আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে নেই মোস্তাফিজ

০১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১১:৫৬ এএম | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৮:১৮ পিএম


আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে নেই মোস্তাফিজ

স্পোর্টস ডেস্ক:

মাশরাফি বিন মুর্তজা, শাহাদাত হোসেন রাজীব, তাপস বৈষ্য, রুবেল হোসেন, মঞ্জুরুল ইসলাম এই শীর্ষ ৫ বোলারের মধ্যে চারজনই এখন খেলেন না টেস্ট দলে। এখনো তাদের ছুঁতে পারেননি নতুন প্রজন্মের কোনো পেসার। তবে আশা জাগিয়েছিলেন একজন! তিনি তরুণ পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ২০১৫ তে অভিষেকের পর থেকে খেলেছেন ১৩ ম্যাচ, নিয়েছেন ২৮ উইকেট। তবে গেল ৪ বছরে ইনজুরিসহ না কারণেই তিনি নিয়মিত হতে পারেননি। যে কারণে তাকে নিয়ে আশার আলোটা নিভু নিভু হয়ে এসেছে।

এই পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে ক্রিকেটের অভিজাত ফরমেটে টাইগারদের দৈন্যদসার চিত্র। তারপরও ‘ফিজ’ দেশের সেরা পেসার। তবে তাকেই রাখা হয়নি আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ও একমাত্র টেস্ট ম্যাচে। কেন তাকে বাদ দেয়া! নয়া বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট জানিয়ে দিলেন সেরা পেসারের ভবিষ্যৎ ভেবেই এ সিদ্ধান্ত। তিনি বলেন, ‘মোস্তাাফিজ এই মুহূর্তে ছোট একটি চোট বয়ে বেড়াচ্ছে। মূলত সতর্কতার অংশ হিসেবেই ওকে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে। সাদা বলে সামনে আমাদের অনেক খেলা। তাছাড়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপও আছে। যেহেতু টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে মোস্তাফিজ সেরা বোলার সেহেতু ওর জন্য আমাদের এই পদক্ষেপ।’


টেস্টের তুলনাতে মোস্তাফিজ বেশ উজ্জ্বল ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে। টাইগারদের সামনে এখন লাল বলের চেয়ে সাদা বলের চ্যালেঞ্জটা বেশি। বিশেষ করে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ছাড়াও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা করে নিতে হলে ৮ এর মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ে থাকতে হবে। সেখানে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ দেশের বাইরে সিরিজ গুলোতে। তাই পেস বোলারদের দায়িত্বটাই হবে বেশি। মূলত সেই চিন্তা থেকে নয়া পেস বোলিং কোচ মোস্তাফিজকে নিয়ে কোন রকম ঝুঁকি নিতে রাজি নয়। যে কারণে জানিয়ে দিলেন সাদা বলের চ্যালেঞ্জটা নিতেই মোস্তাফিজকে তারা রক্ষা করতে চান। তিনি যে শুধু সাদা বলেই সেরা তাও মানতে নারাজ বোলিং কোচ। তিনি বলেন, ‘এদেশের কন্ডিশনে লাল ও সাদা, দুই বলে সেই সেরা মোস্তাফিজ। সে ভীষণ ধারাবাহিক। প্রস্তুতি ম্যাচে বল হাতে নেমে প্রথম ওভারেই সে উইকেট পেয়েছে।’ তার মানে কোচ জানিয়ে দিলেন শুধু ওয়ানডেতেই নয় টেস্টেও বর্তমান সময়ের সেরা মোস্তাফিজ। তবে তার ফিট থাকা এখন টেস্টের চেয়ে ওয়ানডেতেই বেশি প্রয়োজন।’


গত দুই দিন ধরে লাল ও সবুজ দলে ভাগ হয়ে টাইগারা খেলেছে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ। আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এটাই টেস্ট প্রস্তুতি বলা চলে। সেখানে পেসাররা দারুণ করেছেন। এ ম্যাচে ২০ উইকেটের ১৬টিই তাদের দখলে। বিশেষ করে একাদশে থাকা তাসকিন আহমেদ পেয়েছেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট। আর ৩টি করে উইকেট পেয়েছেন আবু জায়েদ ও ইবাদত হোসেন। তবে তাই বলে যে তিন পেসারেরই একাদশ সাজানো হবে তা নয়। কোচ বোলিং আক্রমণের সিদ্ধান্তটা ছেড়ে দিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের উপরই। তিনি বলেন, ‘তিনজনই আমাকে মুগ্ধ করেছে। তাদের স্কিল ও ধারাবাহিকতা ভালো ছিল। তবে লেন্থে আরো সময় লাগবে যাতে দিনে তিনটা স্পেল করতে পারে। এছাড়াও আমি একজন ফাস্ট বোলার। দলে আমি বেশি পেসার দেখতে চাইব। তবে কন্ডিশনও বুঝতে হবে। কন্ডিশন অনুযায়ী আপনাকে খেলতে হবে। যদি অধিনায়ক মনে করে তার আরও একটু সময় দরকার, আমি বলতে পারি না তিন পেসার নেয়া হোক একাদশে। এটা পুরোপুরি নির্ভর করছে সাকিবের ওপর।’


বাংলাদেশ দলের পেস বিভাগের বেহাল অবস্থা কাটাতে কাজ শুরু করেছেন নতুন কোচ। তিনি এদেশে এসেই বলেন আগে তিনি দারুণ সম্পর্ক গড়েতে চান ক্রিকেটারদের সঙ্গে যেন সামনে তার কাজ করতে কোন সমস্যা না হয়। সেই কাজটি যে তিনি শুরু করে দিয়েছেন। এ ক’দিনে পেসারদের সঙ্গে তাঁর বেশ সখ্যতা তৈরি হয়েছে। আর বোলারও যে তার সঙ্গে কেমন কাটাচ্ছে তা নিয়ে বলেন, ‘ইবাদত আমাকে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করে। ফিজের শুরুটা ভালো। হয়তো ভিন্নধর্মী প্রশ্ন করবে আমাকে। আর তাসকিন তো প্রশ্ন করতেই থাকে। প্রায় সবাই আমাকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞেস করে।’


বিভাগ : খেলা