সপ্তাহ খানেক আগে পলো বাওয়া উৎসবে অংশ নেওয়া কোন একজনের দায়িত্বে পার্শ্ববর্তী গ্রামেগঞ্জের প্রতি বাজারে ১০০ টাকার বিনিময়ে তেলের টিন বাজিয়ে জানিয়ে দেয়া হয় উৎসবের তারিখ। এমন খবর জানার পর লোকজন পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে পুরোনো পলোগুলো ধুয়ে মুছে উৎসবে যাওয়ার জন্য তৈরি করে রাখেন। আর যাদের পলো নষ্ট হয়ে গেছে, তারা বাজার থেকে নতুন পলো ক্রয় করে উৎসবে অংশ নেয়।

উৎসবের দিন সকালে নিজ নিজ পলো, হাতাজাল, উড়ালজাল ও লাঠিজালসহ নানা ধরণের মাছ ধরার সামগ্রী নিয়ে বিলের পাড়ে গিয়ে সমবেত হন শিকারীরা। ঘড়ির কাটায় নির্ধারিত সময় বেজে ওঠলেই সবাই মিলে এক সঙ্গে পলো নিয়ে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পলোতে ধরা পড়ে বোয়াল, শোল, মাগুর, গজারসহ বিভিন্ন জাতের ছোট-বড় নানান রকমের মাছ।

 

গাজীপুর থেকে আসা ষাটোর্ধ্ব মাছ শিকারী আহাম্মেদ আলী বলেন, ৭ বছর ধরে প্রতি বছর উৎসবে এখানে আসি মাছ শিকার করতে। মাছ পাওয়া, না পাওয়া বিষয় না। সবাই মিলে আনন্দ করছি, হৈ হুল্লোড় করছি। দুটো গজার মাছ পেয়েছি। আশাকরি আরও পাবো।

ময়মনসিংহের সোলায়মান বলেন, আমরা ৫জন এসেছি, এখনো পর্যন্ত একটা শোল মাছ পেয়েছি, আনন্দ লাগছে। বেচেঁ থাকলে আগামীতেও আসবো।

রাজবাড়ি জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার আনিস মিয়া বলেন, আমরা ২ জন এসেছি এখানে মাছ শিকার করতে। ৫-৬ বছর ধরে এখানে প্রতিনিয়তই আসছি। শখের বশে সবাই আসেন।

খলিলাবাদ গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা ছোট বেলায় দেখতাম বসন্তের এ সময়টাতে দাদারা এ বিল থেকে বড় বড় রুই, কাতল, মৃগেল, শোল, বোয়াল, পুঁটি সহ প্রায় অর্ধশত প্রজাতির মাছ ধরতেন। এ বিলটির মাছ অনেক সুস্বাদু। এখনও প্রতি বছর পার্শ্ববর্তী ৫-৬টি জেলার মানুষ এ বিলে মাছ ধরতে আসেন। কেউ মাছ পায়, আবার কেউ পায় না। তবে সকলেই আনন্দের সাথে হাসি মুখে এ উৎসবে অংশ নেয়। প্রথমবার তারা মাছ বেশি পেলে, পুণরায় আবারও বিলে মাছ ধরতে নামেন।

পলাশতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া জানান, এই বিল সবার জন্য উন্মুক্ত। প্রতি বছরই এই বিলে উৎসবমুখর পরিবেশে পলো-বাওয়া উৎসব হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবছর তা পালন করছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মৎস্য শিকারীরা।


বিভাগ : জীবনযাপন


এই বিভাগের আরও