দ্রুত বাড়ছে নদ-নদীর পানি: মধ্যাঞ্চলেও হতে পারে বন্যা

১৪ জুলাই ২০১৯, ০১:১২ পিএম | আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৯, ০২:৪২ এএম


দ্রুত বাড়ছে নদ-নদীর পানি: মধ্যাঞ্চলেও হতে পারে বন্যা

টাইমস ডেস্ক:

উজানে ভারি বর্ষণের ফলে দেশের প্রায় সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে চলছে। বর্তমানে ২৩টি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত দশ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হওয়াসহ মধ্যাঞ্চলেও বন্যা হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

শনিবার (১৩ জুলাই) এসব তথ্য জানিয়ে বলা হয়, পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানিও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। এতে দেশের মধ্যাঞ্চলেও বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, দেশের সব প্রধান নদ-নদীর পানি সমতলে বাড়ছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভারত আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য দিয়ে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং সংলগ্ন ভারতের সিকিম, পশ্চিমবঙ্গের উওরাঞ্চল, আসাম ও মেঘালয় প্রদেশের বিস্তৃত এলাকায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় মাঝারি থেকে ভারি এবং কোথাও-কোথাও অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল সংলগ্ন ভারতের বিহার এবং নেপালে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এতে আগামী ৭২ ঘণ্টায় সব প্রধান নদ-নদীর পানি সমতলে বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদী সারিয়াকান্দি এবং কাজিপুর পয়েন্ট বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম, সিলেট ও রংপুর বিভাগের সুরমা, কুশিয়ারা, কংস, সোমেশ্বরী, ফেনী, হালদা, মাতামুহুরী, সাঙ্গু, ধরলাসহ প্রধান নদীগুলোর পানি সমতলে দ্রুত বাড়বে।
এ ছাড়াও আগামী ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, জামালপুর, গাইবান্ধা জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুজ্জামান ভূঁইয়া জানান জানান, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণাধীন ৯৩টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় পানি বেড়েছে ৭৯টিতে এবং কমেছে ১১টি পয়েন্টে। বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ২৩টি পয়েন্টে। এরই মধ্যে তিস্তার পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ওই অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
পাহাড়ি ঢল এবং কয়েকদিন ধরে চলা বর্ষণে বেড়েই চলছে যমুনা ও বাঙালি নদীর পানি। যমুনার পানির তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যেই বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার একটি ইউনিয়নের প্রায় দেড়শ পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি ঢুকেছে। তলিয়ে গেছে চর ও নদী তীরবর্তী জমিতে লাগানো কৃষকের আউশ, পাট, রোপা আমন, বীজতলাসহ শাকসবজির ক্ষেত।
হবিগঞ্জে খোয়াই নদী এবং কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর পানি বাড়ায় উৎকণ্ঠায় আছে সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
ফেনীর পরশুরাম-ফুলগাজী উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। আগস্ট মাসের শুরুতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২য় সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণে জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি আগের থেকে ৪৬ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

অন্যদিকে, তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে লালমনিরহাটের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বন্যার পানিতে শ্রেণিকক্ষ ডুবে যাওয়ায় ৩৪টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
এ ছাড়া, বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে উপজেলার চর এলাকার কামারপুর, রহদহ, ঘুঘুদহ, চন্দনবাইশা, ধলিরকান্দি ও কুতুবপুরের নিচু এলাকা ডুবে গেছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে আউশ ধান, আমন বীজতলা ও শাকসবজির খেত। গাইবান্ধার নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার চারটি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এসব ইউনিয়নের প্রায় ২৫ হাজার মানুষ।


বিভাগ : বাংলাদেশ