ফেসবুকের স্থানীয় এজেন্টের বিরুদ্ধে ৯৩ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকির মামলা

১৩ আগস্ট ২০২০, ১০:৩৫ পিএম | আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৩২ এএম


ফেসবুকের স্থানীয় এজেন্টের বিরুদ্ধে ৯৩ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকির মামলা
ফাইল ছবি

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক:

৯৩ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেওয়ায় ফেসবুকের স্থানীয় এজেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভ্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ মামলা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি আরো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখছে ভ্যাট গোয়েন্দা সংস্থা।

ভ্যাট নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান গণমাধ্যমকে বলেন, ভ্যাট গোয়েন্দারা তদন্তে গিয়ে দেখতে পান, ফেসবুকের এজেন্ট এইচটিটিপুল আমাদের যে ঠিকানা জানিয়েছে, সেখানে বাস্তবে কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। সেখানে প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রমও নেই। অথচ প্রতিষ্ঠানটি জনগণের কাছ থেকে ভ্যাট খাতে অর্থ আদায় করেছে। কিন্তু একটি টাকাও সরকারের কোষাগারে জমা দেয়নি। এভাবে অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারকে ঠকিয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে দাবি করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি অফিস পরিবর্তন করেছে। কিন্তু ভ্যাট আইন অনুসারে অফিস পরিবর্তন করতে হলে ভ্যাট অফিসকে জানাতে হবে। তাদের এই পরিবর্তনের কোনো নোটিশ আমাদের দেওয়া হয়নি।

ভ্যাট গোয়েন্দাদের তদন্তে দেখা যায়, ফেসবুকের এ এজেন্ট তিন মাস আগে নিবন্ধন নিলেও এখন পর্যন্ত কোনো রিটার্ন দাখিল করেননি। ভ্যাট আইন অনুসারে প্রতি মাসে রিটার্ন দাখিল করা বাধ্যতামূলক। অথচ এইচটিটিপুল এক মাসেও রিটার্ন দাখিল করেনি।

তদন্তে জানানো হয়, চলতি বছরের মে মাসে ফেসবুকের এজেন্ট এইচটিটিপুল বাংলাদেশ লি. ভ্যাটে নিবন্ধন গ্রহণ করে। যার বিন: ০০২৮৪৮৮৩৬৭০২০৩। প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়, শাহ আলী টাওয়ার, ১১ তলা, ৩৩ কারওয়ান বাজার, ঢাকা। স্থানীয় ফেসবুক এজেন্ট এরই মধ্যে ৩১টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১৯৮টি চালানে ৬.২২ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করে। এতে তারা ১৫% হারে ৯৩.৩২ লাখ টাকা ভ্যাট আদায় করেও তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়নি।

ফেসবুক এজেন্টের ঠিকানা সঠিকভাবে ব্যবহার না করায় এবং মাসিক রিটার্ন জমা না করায় তাদের হাতে থাকা সরকারের ৯৩.৩২ লাখ টাকা এখনো পরিশোধ করেনি। রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ায়, মাসিক রিটার্ন দাখিল না করায় এবং অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় ভ্যাট গোয়েন্দারা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য ঢাকা দক্ষিণ ভ্যাট কমিশনারেটে প্রেরণ করা হয়েছে।