গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে পুরোনো ঐতিহ্য

১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৩:৫৭ পিএম | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:৩৩ পিএম


গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে পুরোনো ঐতিহ্য
Vai_Girish

ব্রিটিশ যুগের কাঠ ও আসবাবপত্র, যশোরের টাইলসে পুরোনো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হয়েছে পবিত্র কোরআনের পূর্ণাঙ্গ প্রথম বাংলা অনুবাদক ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়িতে।

অবৈধ দখলে প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে বসা নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনায় অবস্থিত বাড়িটি সংরক্ষণ ও সেখানে একটি প্রতœতাত্ত্বিক জাদুঘর নির্মাণের কাজ এরই মধ্যে শেষ করেছে প্রতœতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র ঐতিহ্য অন্বেষণ।


ভারতীয় হাইকমিশনের অর্থায়নে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি পাঁচদোনার বাড়িটিতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুরু হয়েছিল বাড়িটির সংরক্ষণ কাজ।

এর আগে ২০১৫ সালে জেলা প্রশাসন ও ঐহিত্য অন্বেষনের মধ্যে বাড়িটি সংরক্ষণ ও জাদুঘর নির্মাণের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী সরকারের নিয়ন্ত্রণে ও দিক নির্দেশনায় ঐতিহ্য অন্বেষণ সংরক্ষণ কাজটি শুরু করে। আর এটি বাস্তবায়নে ভারতীয় হাইকমিশন ঐহিত্য অন্বেষণকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অনুদান দেয়।


ঐতিহ্য অন্বেষণের নির্বাহী পরিচালক ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতœতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গিরিশচন্দ্রের বাড়িটির মূল অবকাঠামো অক্ষুন্ন রাখতে প্রথমে ডকুমেন্টেশন করা হয়।

পরে সে নকশা অনুযায়ী নওগাঁ ও কুড়িগ্রামের পুরাকীর্তির কাজে অভিজ্ঞ ২০/২৫ জন শ্রমিককে কাজে লাগানো হয়। এসব উদ্যমী মানুষ পরম মমতায় শৈল্পিকভাবে ফুটিয়ে তুলছেন হারিয়ে যেতে বসা গিরিশ সেনের বাড়ীটির ঐতিহ্য।

কোনো রড-সিমেন্ট ব্যবহার করা না করে শুধু ইট, চুন, সুরকি বালি দিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে আগে যেখানে যা ছিল, সেখানে তা-ই থাকছে। দর্শনার্থীরা সেই পুরনো বাড়িটিই দেখতে পারছেন।


মূল অবকাঠামো অক্ষুন্ন রেখে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মেরামত ও সংরক্ষণের এই কাজটিতে ব্যবহার করা হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা ব্রিটিশ আমলের মূল্যবান কাঠ, আসবাবপত্র ও যশোরের টালি।

এ ছাড়া ঐতিহ্য অন্বেষণ এর নিজ উদ্যোগে উয়ারী-বটেশ্বর এলাকায় তৈরি করা একটি বিশেষ আয়তনের ইট ব্যবহার করা হয়েছে।


বাড়িটিতে গিরিশ চন্দ্রের জীবন ও গবেষণা নিয়ে জাদুঘর নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও লেখা বই স্থান পেয়েছে। বাড়ির সম্মুখভাগে গিরিশচন্দ্রের সংক্ষিপ্ত জীবনীসহ আবক্ষ মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। এতে দর্শনার্থীরা তাঁর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানতে পারবেন।


যেহেতু আমরা মূল অবকাঠামো ঠিক রেখে পুরো সংরক্ষণ কাজটি বৈজ্ঞানিক উপায়ে করেছি তাই একটু বেশি সময় লেগেছে।


উল্লেখ্য, ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন ১৮৩৪ সালের এপ্রিল/মে মাসে নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। ১৯১০ সালের ১৫ আগষ্ট তিনি ঢাকায় মারা যান। ব্যক্তিজীবনে গিরিশ চন্দ্র সেন একাধারে সাহিত্যিক, গবেষক ও ভাষাবিদ ছিলেন।

এছাড়া ব্রাহ্মধর্ম প্রচারক হিসেবে তিনি ‘ভাই’ খেতাবে ভূষিত হন। আরবি, ফার্সি ভাষায় ব্যুৎপত্তি অর্জন এবং কোরআন হাদিসের প্রথম অনুবাদক হিসেবে লাভ করেন ‘মৌলভী’ খেতাব।

মৃত্যুকালে পরিবারের কোন উত্তরাধিকারী না থাকায় সংস্কারের অভাবে এবং অবৈধ দখলে গিরিশ চন্দ্রের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি নিশ্চিহ্ন হতে চলেছিল। ২০০৮ সালে তৎকালীন ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বাড়িটি দেখে দুঃখ প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে গিরিশের বাড়িটির মূল অবকাঠামো অক্ষুন্ন রেখে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মেরামত ও সংরক্ষণ করার জন্য ভারতীয় হাই কমিশন অনুদান দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে।