রাজস্ব ফাঁকি দিতে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির হিড়িক

১২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:৪৮ পিএম | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২০, ১০:০৫ এএম


রাজস্ব ফাঁকি দিতে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানির হিড়িক

টাইমস অর্থনীতি ডেস্ক:

পোশাকশিল্পের কাঁচামালের নামে মিথ্য ঘোষণায় পণ্য আমদানির হিড়িক পড়েছে। গেল ৬ মাসে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ শুধু চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই এ রকম ১শত চালান আটক করেছে। পরে জড়িত পোশাক মালিকরা প্রযোজ্য শুল্ককর দিয়ে এসব পণ্য খালাস করে নিয়েছেন।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, ধরা না পড়লে এসব পণ্যের চালান থেকে সরকার অন্তত ৬০ কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হতো। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, এনবিআরে পাঠানো চট্টগ্রাম কাস্টমসের তৈরি একটি প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সম্প্রতি পোশাক খাতের পণ্য আমদানি ও রপ্তানিকে আরো কিভাবে গতিশীল করা যায় এই নিয়ে তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বিজিএমইএর প্রথম সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বৈঠকে মিথ্য ঘোষণায় পণ্য আমদানির বিষয়টি আলোচনা হয়নি বলে অস্বীকার করেছেন বিজিএমইএ প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ আবদুস সালাম। তিনি জানান, পোশাক খাতের পণ্য খালাসে বিলম্ব হওয়ায় অনেক সময় আমাদের পণ্য জাহাজীকরণের সময় (লিড টাইম) পার হয়ে যেত। কোনো কোনো সময় ২৮ দিনের বেশি পর্যন্ত সময় লাগত, এর ফলে উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। এ ছাড়া এইএইচ কোড নিয়ে ভুল-বোঝাবুঝি, কাটিং তদারকি, ল্যাব টেস্টসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা হয়। তিনি বলেন, যদি এমন কোনো অভিযোগ থাকে তাহলে আমাদের তালিকা দেওয়া হোক। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বৈঠকে বিজিএমইএ জানায়, পোশাকশিল্পের নামে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি ও তা খোলাবাজারে বিক্রয় বন্ধে কাস্টমসকে সহায়তা করবেন তাঁরা। সভায় বিজিএমইএ নেতারা আশ্বস্ত করে বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে রাজস্ব ফাঁকির সঙ্গে জড়িত বিজিএমইএ তাঁদের সদস্যপদ বাতিলসহ আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। পোশাক খাতে বন্ডারের বন্ড সমস্যা সমাধানে আরো সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে বিজিএমইএ নেতারা আরো বলেন, বাংলাদেশ কাস্টমস ট্যারিফ অনুসারে অনেক বন্ডারের বন্ড লাইসেন্স সমস্যার সমাধান করতে হবে। এই কাজটি সংশ্লিষ্ট বন্ড কমিশনারেটকে করতে হবে।

কাস্টমস কর্মকর্তরা বলেন, বন্ড জটিলতা বড় ধরনের হলে অনেক সময় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ছাড়া পণ্য ছাড় করা যায় না। সে জন্য কিছুটা সময় লাগে।

সভায়, বিল অব অ্যান্ট্রি, ইউডি ও আমদানি দলিলাদিতে উল্লেখ করা এইচএস কোড বন্ড লাইসেন্সের বিষয়টি উল্লেখ না থাকলে, সে ক্ষেত্রে বিজিএমইএর সুপারিশে সাময়িকভাবে পণ্য খালাস করা হতে পারে। তবে খালাসের ১ মাসের মধ্যে এইচএস কোডে বন্ড লাইসেন্স অন্তর্ভুক্ত করে কাস্টমস হাউসে দাখিল করতে হবে।


বিভাগ : অর্থনীতি