করোনাকালেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে নতুন রেকর্ড

২৪ জুন ২০২০, ০৯:৩৮ পিএম | আপডেট: ১১ জুলাই ২০২০, ০৩:৪২ পিএম


করোনাকালেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে নতুন রেকর্ড

অর্থনীতি ডেস্ক:

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বিদেশি মুদ্রার এই সঞ্চয়ন প্রথমবারের মত ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, করোনাভাইরাস সঙ্কটে রপ্তানি আয় কমলেও মূলত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের সঙ্গে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক ঋণ সহায়তার অর্থ যোগ হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে নতুন এই রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে।

তারা বলেন, বুধবার দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের রিজার্ভ ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়। প্রতি মাসের আমদানি ব্যয় বাবদ ৪ বিলিয়ন ডলার খরচ ধরলে এই রিজার্ভ দিয়ে প্রায় নয় মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রার মজুদ থাকতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, মহামারীর মধ্যেও প্রবাসীরা দেশে পরিবারের জন্য টাকা পাঠানো অব্যাহত রেখেছেন। তার সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় আইএমএফের ৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলারের জরুরি সহায়তার অর্থ যোগ হওয়ায় গত ৩ জুন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে সেই রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার, এটা তখনকার রেকর্ড। এরপর গত আড়াই বছরে রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছিল। চলতি জুন মাসের ২২ দিনে ১৩৬ কোটি ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। তাতে বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরের এ পর্যন্ত (২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ২২ জুন) প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। এই অংক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের পুরো সময়ে (জুলাই-জুন) এক হাজার ৬৪২ কোটি (১৬.৪২ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।


বিভাগ : অর্থনীতি