মনোহরদীতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবক হত্যার অভিযোগ

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:১৫ পিএম | আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১:৪৩ এএম


মনোহরদীতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবক হত্যার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নরসিংদীর মনোহরদীতে মো. আরিফ মিয়া (২২) নামের এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে। সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিহতের নানা মো. সুলতান উদ্দিন বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলাটি করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামী করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় মো. আরিফ মিয়াকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান রুবেল নামের তারই এক বন্ধু। পরে ওই রাতেই নির্মানাধীন স্থানীয় একটি বিদ্যালয় থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় রুবেল ও শরীফ নামের দুই যুবককে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নিহত মো. আরিফ মিয়া সৌদি আরব প্রবাসী মো. ওসমান মিয়ার ছেলে। তিনি মনোহরদীর গোতাশিয়ায় নানার বাড়িতে থেকে স্থানীয় মুন্সীর বাজারে সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবসা করতেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আরিফ মিয়ার মা-বাবা দুজনেই সৌদি আরব প্রবাসী এবং তাদের মধ্যে ২১ বছর আগে ডিভোর্স হয়। তাদের একমাত্র সন্তান আরিফ নানা বাড়িতে থেকে ব্যবসা করতেন। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আরিফকে বাড়িতে এসে ডেকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যায় রুবেল নামের তারই এক বন্ধু। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে খাওয়ার সময় হলে জানা যায় আরিফ বাসায় ফেরেনি। আরিফের মুঠোফোনে কল করলে তা ওই সময় বন্ধ পাওয়া যায়। পরে রাত ৯টার দিকে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনের সামনে এক যুবকের লাশ পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে গিয়ে আরিফ মিয়ার লাশ শনাক্ত করেন। পরে রাত ১১ টার দিকে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

গোতাশিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কাজল মিয়া জানান, ওই ভবনটির চারতলায় কয়েকজন যুবক মিলে নেশা করার পর আরিফকে হত্যা করে লাশ নিচতলায় ফেলে চলে যায়। রাতে নিচতলায় লাশ পড়ে থাকতে দেখে ওই ভবনে রাজমিস্ত্রির কাজ করা কয়েকজন বিষয়টি ঠিকাদারকে জানান। ওই ঠিকাদার আমাকে জানালে আমি নিহতের পরিবারের সদস্য ও পুলিশকে জানাই।

মামলার বাদী ও নিহতের নানা মো. সুলতান উদ্দিন জানান, আরিফকে আমাদের বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়ার পর তাকে নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল। মৃত্যুর পর তার ডান হাতের কনুই ও কপালে আঘাতের চিহ্ন এবং মুখ দিয়ে লালা ঝরার দৃশ্য দেখতে পেয়েছি আমরা। আমি আমার নাতি হত্যার বিচার চাই।

মনোহরদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আরিফুর রহমান জানান, ধারণা করা হচ্ছে, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত পৌনে ৯টার মধ্যে কোন এক সময় তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। আজ সকালে আরিফের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবে।