এখনও স্বাভাবিক হয়নি পেঁয়াজের দাম

০৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:১০ এএম | আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:১২ এএম


এখনও স্বাভাবিক হয়নি পেঁয়াজের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দুই একদিনের মধ্যে বাজারে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে বুধবার (২ অক্টোবর)সরকারের পক্ষ থেকে এমন ঘোষণার পরও কমছে না পেঁয়াজের দাম।

নতুন করে দাম না বাড়লেও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় খুচরা বাজারে পেঁয়াজের কেজি এখনও ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।

দুই-একদিনের মধ্যে পেঁয়াজের কেজি ৬০-৭০ টাকায় চলে আসবে বলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, বাজারে তার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। আস্বাভাবিক ভাবে বাড়তি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করা হলেও বাজারেও নেই তদারকি।

শুক্রবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ১০০ টাকার ওপরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে। তবে ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০ টাকায় নেমে এসেছে।

সরকারি বিপণন সংস্থা—ট্রেডিং করপোরেশন বাংলাদেশ (টিসিবি)ও বলছে, ভারতীয় পেঁয়াজ ৯০ টাকা আর দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

টিসিবির তথ্যমতে, গত এক বছরে পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে ১২০ শতাংশ। আর কেবল গত একমাসেই পেঁয়াজের মূল্য বেড়েছে ৭৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

উল্লেখ্য, প্রতিবেশী দেশ ভারত হঠাৎ গত ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ায় বাংলাদেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম হু-হু করে বেড়ে যায়। গত কয়েকদিন ধরে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১১০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে, শুক্রবার (৪ অক্টোবর) কিছুটা কমলেও ১০০ টাকারও ওপরে ছিল।

কারওয়ান বাজার এলাকায় বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকুরিজীবী হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, “সীমিত আয়ের মানুষদের জন্য ১০০ টাকার বেশি দরে পেঁয়াজ কেনা খুবই কষ্টের ব্যাপার। বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে কিছুটা সাহস পেয়েছিলাম। কিন্তু বাজারে এসে হতাশ হওয়া ছাড়া আর কোনও পথ নেই।”

তবে, পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিয়ানমার, মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আসতে শুরু করায় বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ছে। এতে মূল্য কিছুটা কমেছে। সামনে পুরোদমে পেঁয়াজ বাজারে এলে আগামী সপ্তাহে  মূল্য আরও কমবে।

২৯ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রফতানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পরই দাম ১০০ টাকার ওপরে উঠে যায়। নিত্য প্রয়োজনীয় এই পণ্যটির মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারও নানামুখী উদ্যোগ নেয়। বাজার ঠিক রাখতে ৪৫ টাকা কেজি দরে রাজধানীর ৩৫ স্থানে টিসিবি পেঁয়াজ বিক্রি করে।

এমন পরিস্থিতে গত বুধবার (২ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের বলেন, “মিয়ানমার থেকে ৪৮৩ টন পেঁয়াজ এসেছে। আরও ৪০০-৫০০ টন আসবে। ফলে শুক্রবারের মধ্যে পেঁয়াজের মূল্য ৬০-৭০ টাকায় চলে আসবে।” কিন্তু বাজারগুলোতে দেখা গেছে, পেঁয়াজের মূল্য এখনও ১০০ টাকার ওপরেই রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, “বাজারে পেঁয়াজের মূল্য কমানোর জন্য আমরা যে উদ্যোগ নিয়েছি, তার ফল পেয়েছি। ইতোমধ্যেই পাইকারি বাজারে কেজিতে পেঁয়াজের মূল্য ২০-২৫ টাকা কমেছে।” শিগগিরই এই ইতিবাচক প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়বে।


বিভাগ : অর্থনীতি


Regent