লকডাউন নিয়ে দুই মেরুতে দুই টেক টাইকুন!

৩০ এপ্রিল ২০২০, ১১:৫২ পিএম | আপডেট: ৩০ মে ২০২০, ০১:৩৬ পিএম


লকডাউন নিয়ে দুই মেরুতে দুই টেক টাইকুন!
ফাইল ছবি

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:

অনেকেরই ধারণা শুধু আমাদের দেশেই বোধহয় লকডাউন মানুষ মানতে চাচ্ছেনা। বিষয়টা আসলে তেমন না। পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই লকডাউন নিয়ে অসহিষ্ণুতা আছে।

অসহিষ্ণুতা শুধু যে সাধারণ মানুষের ভেতর কাজ করে ব্যাপারটা ঠিক তেমন না, অনেক সচেতন এবং বিখ্যাত ব্যক্তিরাও এর ব্যতিক্রম নন। তাদেরই একজন ইলন মাস্ক। ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা এবং রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক মনে করেন, লকডাউনে সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়েছে। এই টেক টাইকুন লকডাউন নিয়ে বেশ গলা চড়িয়েছেন।

গত ১৯ মার্চ, এক টুইটে তিনি সেদিনের একটি রিপোর্ট উল্লেখ করে লিখেছিলেন, ‘চীনে এখন করোনাভাইরাস কেস জিরো। আশা করা যায় এমন ধারা অব্যাহত থাকলে আমেরিকাতেও এপ্রিলের শেষ নাগাদ করোনাভাইরাস জিরো হয়ে যাবে। যদিও তার ভবিষ্যদ্বাণী ফলেনি। আমেরিকায় বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ আক্রান্ত এবং ৬০ হাজারের বেশি লোক প্রাণ হারিয়েছেন। গতকাল তিনি টুইট করেন, ব্রাভো টেক্সাস! সাথে লকডাউনের একটা রিপোর্ট যুক্ত করে ক্যাপিটাল ওয়ার্ডে লিখেন, ‘আমেরিকাকে মুক্ত করো (ফ্রি আমেরিকা)’।

লকডাউনের কারণে যদিও ইলন মাস্কের গাড়ির কারখানা বন্ধ রয়েছে তবুও প্রথম কোয়ার্টারে তার প্রতিষ্ঠান লাভেই আছে। এমনকি গত বছর ৪ লাখের কম গাড়ি বিক্রি করেও ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানের মার্কেট ভ্যালু দাঁড়িয়েছে ১৫০ বিলিয়ন ডলার অথচ গত বছর ৭.৭ মিলিয়ন গাড়ি বিক্রি করেও আমেরিকার বিখ্যাত জিএম কোম্পানির ভ্যালু ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠানের চার ভাগের এক ভাগ! তারপরও ইলন মাস্ক এই লকডাউনকে ‘অত্যাচার’ বলে অভিহিত করেছেন।

অন্যদিকে ফেসবুকের প্রফিট কমে গেলেও এর কর্ণধার মার্ক জাকারবার্গ কিন্তু লকডাউনকে স্বাগতই জানিয়েছে। তিনি সাময়িক সমস্যা হলেও, তাড়াহুড়ো করে লকডাউন তুলে নেয়ার পক্ষপাতী নন। তিনি ইলন মাস্কের সম্পূর্ণ বিপরীত ধারণা পোষণ করেন। তিনি মনে করেন, এখন তাড়াহুড়ো করে লকডাউন তুলে নিলে মহামারি নতুন করে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতি দুটোর জন্য ভয়াবহ হবে।
যদিও ফেসবুকের স্টাফরা বাসায় বসেই কাজ করতে পারছেন, কিন্তু তারপরও ফেসবুক কিন্তু লাভের মুখ দেখছে না। অন্যদিকে ইলন মাস্কের স্টাফরা নিশ্চিতভাবে বাসায় বসে গাড়ি বানাতে পারছেন না ঠিকই কিন্তু তার প্রতিষ্ঠান লাভেই আছে। দুই টেক টাইকুনের এই বিপরীতমুখী চিন্তাভাবনা সবার মাঝে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।